kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

চারজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে একই ফোন থেকে হত্যার হুমকি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০৯:২৮



চারজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে একই ফোন থেকে হত্যার হুমকি

বাংলাদেশের কয়েকজন সুপরিচিত লেখক এবং নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা অভিযোগ করছেন, তাদেরকে গত কয়েক দিনে টেলিফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই হুমকিগুলো এসেছে একই নম্বর থেকে।

এদের মধ্যে লেখক মঈনুল আহসান সাবের এবং মুহাম্মদ জাফর ইকবাল ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর আগে সুন্দরবনের কাছে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আনু মুহাম্মদকেও একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। কারা এই হুমকির পেছনে এবং এ ব্যাপারে পুলিশই বা কি করছে? সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল এবং তার স্ত্রী একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক বুধবার রাতে দুই ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি এসএমএস বার্তায় প্রাণনাশের হুমকি পান। এ বিষয়ে তারা সিলেটের জালালাবাদ থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করেছেন।

জালালাবাদ থানার পুলিশ কর্মকর্তা আক্তার হোসেন বলেছেন, জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের নামে ইংরেজিতে লেখা মেসেজ আসে। সেখানে 'শিগগিরই তোমাদের হত্যা করা হবে' লেখা ছিল। যে ফোন নম্বর থেকে এই হুমকি দেওয়া হয় সেটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে বলে জানান ওসি আক্তার হোসেন। মুহাম্মদ জাফর ইকবালের বাসভবনে এবং কর্মস্থলে নিরাপত্তা বাড়িয়েছেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, হুমকিদাতা কে বা কারা তা শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। এই ধরনের হুমকি পেয়েছেন লেখক মঈনুল আহসান সাবের। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ তাকে কথিত ইসলামিক স্টেটের বরাতে এই বার্তা পাঠানো হয়। এতে বলা হয় আজ অথবা কাল আপনাকে হত্যা করা হবে। মঈনুল আহসান সাবের তার ফেসবুক পাতায় আজ এ নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার কথাও জানিয়েছেন।

বুধবার রাতেই এ রকম হত্যার হুমকি পেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাবেলা থানায় জিডি করতে যান তেল-গ্যাস বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা কমিটির নেতা অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। থানায় ওসির সামনে বসে থাকার সময়ই হত্যার হুমকিসংবলিত দ্বিতীয় বার্তাটি পান তিনি। এতে লেখা ছিল রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের পক্ষে তাকে হ্যাঁ বলতে হবে। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বিভিন্ন করপোরেট ইন্টারেস্ট থেকে এ ধরনের হুমকিদাতাদের অনেক সময় ব্যবহার করা হয়। কারা এটা করছে, এই রহস্য থেকে যাওয়াটাই হচ্ছে সবচেয়ে অসুবিধাজনক। সরকার বিশ্বাসোগ্যভাবে কাজ করলে এটা থাকবে না। তা নাহলে সমাজে বিরোধিতাকে থামানোর জন্য এদেরকে কেউ ব্যবহার করতে পারে।

এই হুমকির সব ক'টিই এসেছে একটি মোবাইল নম্বর থেকে। এতে ফোন করে আজ মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। বাংলাদেশে এখন মোবাইল সিম নিবন্ধনের পর কোনো নম্বরের মালিকই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার কথা নয়। কিন্তু সিলেট মহানগর পুলিশের কর্মকর্তা ফয়সাল মাহমুদের কাছে অধ্যপক জাফর ইকবালকে ‌এসএমএসে হুমকির তদন্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে বলা হয়, তদন্ত এখনও চলছে, এবং মোবাইল নম্বরের মালিককে তারা এখনও চিহ্নিত করতে পারেননি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও প্রথিতযশা ব্যক্তিদের হুমকির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 


মন্তব্য