kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'ডিজিটাল মেলার উদ্দেশ্য হচ্ছে বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করা'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:৩৫



'ডিজিটাল মেলার উদ্দেশ্য হচ্ছে বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করা'

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু আজ বলেছেন, চলতি মাসে অনুষ্ঠিতব্য ‘ডিজিটাল মেলা- ২০১৬’র উদ্দেশ্য হচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বশেষ অগ্রগতির সাথে দেশের জনগণকে পরিচিত করানো এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করা।  
তথ্যমন্ত্রী আজ সচিবালয়ে তথ্য অধিদফরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বক্তব্য রাখেন।

আগামী ১৯, ২০ ও ২১ অক্টোবর ঢাকায় এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।  
আগামী ১৯-২১ অক্টোবর ২০১৬ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-তে চতুর্থ বারের মত শুরু হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আয়োজন ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৬’। সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধুমাত্র সাফল্য তুলে ধরার জন্যই নয়, বরং প্রাপ্ত সেবার ব্যাপারে জনগণের প্রতিক্রিয়া জানার জন্যও মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।  
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। তাঁর সুদক্ষ নেতৃত্ব আজ সারা বিশ্বে প্রমাণিত ও প্রশংসিত।  
ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট নিশ্চিত করার উপর এবছর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ আর কোন স্বপ্ন নয় বরং বাস্তব, কেননা একই সাথে রয়েছে ১৩ কোটিরও বেশি মোবাইল ফোন এবং সাড়ে কোটি ইন্টারনেট সংযোগ।  
তিনি বলেন, জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে গোপনীয়তা, প্রবেশাধিকার ও সুরক্ষার জন্য নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ।  
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্যান্য সকল খাতের চাইতে তথ্যপ্রযুক্তি খাত অতিশয় সৌভাগ্যবান এই জন্য যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে এমন একজনকে পাশে পেয়েছেন, যিনি তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্মুখ সমরের এক প্রতিষ্ঠিত যোদ্ধা। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টার সুচিন্তিত পরামর্শে ও নির্দেশনায় বিগত সাড়ে সাত বছরে আইটি খাতের আয় ২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে, হয়েছে ২৩ গুণ প্রবৃদ্ধি। বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা অনেক অপশক্তি বাধাগ্রস্ত করতে চাইলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে’।
আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক বলেন, ‘২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ঘোষণা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমরা এগিয়ে চলেছি। তার প্রমাণ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বীকৃতি লাভ। এই যে ডিজিটাল বাংলাদেশের এতসব অর্জন, তা যেমন জানানোর প্রয়োজন আছে, তেমনি আমাদের এই কর্মপন্থায় পারস্পরিক শেয়ারিং করারও প্রয়োজন আছে। ’
প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে ২৮ হাজার সরকারি দপ্তর ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় এসেছে।  
‘নন স্টপ বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হতে যাওয়া এবারের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে ২০১৬-এ সরকারের ৪০টি মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের পাশাপাশি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে শতাধিক প্রতিষ্ঠান তাদের ডিজিটাল কার্যক্রম তুলে ধরতে অংশ নেবে ।  
তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে মাইক্রোসফট, ফেসবুক, একসেন্সার, বিশ্বব্যাংক, জেডটিই, হুয়াওয়েসহ খ্যাতিমান তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ৪৩ জন বিদেশি বক্তাসহ প্রায় দুই শতাধিক বক্তা ১৮টি সেশনে অংশ নেবেন। এছাড়াও ৭টি দেশের ৭ জন মন্ত্রী সম্মেলনের উদ্বোধনের দিন বিকাল ৩-৩০ টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে অংশ নেবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানান হয়, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আইটি ক্যারিয়ার-বিষয়ক সম্মেলনের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো উন্নয়ন সহযোগীদের নিয়ে থাকবে ডেভেলপার সম্মেলন। এছাড়া ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের তরুণ শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তি প্রেমিদের জন্য প্রদশর্নীতে সফটওয়্যার শোকেসিং, ই-গভর্নেন্স এক্সপোজিসন, মোবাইল ইনোভেশন, ই-কমার্স এক্সপো, স্টার্টআপ জোন ছাড়াও আইসিটি সংশ্লিষ্ট ১২টি সেমিনার, ডেভেলপমেন্ট পার্টনারস কনফারেন্স, আইসিটি এডুকেশন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের আয়োজনে প্রায় ৪৩ জন বিদেশি আইসিটি বিশেষজ্ঞ ছাড়াও পাঁচ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।  
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই আয়োজনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৬ আয়োজনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়।  
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা এ কে এম শামীম চৌধুরী, বিসিসি’র নির্বাহী পরিচালক এস এম আশরাফুল ইসলাম, এটুআই প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার, বেসিসের সভাপতি মোস্তফা জব্বার প্রমুখ।


মন্তব্য