kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কৃষক প্রতিনিধিদের সম্মাননা প্রদান

প্রবীণ কৃষকদের জন্য পেনশন স্কিম চালুর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ২০:৫৫



প্রবীণ কৃষকদের জন্য পেনশন স্কিম চালুর দাবি

খাদ্য নিরাপত্তার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছে এদেশের কৃষকরা। অথচ তারাই সব থেকে অবহেলিত।

তারা উৎপাদিত কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল থেকে বঞ্চিত। যে কারণে শেষ বসয়ে তাদেরকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। এই অবস্থায় সুস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে প্রবীণ (ষাটোর্ধ্ব) কৃষকদের জন্য পেনশন স্কিম চালু করতে হবে। আজ শনিবার মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত কৃষক সম্মাননা অনুষ্ঠানে এই দাবি জানানো হয়।  

বিশ্ব খাদ্য দিবসকে সামনে রেখে বেসরকারী গবেষণা ও উন্নয়ন সংগঠন বারসিক ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) আয়োজিত এই সম্মাননা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা চেয়ারম্যান আবু নাসের খান। ডা. লেলিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন বারসিকের নির্বাহী পরিচালক সুকান্ত সেন, কৃষক নেতা অ্যাড. আজহারুল ইসলাম আরজু, জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক ইউসুফ মোলা, কৃষক প্রতিনিধি নূর মোহাম্মদ, শেখ সিরাজুল ইসলাম, ফরিদা পারভিন, করিবাজ জাহাঙ্গীর আলম, কমলা বেগম, অল্পনা মিস্ত্রী ও কৈীলাল্যা মুন্ডা এবং উন্নয়ন কর্মী তারিক হোসেন মিঠুল ও কে এ তৌহিদুল আলম।

নওগাঁর পত্মীতলা উপজেলার ফতেপুর গ্রামের কৃষক প্রতিনিধি মো. নাসির আহমেদ অভিযোগ করেন, সরকার কৃষি খাতে ভূর্তকি দিলেও তার সুফল তারা পাচ্ছে না। সার-বীজের ডিলার থেকে শুরু করে স্থানীয় এমপি-চেয়ারম্যান-মেম্বারদের পকেটে ভূর্তকির টাকা চলে যায়। অথচ এক মন ধান উৎপাদনে ৭০০ টাকা খরচ হলেও তা মাত্র ৫০০ টাকায় সেই ধান বিক্রি করতে হয় তাদেরকে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কৃষক প্রতিনিধি শেখ সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কৃষকরা জমি চাষ করে ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেও জমির মালিকানা তাদের নেই। প্রান্তিক কৃষকরাও এখন ভূমিহীনে পরিণত হচ্ছে। কৃষক যদি প্রতিনিয়ত এমন ক্ষতির শিকার হয় তবে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকি সম্মুখীন হতে বাধ্য।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত কৃষকদের হাতে সম্মানসূচক স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। এ সময় কৃষকরা তাদের প্রতি এই সম্মান জানানোর জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা অবিলম্বে কৃষকদের জন্য পেনশন স্কিম চালুর দাবি জানান।

এ সময় কৃষকরা তাদের জীবন ও সংগ্রামের নানা কাহিনী তুলে ধরেন। কে কিভাবে চাষ করেন, কিভাবে সবজি উৎপাদন করেন, কিভাবে বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেন, কিভাবে রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে ফসল ফলান, কিভাবে বরেন্দ্র অঞ্চল,উপক‚লীয় অঞ্চল বা হাওড় অঞ্চলে সংগ্রাম করছেন তা তুলে ধরেন। তারা তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন আর এ থেকে পরিত্রাণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।


মন্তব্য