kalerkantho


কে সঠিক: শিক্ষক হাবিব না উপজেলা চেয়ারম্যান পাটোয়ারী!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৭:৪৯



কে সঠিক: শিক্ষক হাবিব না উপজেলা চেয়ারম্যান পাটোয়ারী!

ছবি: সংগৃহীত, প্রথম ছবি গতকাল মঙ্গলবারের অন্য দুইটি পূর্বের

কর্তৃপক্ষের অনুরোধেই মানবসেতু পার হয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী। এমনটাই জানালেন তিনি। দুই সারিতে দাঁড়িয়ে হাতের ওপর একজন শিক্ষার্থীর শরীর বিছিয়ে দেয়া হয়েছে। তার উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী। এই ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। এই বিষয়ে প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার নীলকমল উছমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। এদিন ছিলো বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। অনুষ্ঠানে উপজেলা চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। চাঁদপুর শহরের পুরাণ বাজার ডিগ্রি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হাবিবুর রহমান পাটওয়ারী ছবিটি মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় আপলোড করেন। ছবির সঙ্গে তিনি লিখেছেন, 'ইনি একজন জনপ্রতিনিধি। দেখুন তার কাণ্ড। সমাজ কি এতোটা বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। কেউ কি নেই এদের থেকে সমাজটাকে নিস্তার দিতে। শিশু শ্রম যেখানে নিষিদ্ধ, সেখানে একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে তিনি অপ্রাপ্ত বয়সী শিশুদের পিঠে চড়িয়া হেটে চলছেন। দেখাচ্ছেন সার্কাস। কি হবে এইসব জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা কি এই রকমের? একজন আওয়ামী লীগার হয়ে কি দেখালেন! পুনশ্চঃ আওয়ামী বিরোধীরা খুশিতে আটখান হইয়েন না। '

তবে এরকম ঘটনা এই প্রথম নয়। স্কুলের ঐতিহ্য বানিয়ে এর আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এই বিদ্যালয়টি উপজেলার প্যারেড বা শারিরীক কসরত প্রদর্শনের বিষয়ে ব্যাপক সুনাম অর্জন রয়েছে।   প্রতিবছরই এরকম মানবসেতু তৈরি করা হয়ে থাকে। স্কুলের শিক্ষার্থীরাও বিষয়টি স্বীকার করে থাকেন।  

এই ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে পূর্বের ছবিগুলোও প্রকাশ হতে থাকে। সে অনুযায়ী বিশ্লেষণ করে দেখা যায় শারীরিক কসরতের অংশ হিসেবে এই ধরনের ইভেন্ট বিদ্যালয়ে চালু রয়েছে। এছাড়াও স্কাউটের শারীরিক কসরতের অংশও এটা। এমনটাই সোশ্যাল মিডিয়ার একশ্রেণির বক্তব্য।  

স্কাউটসে এমন কোনো এক্সারসাইজ রয়েছে কি না জানতে চাইলে বাংলাদেশ স্কাউটস জাতীয় সদর দপ্তরে কর্মরত নির্বাহী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আরশাদুল মুকাদ্দিস কালের কণ্ঠকে বলেন, আসলে কী ঘটনা ঘটেছে আমি ঠিক এখন পর্যন্ত জানি না। তবে স্কাউটসে অনেক ধরনের এক্সারসাইজ রয়েছে যেগুলো দুর্যোগপূর্ণ সময়ে প্রয়োজন পড়ে। সার্কাসে যেমন অনেক ধরনের আশ্চর্যজনক বিষয় ঘটে সেরকম বিষয় স্কাউটসেও রয়েছে। তিনি বলেন, যদিও সংবাদটি আমি দেখিনি, তবে স্কাউটসের জন্য অনুপ্রেরণা কিংবা শরীরচর্চার জন্য অনুপ্রেরণামূলক ঘটনা ঘটে থাকলে সেটা ভিন্ন কথা। স্কাউটসের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে সকলের ইতিবাচকভাবে দেখা উচিত।

নূর হোসেন পাটওয়ারী বলেন, আমাকে তারা সেতু ইভেন্টে সদস্য হতে আমন্ত্রণ জানালে প্রথমে সাড়া দেইনি। কিন্তু অনেক জোরাজুরি করায় ওই সেতু পার হতে আমি বাধ্য হই। যদিও পরে তাদেরকে আমি পাঁচ হাজার টাকা পুরিস্কার দিই। তাদেরকে কষ্ট দেয়া বা বিলাসিতা করা আমার কোনো উদ্দেশ্য ছিলো না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন জানান, আসলে তিনি পড়ে যাবেন বলে মানবসেতুতে উঠতে চাচ্ছিলেন না। আমরা অনেক অনুরোধ করার পর তিনি উঠেছেন। বিষয়টি আমরা শুধু মাত্র শারীরিক কসরত হিসেবে বিবেচনা করেছি। কিন্তু অন্যভাবে কখনো ভাবিনি। স্কুলটিতে প্রতিবছরই এমন মানবসেতু তৈরি করা হয় এবং ওই সেতু পার হন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির আসন গ্রহণকারী ব্যক্তিরা। এবং পূর্বে অনেক নামী ব্যক্তিরাও এই মানবসেতু পার হয়েছেন।


মন্তব্য