kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নিবন্ধনের আওতায় আসবে দেশের সকল নৌযান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ২০:০৪



নিবন্ধনের আওতায় আসবে দেশের সকল নৌযান

রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার দেশের সকল নৌযানকে নিবন্ধনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য ৪৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

এই প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে নৌ-শুমারির কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা আগামী ২০১৯ সালের জুলাই মাসে শেষ হবে। আজ রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।  

কমিটি সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলামের (বীর উত্তম) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটি সদস্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, তালুকদার আব্দুল খালেক, মো. আব্দুল হাই, এম. আব্দুল লতিফ, রণজিৎ কুমার রায়, মো. আনোয়ারুল আজীম (আনার) ও মমতাজ বেগম অংশগ্রহণ করেন।

কমিটি সূত্র জানায়, ইঞ্জিনচালিত নৌকাসহ সারা দেশের অভ্যন্তরীণ নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করতে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ‘ন্যাশনাল শিপস অ্যান্ড মোকানাইজড বোটস ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং’ শীর্ষক ওই প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো- নৌযানের সকল প্রকার সাধারণ ও কারিগরী তথ্য সম্বলিত ডাটাবেজ তৈরি করা, নৌযানগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় এনে রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা। একই সঙ্গে নৌ খাতকে শক্তিশালী ও আধুনিক মনিটরিং এর ব্যবস্থায় আনা। বর্তমানে সারা দেশে ১০ হাজারেরও বেশী নৌযান চলাচল করছে বলে মন্ত্রণালয়ের কাছে তথ্য রয়েছে।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় নৌ-শুমারির কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে সেটা চলমান আছে। এছাড়া বৈঠকে বন্দরে অগ্নি দুর্ঘটনা এড়াতে সকল স্থল বন্দরে স্বয়ংক্রিয় অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে বলে 
জানান তিনি।

এদিকে বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন বিভিন্ন স্থল বন্দরের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন জমির পরিমাণ ২৬১ দশমিক ৭৩ একর। আর স্থল বন্দরের সংখ্যা ২৩টি।

অপরদিকে সমুদ্র উপকূলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ নৌ পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের (ডিজি শিপিং) অধীনে দীর্ঘদিন পর ‘গ্লোবাল মেরিন ডিস্ট্রেস্ড এন্ড সেফটি সিস্টেম (জিএমডিএসএস) নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও এখনো কাজ শুরু করা যায়নি। অথচ প্রায় ৩৭১ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। বর্তমানে ওই প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটিকে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, দক্ষিণ কোরিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে জিএমডিএসএস প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। এই প্রকল্পের টেন্ডার বিডিং শেষ হয়েছে। চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্র পাওয়া গেছে। দরপত্র মূল্যায়নের কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে।


মন্তব্য