kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আইন-শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে জেএমবি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:১৬



আইন-শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে জেএমবি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে

নিষিদ্ধ ঘোষিত জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে সংগঠনটি নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে বলে আইন-শৃংখলা সংস্থাগুলো দাবি করেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, আইন-শৃংখলা বাহিনী সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করায় জেএমবি’র কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এসেছে।


ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজ অ্যান্ড ট্রান্সন্যানাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, অবৈধ সংগঠনটির কয়েকজন শীর্ষনেতা আইন-শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছে এবং অন্য অনেকের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে অথবা যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করতে অথবা বিভিন্ন জেলে রয়েছে।
ডিএমপি জানায়, জেএমবি’র ২৯ জন সদস্য নিহত হয়েছে. দু’জন আত্মসমর্পণ করেছে এবং অন্যরা অনেকেই আইন-শৃংখলা বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানে আটক হয়েছে।
সূত্র জানায়, জেএমবি’র ৬৪ জন অপারেটিভকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে, ১৫৪ জনকে যাবজ্জীবন এবং বিভিন্ন হামলায় জড়িত থাকার মামলায় ২৪২ জন জেলে আটক রয়েছে।
পাশাপাশি আইন-শৃংখলা বাহিনী বিভিন্ন মামলায় ১ হাজার ৭৯২ জন জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করেছে এবং বিভিন্ন মামলায় ২ হাজার ৪৩টি চার্জশিট দেয়া হয়েছে।
মাওলানা শেখ আবদুর রহমান, তার সেকেন্ড ইন-কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই, সামরিক কমান্ডার আতাউর রহমান সানি, থিঙ্কট্যাংক আবদুল আউয়াল, মজলিসে শূরা সদস্য খালেদ সাইফুল্লাহ এবং সালাউদ্দিনসহ শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় জেএমবি ব্যাপকভাবে পিছিয়ে পড়ে।
র‌্যাবের মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ এর আগে বলেন, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় মোট ১৬১ মামলায় জেএমবি’র ৬৬০ জন সদস্যকে অভিযুক্ত করা হয়। এসব মামলার ১০৩টি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ৫৮ মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
আদালত ১৫ জন জেএমবি সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড, ১১৮ জনকে যাবজ্জীবন, ১১৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা এবং ১১৮ জনকে খালাস দেয়।
দেশব্যাপী বোমা হামলার মামলায় অন্যান্যের মধ্যে জেএমবি প্রধান মাওলানা শেখ আবদুর রহমান, (হরকাতুল জেহাদ আল ইসলাম বাংলাদেশ) হুজির অপারেশনাল প্রধান মাওলানা আবদুল হান্নানকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।
গত ১ জুলাই গুলশান হলি আর্টিসান ক্যাফে জিম্মি উদ্ধার অভিযানে জেএমবি’র ৫ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। গুলশান হামলার পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দেশব্যাপী নজরদারি জোরদার করে। এ সময় ২৬ জুলাই রাজধানীর কল্যাণপুরে আইন-শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে জেএমবি’র ৯ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।
২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরীসহ ৩ জেএমবি সদস্যের মৃত্যু হয়।
গত ২১ জুলাই অভিযানে টঙ্গি থেকে জেএমবি’র উত্তরাঞ্চলীয় প্রধান মাহমুদুল হাসান ওরফে তানভিরসহ জেএমবি’র ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
জেএমবি’র শীর্ষ মহিলা নেত্রী আকলিমা রহমান ওরফে মনিসহ ৪ মহিলা সদস্যকে গাজীপুর জেলার টঙ্গির সাইনবোর্ড এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার টাঙ্গাইল ও গাজীপুরে পুলিশ ও র‌্যাবের তিনটি অভিযানে জেএমবি’র ঢাকা বিভাগীয অপারেশন কমান্ডার ফরিদুল ইসলাম ওরফে আকাশসহ জেএমবি’র সন্দেহভাজন ১২ সদস্যের মৃত্যু হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আশা প্রকাশ করে বলেছেন, গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড মেজর (অব.) জিয়াকে যে কোনো সময় গ্রেফতার করা হবে। - বাসস।


মন্তব্য