kalerkantho


'রাসায়নিক পদার্থের জন্য একটি কেমিক্যাল শিল্পনগরী গড়ে তোলা হচ্ছে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ জানুয়ারি, ২০১৭ ১৮:১৩



'রাসায়নিক পদার্থের জন্য একটি কেমিক্যাল শিল্পনগরী গড়ে তোলা হচ্ছে'

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, শিল্প উৎপাদনে ব্যবহৃত কেমিক্যাল বা রাসায়নিক পদার্থের জন্য একটি কেমিক্যাল শিল্পনগরি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে এ শিল্পনগরির জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। রাজধানীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কেমিক্যাল কারখানাগুলো এতে স্থানান্তর করা হবে। এছাড়া, ধোলাইখালের হালকা প্রকৌশল, প্রিন্টিং, প্লাাস্টিক এবং অটোমোবাইল শিল্পখাতের জন্যও পৃথক শিল্পনগরি গড়ে তোলা হচ্ছে।
ঢাকা জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘উন্নয়ন মেলা-২০১৭’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এ তথ্য জানান। রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এ মেলার আয়োজন করা হয়।
ঢাকা জেলা প্রশাসক মোঃ সালাহ্ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনসহ ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বক্তব্য রাখেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে অভ্যন্তরীণ অপরাজনীতি মোকাবেলা করে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছে। এর স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে ২৭টি আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। বর্তমানে জনগণের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৭০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছড়িয়ে গেছে ।
আমু বলেন, পরিকল্পিত শিল্পায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের পথে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে জাতীয় আয়ে শিল্পখাতের অবদান ৩০.৪২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
তিনি বলেন, জ্ঞানভিত্তিক শিল্পায়নের অভিযাত্রা গতিশীল করতে বর্তমান সরকার জাতীয় শিল্পনীতি-২০১০ ও জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬ প্রণয়ন করেছে। এর পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে শিল্প প্লট বরাদ্দ নীতিমালা-২০১০, রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার প্রদান নির্দেশনাবলী-২০১৩, ভৌগোলিক নির্দেশক আইন-২০১৩, শিপ ব্রেকিং ও শিপ রিসাইক্লিং রুলস্-২০১১ এবং জাতীয় লবণনীতি-২০১১ প্রণয়ন করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো লাভজনক করতে সুগার বিট থেকে চিনি, চিনিকলের উপজাত থেকে বায়োগ্যাস ও জৈবসার উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে ।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ ও নীতি সহায়তার কারণে জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব হয়েছে। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে হরতাল ও অবরোধের নামে বিএনপি-জামাতের জ্বালাও-পোড়াও সত্বেও চাষী পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশ এখন খাদ্য রপ্তানি করছে। তিনি সরকারের উন্নয়ন রোডম্যাপ বাস্তবায়নে সকলের সহায়তা কামনা করেন।
তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এ মেলায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, আনসার, আধা-সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাসহ মোট প্রতিষ্ঠানের ৮০টি স্টল স্থান পেয়েছে।
এসব স্টলে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কার্যক্রম, বর্তমান সরকারের আমলে জনকল্যাণে বাস্তবায়িত কর্মসূচি, উন্নয়ন চিত্র এবং সরকারের বিভিন্ন ধরণের সেবা তুলে ধরেছেন।


মন্তব্য