kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চাল বিতরণে অনিয়ম পাওয়া গেলে ডিলারশিপ বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ১৯:২৪



চাল বিতরণে অনিয়ম পাওয়া গেলে ডিলারশিপ বাতিল

আজ বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এসংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য মীর শওকত আলী বাদশা।

তার সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, দেশের মানুষ হতাশা থেকে এখন আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে। দেশের মানুষকে বঞ্চনা থেকে মুক্ত করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্য বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমরা একমাত্র লক্ষ্য। ব্যাথার পাথর বুকে নিয়ে চলছি একটাই লক্ষ্য নিয়ে তা হচ্ছে মানুষের মুখে হাসি ফোটানো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ১০ টাকা কেজি করে চাল দেওয়ার কোন প্রতিশ্রুতি ছিল না। ৯৬ সালের আগে নির্বাচনী বক্তৃতায় আমি ১০ টাকা কেজি চালের কথা বলেছিলাম। তিনি বলেন, ’৯৬ সালে ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি নিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলাম। মাত্র ৫ বছরে খাদ্য ঘাটতি পূরণ করে দেশকে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলাম। ক্ষমতা ছাড়ার সময় ২৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য উদ্বৃত্ত রেখে গিয়েছিলাম। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে আবারও দেশকে খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিণত করে। ২০০৯ সালে যখন ক্ষমতা গ্রহণ করি তখনও দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল ৩৫ লাখ মেট্রিক টন। আর এখন বাংলাদেশ খাদ্য রফতানির সক্ষমতা অর্জন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতি পাঁচশ’ জনের জন্য একজন করে ডিলার নিয়োগ করা হয়। ইউপি চেয়ারম্যানসহ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা হৃতদরিদ্র্যদের তালিকা তৈরি করে। এই তালিকায় যদি কোন সক্ষম মানুষের নাম উঠে অবশ্যই তা বাদ দিতে হবে। এক্ষেত্রে সকল এমপিকে এবং এ কাজে জড়িত সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ করবো- স্ব স্ব এলাকায় এসব তালিকা পরীক্ষা করুন। কোন অনিয়ম বা গরমিল ধরা পড়লে অবশ্যই জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারী দলের ইসরাফিল আলমের সম্পুরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ১০ কেজি করে চাল প্রদানের কর্মসূচি দীর্ঘদিন চালু থাকবে। তিনি ’৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘস্থায়ী ওই বন্যার সময় দেশের ৭০ ভাগ এলাকা পানির নীচে চলে গিয়েছিল। তখন বিবিসি, বিশ্বব্যাংকসহ অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা তখন বলেছিল- ২ কোটি লোক না খেয়ে মারা যাবে। আমরা বলেছিলাম একটি লোকও না খেয়ে মারা যাবে না। বন্যার সময় এবং পরবর্তী দীর্ঘ ৯ মাস পর্যন্ত আমরা ৫৫ লাখ মানুষের কাছে বিনামূল্যে ২০ কেজি করে চাল পৌঁছে দিয়েছিলাম। তাই যতদিন প্রয়োজন পড়বে ততদিন এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

 


মন্তব্য