kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'সৈয়দ হক ছিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অহংকার'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:২৩



'সৈয়দ হক ছিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অহংকার'

সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অহংকার। তিনি তার স্বাতন্ত্র্যচিহ্নিত সাহিত্যকর্মের মধ্যদিয়ে আমাদের সাহসের সীমাকে সম্প্রসারিত করেছেন।


সব্যসাচী লেখক, কবি ও বাংলা একাডেমির ফেলো সৈয়দ শামসুল হক স্মরণে গতকাল এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।
বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে যৌথভাবে এ স্মরণসভার আয়োজন করে বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি।
এতে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।
স্মরণসভায় সৈয়দ হকের জীবন ও কর্ম নিয়ে স্মৃতিচারণ ও মূল্যায়নমূলক বক্তব্য রাখেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী, গীতিকার মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, রাজনীতিবিদ নূহউল-আল লেনিন, নাট্যজন আতাউর রহমান, অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল, অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম, কবি-সাংবাদিক সাজ্জাদ শরিফ, সৈয়দ শামসুল হকের সহধর্মিনী কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক এবং কবিপুত্র দ্বিতীয় সৈয়দ হক।
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, বাংলা নাটকে তিনি সঞ্চার করেছেন নতুন যুগের। তার কবিতা যেমন বিশেষত্বে সমুজ্জ্বল, তেমনি কথাসাহিত্যে ‘জলেশ্বরী’ নামে তাঁর ভূখন্ড নির্মাণ অভিনবত্বের দাবি রাখে।
বক্তারা বলেন, সৈয়দ হক ছিলেন একজন রেনেসাঁ-মানব। বিপুল সৃজনশীলতার অধিকারী পঞ্চাশের দশকের এই কবি নিজেকে পরিচয় দিতেন ‘বাহান্নর সন্তান’ বলে। শিল্প-সাহিত্যের ইউরোপীয় রূপ-রীতির সঙ্গে নিবিড় পরিচয় সত্ত্বেও তিনি বারবার ফিরে এসেছেন বাংলার নিজস্ব শিল্পশেকড়ের দিকে।
বক্তরা আরো বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে সৈয়দ হকের মতো প্রাণপূর্ণ, সদালাপী মানুষ আমাদের সমাজে খুব কমই দেখা যায়। তিনি একই সঙ্গে ছিলেন লেখক ও শিক্ষক। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের কলাকৌশল নিয়ে রচিত তাঁর বইপত্র উত্তরকালের তরুণ লেখকদের কাছে দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে নিঃসন্দেহে।  
কবিপতœী আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেন, সৈয়দ শামসুল হকের সঙ্গে অর্ধশতকের দাম্পত্যজীবন যেন একটি কর্কট রোগের প্রকোপে মুহুর্তেই স্বপ্নে মিলিয়ে গেলো। তবু তিনি বেঁচে থাকবেন আমাদের স্মৃতিতে এবং তার বিপুল সৃষ্টিতে।  
কবিপুত্র দ্বিতীয় সৈয়দ হক বলেন, সৈয়দ শামসুল হকের প্রথম ও প্রধান ভালোবাসা ছিলো বাংলা ভাষা। এই ভাষার চিন্তায় ও প্রবহমানতায় বাবা বেঁচে থাকবেন।  
স্মরণসভায় সৈয়দ শামসুল হককে নিবেদিত শঙ্খ ঘোষের কবিতা ‘কথা হবে’ পাঠ করেন কবি পিয়াস মজিদ। সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ওসমান গণি।  
স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড. মনিরুজ্জামান, কবি রুবী রহমান, কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, কবি কাজী রোজী, কবি মুহাম্মদ সামাদ, কবি রবীন্দ্র গোপ, প্রাবন্ধিক মফিদুল হক, আবুল হাসনাত, কবি নাসির আহমেদ, কবি তারিক সুজাত, কবি সৈয়দ আল ফারুক, সুভাষ সিংহ রায়, প্রকাশক মিলন নাথ, সৈয়দ শামসুল হকের কন্যা বিদিতা সৈয়দ হক ও পরিবারের সদস্যবর্গ।
স্মরণসভা উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আজ ‘পরানের গহিন ভিতরে সৈয়দ শামসুল হক’ শীর্ষক ৩০৪ পৃষ্ঠার একটি শ্রদ্ধা-স্মারক প্রকাশ করেছে। স্মারক গ্রন্থটি সম্পাদনা করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। সহযোগী সম্পাদক ছিলেন মোবারক হোসেন ও পিয়াস মজিদ। এতে সৈয়দ শামসুল হককে নিবেদিত কবিতা, প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথার পাশাপাশি রোগশয্যায় রচিত তাঁর ষোলোটি কবিতা এবং কবির অঙ্কিত চিত্রগুচ্ছ ও ভাষ্কর্যকর্মের প্রতিলিপি স্থান পেয়েছে।  
সৈয়দ শামসুল হকের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে স্মরণসভায় দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।


মন্তব্য