kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৫৯



'সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে'

বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস ও সহিংস উগ্রবাদের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল ধরনের ও পর্যায়ের সন্ত্রাসবাদকে পরাজিত করতে বিমসটেক নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।  
তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস ও সহিংস উগ্রবাদের উত্থান মোকাবেলা, তাদের পরামর্শদাতা, পরিকল্পনাকারি, মদদদাতা, অর্থায়নকারি, অস্ত্র সরবরাহকারি ও প্রশিক্ষকদের খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে বিমসটেক-এর আওতায় আমরা সহযোগিতা জোরদারে সক্ষম হবো।

’ প্রধানমন্ত্রী আজ বিমসটেক আউটরিচ সামিটে ভাষণে এ আহ্বান জানান।  
সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় সন্ত্রাসীদের সংহতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে যুবসমাজ, পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরকার গৃহীত গণসচেতনতা কর্মসূচি সফল হয়েছে।  
শেখ হাসিনা ২০০৪ সালে আলোচিত বিমসটেক অবাধ বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করার জন্যও আহবান জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘এফটিএ বাস্তবায়নের স্বপক্ষে আমাদের রাজনৈতিক ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করা প্রয়োজন কেননা তা আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং বিমসটেক-এর কার্যক্রম ও কর্মসূচি বৃদ্ধি করবে। আগামী বছর বিমসটেক-এর দুইদশক পূর্তির সময়ে এফটিএ-সম্পর্কিত চারটি চুক্তি চুড়ান্ত অনুমোদনের ব্যাপারে আমরা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে পারি। ’ 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত দুইদশকে দুইটি ফোরামকে সংযুক্ত করার উদ্যোগে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বোধগম্যভাবেই, আমাদের অগ্রগতি হয়েছে ধীরে কিন্তু ভিত্তি সম্পন্ন হয়েছে। ’ 
তিনি আরও বলেন, ‘সংহতির পথে অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করার এখনই সময়। ’ 
শেখ হাসিনা বলেন, আঞ্চলিক সংহতি ও সহযোগিতার ব্যাপারে বাংলাদেশ অঙ্গীকারাবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে শান্তি ও উন্নয়নের ব্যাপারে অনুপ্রেরণা লাভ করেছি। ’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের কলকাতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রদত্ত ভাষণের কথা স্মরণ করেন। সেই ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আসুন, প্রতিবেশিকে শত্রু হিসাবে মোকাবেলার অকার্যকর নীতি চিরদিনের জন্য ত্যাগ করি। ’ 
শেখ হাসিনা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণের উদ্ধৃতি দেন, ‘আসুন, আমরা জাতীয় সম্পদ অপচয় না করে তা আমাদের জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ব্যবহার করি ......দক্ষিণ এশিয়ায় একটি শান্তির অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে সহযোগিতা করতে চাই। ’ 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন সময় এসেছে সকলের গুরুত্ব দিয়ে ভেবে দেখার, ‘আমরা কিভাবে বিমসটেককে আরও কার্যকর এবং ফলপ্রসূ করতে চাই ........”
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিমসটেকের আওতায় আমাদের সহযোগিতার ১৪টি ক্ষেত্র থাকায় আমি মনে করি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, যোগাযোগ এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার মতো কতিপয় ক্ষেত্রে আমাদের আগামী ৫ বছর আরো গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করা উচিত। ’
তিনি আরো বলেন, গতি সঞ্চারনে সহযোগিতার মূল ক্ষেত্রের বিষয়ে নিয়মিত মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ।
শেখ হাসিনা বলেন, এ ফোরামের কার্যকর সংযুক্তি এবং জনগণের নিকট সংস্থার স্থিতি ও দৃষ্টিগ্রাহ্যতা নিশ্চিত করতে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার উন্নয়নে আঞ্চলিক প্রকল্প গ্রহণ বিমসটেকের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবশেষে আমাদের নিজস্ব তহবিলের পদ্ধতি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। অপরদিকে বাইরের অর্থের উৎসেরও অনুসন্ধান করতে হবে।
তিনি আঞ্চলিক পরিবহন যোগাযোগের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান এবং এডিবি’র সহায়তায় সক্রিয় অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্পের বিষয়ে পরিবহন যোগাযোগ বিষয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও মনিটরিং অব্যাহত রাখার পরামর্শ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রিড আন্তঃসংযোগের বিষয়ে এমওইউ স্বাক্ষরের প্রেক্ষাপটে বিমসটেক সমুদ্রোপকূলের জাহাজ চলাচল বিষয়ে একটা চুক্তি করতে পারে।


মন্তব্য