kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সংসদে জেলা পরিষদ বিল পাস

পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে জনপ্রতিনিধিদের

ফৌজদারি মামলায় চার্জশিটপ্রাপ্ত হলে সাময়িক বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক    

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ১৮:৩২



পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে জনপ্রতিনিধিদের

নির্বাচিত কোনো জনপ্রতিনিধি পদে থেকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। নির্বাচনের জন্য তাঁদেরকে পদত্যাগ করতে হবে।

আর নির্বাচিত চেয়ারম্যান বা সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার চার্জশিট গ্রহণ হলে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারবে মন্ত্রণালয়। এসব বিধান রেখে 'জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন ২০১৬' জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিলটি উত্থাপন করেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের আগে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন বিরোধীদল জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা। তবে তাঁদের আপত্তি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। পরে সর্বসম্মতিতে বিলটি পাস হয়।

পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, জেলা পরিষদ হবে ২১ সদস্যের। যার মধ্যে একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য এবং পাঁচজন সংরক্ষিত নারী সদস্য থাকবেন। সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভোটে তাঁরা নির্বাচিত হবেন। এতে আরো বলা হয়েছে, আয়তন ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে জেলা পরিষদকে ১৫টি ভাগ করা হয়েছে। এক ভাগে একজন করে সদস্য ও প্রতি তিনটি ভাগে একজন করে সদস্য সংরক্ষিত আসন বিবেচনায় নির্বাচিত হবেন।

বিলের ৬ নম্বর ধারার চ উপধারায় বলা হয়েছে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বর্তমান প্রশাসক এবং নির্বাচিত এমপিসহ অন্যান্যদের বর্তমান পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। আর ১০ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, জেলা পরিষদের কোনো সদস্য ফৌজদারি মামলায় চার্জশিটপ্রাপ্ত হলে তিনি বরখাস্ত হবেন। বিলে আরো বলা হয়েছে, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নির্বাহী ক্ষমতা থাকবে চেয়ারম্যানের কাছে। তবে তাঁর অনুপস্থিতিতে কাউন্সিলরদের ভেতর থেকে একজন বা সরকারি কর্মকর্তারাও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। সরকার গেজেট করে সরকারি কোনো কর্মকর্তাকেও এ দায়িত্ব দিতে পারবে।

উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর জেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করেন। গত ৪ অক্টোবর বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ওই দিনই কমিটির বৈঠক ডেকে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে সংসদীয় কমিটি, যা গত ৫ অক্টোবর সংসদে উত্থাপন করা হয়। পাস হওয়া বিলটিতে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করলে আইনে রূপ পাবে। এ আইনের আলোকে আগামী ডিসেম্বরে জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।


মন্তব্য