kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'ভূগর্ভস্থ পানির অপব্যবহার রোধ না করলে বাংলাদেশ অচিরেই মরুভূমি হবে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ১৭:১১



'ভূগর্ভস্থ পানির অপব্যবহার রোধ না করলে বাংলাদেশ অচিরেই মরুভূমি হবে'

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন,ভূগর্ভস্থ পানির অতিব্যবহার ও অপব্যবহার রোধ করতে না পারলে বাংলাদেশ অচিরেই মরুভূমিতে পরিণত হবে।
তিনি আজ রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউটে ইউনিসেফ ও ওয়াটার এইডের যৌথ সহযোগিতায় মিরপুরের কালশী বস্তিতে বৈধ ‘পানির সংযোগ হস্তান্তর’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।


খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন,পানির যথেচ্ছ ব্যবহারে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস পাচ্ছে। মাটির আর্দ্রতা দ্রুত কমে যাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির উপরে অধিক নির্ভরতা কমাতে হবে নইলে বিপদ জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
ভূউপরিস্থ পানি ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দিতে হবে এ কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন,সরকার তিনটি মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে শতকরা ৭৮ ভাগ ভূউপরিস্থ পানি এবং শতকরা ২০ ভাগ ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করার উপর গুরুত্ব দিয়েছে। ফসলি জমিতে সেচ ব্যবহারে গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি ব্যবহার হ্রাস করে ভূউপরিস্থ পানি ব্যবহারে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করার কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সারাদেশে ওয়াটার পয়েন্ট বা পুকুর তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পুকুর বা ওয়াটার পয়েন্ট সেখান থেকে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে পানি সরবরাহ করা হবে।
তিনি বলেন, সকলের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০১৭ সালের মধ্যে রাজধানীর সকল বস্তি বৈধ পানি সরবরাহের আওতায় আনা হবে। জীবনমান উন্নয়নে পানির ভূমিকা অপরিসীম। মন্ত্রী আগামী শুষ্ক মৌসুমে যাতে রাজধানীতে পানি সংকট না হয়, সে লক্ষ্যে ওয়াসাকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেন।
ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার তাসকিম এ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়াসার চেয়ারম্যান প্রফেসর ড.হাবিবুর রহমান,সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা এবং ইউনিসেফের ঢাকাস্থ প্রতিনিধি এডওয়ার্ড বিগবেডার। ।
তাসকিম এ খান বলেন, ওয়াসা পরিবেশবান্ধব টেকসই ও গণমুখী পানি ব্যবস্থাপনার কাজ করে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ওয়াসা ৩ টি মেগা প্রজেক্ট গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আগামী ২০২১ সালের মধ্যেই পরিবেশবান্ধব,টেকসই ও গণমুখী পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে ।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডকে বৈধ পানি ব্যবস্থাপনার আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ঢাকা ওয়াসা ২০১০ সাল থেকে বস্তিবাসীদের বৈধ পানি সরবরাহ প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কমিউনিটি প্রোগ্রাম এন্ড কনজুমার রিলেশন বিভাগ নামে আলাদা একটি বিভাগ চালু করে। ইতোমধ্যে রাজধানীর বড় দুটি বস্তি করাইল ও সাততলায় নিরবিচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। আর আজ মিরপুরস্থ কালশী এলাকায়ও পানির সংযোগ প্রদান করা হলো।
মিরপুরস্থ কালশী বস্তিতে ইউনিসেফের অর্থায়নে পানির ২৭৮টি বৈধ সংযোগ দেয়া হচ্ছে। এতে ৬ হাজার পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে। পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে প্রায় ১৩ হাজার পরিবারের ৬০ হাজার মানুষ। তবে পানির অন্য আবাসিক গ্রাহকদের মতো এ এলাকার জনগণেরও প্রতি ইউনিট (এক হাজার লিটার) পানির দাম ৮ টাকা ৪৯ পয়সা দিতে হবে।


মন্তব্য