kalerkantho


রাজধানীতে জাতীয় সংলাপে বিশেষজ্ঞরা

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবে অনেকেই দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ নভেম্বর, ২০১৬ ২১:৪৪



জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবে অনেকেই দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবের কারণে অনেকেই দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। খুলনা-সাতক্ষীরাসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক মানুষ ইতিমধ্যে অবৈধভাবে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে।

দেশে থাকা স্বজনরা তাদের সন্ধান জানেন না। আর টেকনাফ থেকে থাইল্যান্ড-মালেশিয়া যাওয়ার খবরও একাধিকবার গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। আজ বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় সংলাপে এই দাবি জানানো হয়।

বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে উন্নয়ন সংগঠন নেটওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ, বাংলাদেশ (এনসিসি’বি) ট্রাস্ট ও সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি অ্যাকশান এ্যান্ড রিসার্চ (সিপিআরডি) এই সংলাপের আয়োজন করে।  

গবেষক ড. মো আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন বিআরডিবি’র মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল কাইয়ুম। এতে মূল প্রবন্ধ উত্থাপন করেন সিপিআরডি'র নির্বাহী পরিচালক মো. শামছুদ্দোহা। আলোচনায় অংশ নেন এনসিসিবি’র কো-অর্ডিনেটর মিজানুর রহমান বিজয়, কোস্টাল ডেভোলপমেন্ট পার্টনারশীপ (সিডিপি)’র নির্বাহী প্রধান সৈয়দ জাহাঙ্গীর হাসান মাসুম, সিসিডিবি’র তানজীর আহমেদ।

মূল প্রবন্ধে মো. শামছুদ্দোহা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেকেই এলাকা, এমনকি দেশ ছাড় বাধ্য হয়েছে।

কেউ ঝড়-জলোচ্ছাসের কারণে বাড়ি-ঘর ও সম্পদ হারিয়েছে। কারো বাড়ি-ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। আবারও দূর্যোগের কারণে এলাকায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। আবার কোথাও ফসলি জমি নষ্ট হয়েছে। ফলে অনেকেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু জলবায়ু সম্মেলনে এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়নি। বিষয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. মো. আব্দুল কাইয়ুম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অনেক এলাকায় জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে তারা এলাকা ছেড়ে অন্যত্রে আশ্রয় নিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তাদের আশ্রয় ও পুনর্বাসনে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামীতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সংলাপে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য উন্নত বিশ্বগুলো দায়ি। তারা সেই দায় ইতিমধ্যে স্বীকার করেছে। তবে প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষতিপূরণ প্রদানে তালবাহানা করছে। প্যারিস সম্মেলনে চুক্তি হলেও সেই চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে কালক্ষেপন চলছে। তাই ক্ষতিপূরণ আদায়ের পাশাপাশি স্থানীয় অভিযোজন কাজ গতিশীল করতে হবে।  

তারা আরো বলেন, অভিযোগ প্রক্রিয়াকে টেকসই করতে অভিযোজন পরিকল্পনায় দরিদ্র মানুষকে গুরুত্ব দিকে হবে। জেলা-উপজেলাভিত্তিক স্থানীয় অভিযোজন পরিকল্পনা নিতে হবে। প্রত্যন্ত এলাকার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় পরিকল্পনা চুড়ান্ত করতে হবে।


মন্তব্য