kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মার্কিন ও কানাডীয় দূতাবাসের মাধ্যমে দুই জঙ্গির লাশ চায় পরিবার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০৯:৩৯



মার্কিন ও কানাডীয় দূতাবাসের মাধ্যমে দুই জঙ্গির লাশ চায় পরিবার

রাজধানীর কল্যাণপুরে পুলিশের অভিযানে নিহত শেহজাদ অর্ক রউফ নামে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের একজনের লাশ নিতে চেয়েছে পরিবার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

তাই মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে চলতি মাসের শুরুতে লাশ চেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে অর্কের পরিবার। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অর্কসহ নয় জঙ্গির লাশ ২৮ সেপ্টেম্বর বেওয়ারিশ হিসেবে ঢাকার জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে লাশ চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল  বলেন, ‘এত দিন তারা ঘৃণা প্রকাশ করেছে, আর এখন এসে লাশ চাচ্ছে। আশ্চর্য, এরা কী করে এদের লাশ চাচ্ছে ঠিক আমার বোধগম্য নয়!’ তিনি বলেন, যারা জঙ্গিদের লাশ চাইবে, তাদেরও নজরদারিতে রাখা হবে।
গত ২২ ও ২৮ সেপ্টেম্বর দুই দফায় ১৫ জঙ্গির লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করা হয়েছে। যদিও এই ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জনের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এর আগেই গণমাধ্যমে প্রকাশ পায় এবং তাঁদের অনেকেরই স্বজনদের ডেকে ডিএনএ নমুনা নিয়ে লাশের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এই ১৫ জনের মধ্যে ৬ জন ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজানে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে এবং ৯ জন ২৬ জুলাই ঢাকার কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে নিহত হন।
শেহজাদ অর্ক রউফের মরদেহ
কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গিদের একজন শেহজাদ অর্ক রউফ। তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিলেন। অর্ক গুলশানে হামলায় জড়িত জঙ্গিদের একজন নিবরাস ইসলামের বন্ধু ছিলেন। তাঁরা তাওসিফ হোসেন নামের আরেক বন্ধুসহ চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি বাড়ি ছাড়েন। তাওসিফ ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে পুলিশের অভিযানে তামিম চৌধুরীর সঙ্গে নিহত হন।
অর্কের লাশ চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের মাধ্যমে পরিবার যে চিঠি দিয়েছিল, সেটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বলেছে, মার্কিন নাগরিক শেহজাদ অর্ক রউফের মৃতদেহ গ্রহণের জন্য কোনো ওয়ারিশ যোগাযোগ না করায় সেটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে সংরক্ষিত ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাতনামা নয়টি লাশ কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বুঝিয়ে দেয়। কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও ঢাকা মহানগর পুলিশ ওই দিনই লাশ দাফনের জন্য আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করে। আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম ওই দিনই লাশ জুরাইন কবরস্থানে দাফন করে। বেওয়ারিশ হিসেবে লাশের দাফন হয়ে যাওয়ায় অর্কের মৃতদেহ তাঁর বাবা তৌহিদ রউফের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।
তামিম চৌধুরীর মরদেহ
ঢাকায় কানাডীয় হাইকমিশন থেকে গত মাসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে পুলিশের অভিযানে নিহত তামিম চৌধুরীর পুরো পরিচয় নিশ্চিত করতে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তামিমের মরদেহের কী হবে, এ ব্যাপারে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছে হাইকমিশন।
এসব বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গতকাল বলেন, ‘ডিএমসি থেকে তামিমের লাশ নিয়ে যেতে তাঁর চাচাকে আমরা বলেছি। তামিমের স্বজনেরা যদি তাঁর লাশ কানাডায় নিতে চান, নিতে পারবেন। কেউ যদি মরদেহ দাবি না করে, নিয়ম অনুযায়ী যা করার তা-ই করা হবে। ’
গত ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে অভিযানে নিহত তামিমসহ তিনজনের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।


মন্তব্য