kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ব্রিকস-বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে আজ গোয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০৮:২৬



ব্রিকস-বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে আজ গোয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিকস-বিমসটেক লিডারস আউটরিচ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করার জন্য আজ রবিবার ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম রাজ্য গোয়া যাচ্ছেন। গোয়ায় অনুষ্ঠেয় দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের থিম হচ্ছে- ‘ব্রিকস-বিমসটেক : একটি অংশীদারত্বের সুযোগ'।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে রবিবার সকাল ৮টায় ঢাকা ত্যাগ করেছেন। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে (ভারতীয় সময়) তিনি গোয়া পৌঁছাবেন।

এই সম্মেলনের সাইডলাইনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটানের নেতৃবৃন্দের সাথে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

নরেন্দ্র মোদির সাথে হাসিনার বৈঠকে নিরাপত্তা ইস্যুর পাশাপাশি তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি প্রাধান্য পাবে। কেননা স্থল সীমানা চুক্তি বাস্তবায়নের পর তিস্তাই এখন বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের শীর্ষে রয়েছে। এ ছাড়া গত বছর মোদির ঢাকা সফরকালে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি সংক্ষিপ্তভাবে পর্যালোচনা করা হতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রী গোয়ায় বহুপক্ষীয় ফোরামে যোগ দেবেন। ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য যে উপাদানগুলো প্রয়োজন তা এখনো পূর্ণতা পায়নি। শীর্ষ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সফরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রত্যাশা থাকে। বাংলাদেশ বিশেষ করে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির দিকে তাকিয়ে আছে। এই ইস্যুতে অগ্রগতি হলে আগামী বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যেতে পারেন।

ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচ সম্মেলনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। এতে রাশিয়ার সহযোগিতায় বাংলাদেশে নির্মিতব্য প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র, নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হবে। প্রেসিডেন্ট পুতিন আগামী বছর বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

গোয়ায় গতকাল অর্থনৈতিকভাবে উদীয়মান ও বিশ্ব রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তারকারী দেশগুলোর জোট ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে। এতে রাশিয়া, চীন, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের সরকারপ্রধানরা যোগ দিয়েছেন। সম্মেলন শেষে আজ অবকাশকালে (রিট্রিট) যোগ দেবেন বিসমটেক নেতারা। এতে অংশ নিতে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মোদি। এটি ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচ সম্মেলন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ব্রিকস-বিমসটেক মিলে মোট ১১টি দেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ গোয়ায় মিলিত হচ্ছেন।

সম্মেলনে যোগদান শেষে প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল সোমবার সকালে ঢাকা ফিরে আসবেন।

১৯৯৭ সালে গঠিত সাত জাতি বিমসটেক নিয়ে ভারতের বেশ উচ্চাশা ছিল। কেননা এই জোটে তার চির প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান নেই। কিন্তু মিয়ানমারের জান্তা সরকার ও পরবর্তী সময়ে থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জোটটি প্রত্যাশা অনুযায়ী অগ্রসর হতে পারেনি। ২০০৪ সালের জুনে বিমসটেক মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (এফটিএ) রূপরেখা চুক্তিতে যোগ দেয় বাংলাদেশ। একই বছর সেপ্টেম্বরে ব্যাংককে এর আওতায় ট্রেড নেগোসিয়েশন কমিটির (টিএনসি) প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কমিটি পণ্য বাণিজ্য নিয়ে সমঝোতা শেষ করতে পারেনি। পণ্যের পর টিএনসির সেবা ও বিনিয়োগ খাতে সমঝোতা শুরু করার কথা। গোয়ায় অনুষ্ঠেয় আউটরিচ সম্মেলনে এফটিএ নিয়ে বিমসটেক নেতাদের কাছ থেকে একটি নির্দেশনা আদায়ের চেষ্টা করবে ভারত।

বিসমটেক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, পরিবহন ও যোগাযোগ, জ্বালানি, পর্যটন, প্রযুক্তি, মৎস্যসম্পদ এবং কৃষি খাতে সহযোগিতা নিয়ে কাজ করে। ঢাকায় এর সদর দপ্তর স্থাপন করা হয়েছে।


মন্তব্য