kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ধর্মঘট প্রত্যাহার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ অক্টোবর, ২০১৬ ১৬:৪৫



চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ধর্মঘট প্রত্যাহার

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের স্থগিতকৃত ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে সংগঠনটি।  

আজ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সড়ক-মহাসড়কে অতিরিক্ত ওজন বহনকারী পরিবহনে এক্সেল লোড নীতিমালা অনুযায়ী পরিবহনবিষয়ক এক আন্তমন্ত্রণালয় সভাশেষে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ সময় নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক, খাদ্যমন্ত্রী মো. কামরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

সভাশেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী সাংবাদিকদের ব্রিফিং এ সভার সিদ্ধান্তসমূহ অবহিত করেন।  

ওবায়দুল কাদের জানান, চার এক্সেল বা ১৪ চাকা বিশিষ্ট কনটেইনার বহনকারী দীর্ঘযান বা প্রাইম মুভারগুলো সর্বোচ্চ ৩২ টন পর্যন্ত ওজন পরিবহনে আইনগত কোনো বাধা নেই। চার এক্সেলের প্রাইম মুভারে একটি অতিরিক্ত এক্সেল স্থাপন করে পাঁচ এক্সেলে রূপান্তরের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৪২ টন পর্যন্ত ওজন পরিবহন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত একটি এক্সেল বা চারটি চাকা সংযোজনে প্রাইম মুভার মালিকদের ছয় মাস সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, খাদ্য এবং সার পরিবহনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ওজনসীমা এক্সেল লোড নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এ লক্ষ্যে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

তিনি বলেন, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে যে সকল ট্রাকে অবৈধভাবে বাম্পার, অ্যাঙ্গেল, হুক স্থাপন করা হয়েছে তা খুলে ফেলতে হবে।  

মন্ত্রী আরও জানান, দুই এক্সেল বা ছয় চাকার পরিবহনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ওজনসীমা নির্ধারণে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গার নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে। শিগগিরই কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ওবায়দুল কাদের মহাসড়কের স্থায়িত্ব রক্ষায় যানবাহনের অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে অব্যাহত সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, বিজিএমইএর সভাপতি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, এফবিসিসিআই, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি, বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, প্রাইম মুভার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, প্রাইম মুভার মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

সভার শুরুতে সড়ক মহাসড়কে চলাচলকারী পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের পরিবহনের আকার ও ধরন, অতিরিক্ত ওজন, এক্সেল লোড বিষয়ক নীতিমালা, অতিরিক্ত ওজন পরিবহনে সড়কের ক্ষয়ক্ষতি, দুর্ঘটনা এবং পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের সড়কে চলাচলকারী পরিবহনের ওজনসীমা ইত্যাদি বিষয়ে সুপারিশমালাসহ একটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামসুল হক।


মন্তব্য