kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সাংবাদিকদের কল্যাণে স্থায়ী কিছু করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ১৪:৪৮



সাংবাদিকদের কল্যাণে স্থায়ী কিছু করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

সাংবাদিকদের জন্য এমন কিছু করতে চাই যেখান থেকে সাংবাদিকদের কল্যাণ হয়। এ জন্য একটা ট্রাস্ট গঠনের চিন্তা করছি।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের ৩১তলাবিশিষ্ট বঙ্গবন্ধু মিডিয়া কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, ট্রাস্ট গঠনে গণমাধ্যম মালিকদের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। শুধুমাত্র একজন আমাকে ফোন করে ট্রাস্টে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। আমি আশা করবো, ট্রাস্ট গঠনে মালিকপক্ষের সবাই এগিয়ে আসবেন। বক্তব্যে মজা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাকে দিয়ে আজকে ৩১তলা বঙ্গবন্ধু মিডিয়া কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করিয়েছেন, এখন আবার বলছেন টাকা দিতে। এখানে তো অনেকেই উপস্থিত আছেন যারা একাই এমন একটি কমপ্লেক্স করে দিতে পারেন।

সাংবাদিকরা স্বাধীনতা ভোগ করছেন দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, যিনি মালিক হন তিনিই হয়ে যান সম্পাদক। অনেকেই বলেন, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নাই, স্বাধীনতা যদি না থাকে তবে টক শোতে বসে স্বাধীনতা নাই এই কথা কীভাবে বলেন? বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। এখন অনলাইন সংবাদমাধ্যম বেড়েছে। তবে আমরা যারা পুরনো মানুষ তারা সকালে দৈনিক পত্রিকা হাতে নিয়ে এক কাপ চা খাই। সংবাদপত্রে খবর পড়ি। এখন তো ডিজিটাল সময়, প্রযুক্তির উন্নয়নে এখন সংবাদও ডিজিটাল হয়েছে। তবে পত্রিকার পাতায় সংবাদ পড়তে ভালো লাগে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বাংলাদেশকে ভিক্ষুকের দেশে পরিণত করা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত চেতনা মুছে ফেলা হয়েছিল। আমরা যে বিজয়ীর জাতি, সেটা বলাও ভয়ের ছিল। আমাকেও রিফিউজি জীবন কাটাতে হয়েছে ছয় বছর। এরপর আমি যখন দেশে এসেছি, গ্রামে-গঞ্জে ঘুরেছি তখন আমার সাথে অনেক সাংবাদিকও গিয়েছিলেন। তারা জানেন বাংলাদেশ কোন অবস্থায় ছিল। সেখান থেকে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বঙ্গবন্ধু নিজেও সাংবাদিক ছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন বঙ্গবন্ধু নিজেও সাংবাদিকতা করেছেন। দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকার পূর্ব বাংলার প্রতিনিধি ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী পড়লে সেটা জানতে পারবেন। সেই সূত্রে বঙ্গবন্ধু সাংবাদিক পরিবারেরই একজন। আমি বঙ্গবন্ধুরকন্যা হিসেবে নিজেকে সাংবাদিক পরিবারেরই একজন মনে করি।

বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, গণতন্ত্রের নীতিমালা আছে, সাংবাদিকতারও নীতিমালা আছে। এই দুটো মেনে চললে কোনো সমস্যাই থাকে না। এটা বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু। সবাইকে নীতি মেনে সাংবাদিকতা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সম্পদ বাংলাদেশের, সেটা তুলবে এক দেশ, বিক্রি করা হবে আরেক দেশের কাছে- সেটাতে রাজি হয়নি বলেই ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি। দেশকে বিক্রি করে, দেশের ক্ষতি করে শেখ হাসিনা রাজনীতি করতে চায় না।


মন্তব্য