kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ব্যবসায়ীদের পণ্যের মান নিশ্চিত করতে হবে : শিল্পমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ১৮:০৬



ব্যবসায়ীদের পণ্যের মান নিশ্চিত করতে হবে : শিল্পমন্ত্রী

অতি মুনাফার মানসিকতা পরিহার করে পণ্যের মানের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের আরো সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের অতিমুনাফার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে পণ্যের মানের বিষয়ে আরো সচেতন হতে হবে। গুটি কয়েক অতিলোভী ব্যবসায়ীর কারণে সমাজ ও দেশ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে,ব্যবসায়ীদের ইমেজও ক্ষুন্ন হচ্ছে। অনেকে মানহীণ পণ্য উৎপাদন করছে। এটি বন্ধ করতে হবে।
৪৭তম বিশ্ব মান দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউট (বিএসটিআই) আয়োজিত ‘মান আস্থা সৃষ্টি করে’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।  
তেজগাঁও বিএসটিআই প্রধান কার্যালয়ের মিলনায়তনে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।  
বিএসটিআই মহাপরিচালক ইকরামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোঃ শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন,বিএসটিআই পরিচালক (মান) মো. রেজাউল করিম প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘এখন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসতে প্রস্তুত। বিশ্বের প্রায় সব উন্নত দেশ আমাদের দেশে বিনিয়োগ করতে চায়। এজন্য দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) স্থাপন করা হচ্ছে। তবে বিদেশী বিনিয়োগ আসার আগে দেশীয় উদ্যোক্তাদের পণ্যের মান নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশী বিনিয়োগ আসার পর পণ্যের মান ভাল না হলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যাবে না। ’
তিনি বলেন,অর্থনৈতিক ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সর্বত্র বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এর সাথে পাল্লা দিয়ে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে বিএসটিআইকে যেমন দায়িত্ব পালন করতে হবে তেমনি ব্যবসায়ীদেরকে এ বিষয়ে আরো সচেতন হতে হবে।  
আমু বলেন,বিএসটিআই যে মানের ওপর ভিত্তি করে মান সনদ প্রদান করছে সেই মান ব্যবসায়ীদের বজায় রাখতে হবে। সরকার আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের কোন কিছু করাতে বাধ্য করতে চাই না,আমরা চাই সচেতনতা তৈরির মাধ্যমেপণ্যের মান ঠিক রাখতে। এক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্যের বিষয় বিবেচনায় রেখে বিএসটিআইকেও গুরু দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন,বিএসটিআই ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক এ্যাক্রেডিটেশন সংস্থা থেকে এ্যাক্রেডিটেশন সনদ অর্জন করেছে। এর ফলে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের মান সনদ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। এতে বর্হিবিশ্বে রফতানিও বাড়ছে।
তিনি বলেন,এই রফতানি আরো বাড়াতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে হবে। শিল্প-কারখানায় আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি ও প্যারামিটার অনুসরণ করে পণ্য উৎপাদন করতে হবে। পণ্যের মান নিশ্চিত করতে পারলে বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্প্রসারণে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এফবিসিসিআই জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোঃ শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, দেশীয় পণ্যের মানের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের মানের বিষয়ে বিএসটিআইকে নজর দিতে হবে। বিদেশের কোন অচল বা নিম্নমানের পণ্য দেশে যেন প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে বিএসটিআই-আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিএসটিআই মহাপরিচালক ইকরামুল হক জানান,বিএসটিআই ইতোমধ্যে কয়েকটি ল্যবরেটরি,প্রোডাক্টস সার্টিফিকেশন সিস্টেম এবং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সার্টিফিকেশন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি পণ্যের মান বজায় রাখতে জনসচেতনতা তৈরি ও গণমাধ্যমের কার্যকরী ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্তব্য