kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'বর্তমানে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ১৮:৪৮



'বর্তমানে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে'

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, বর্তমানে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভসহ ১৪ হাজার ৯৮০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।
তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য দিদারুল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে সরকার ক্ষমতায় আসার সময় বিদ্যুতের অবস্থা শোচনীয় ছিল। বিদ্যুৎখাতে তাৎক্ষণিক পরিকল্পনার আওতায় ছোট ছোট ভাড়া ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়। তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলশ্রুতিতে বিদ্যুতের অবস্থার ব্যাপক উন্নীত হয় এবং লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে পৌঁছায়।  
নসরুল হামিদ বলেন, বর্তমানে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েই চলছে। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, যুগোপযোগী বাস্তবসম্মত টেকসই পরিকল্পনা প্রণয়নপূর্বক জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য গ্যাস ও এলএনজি ভিত্তিক বড় এবং কয়লা ও পারমাণবিক শক্তি নির্ভর বৃহৎ বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর আওতায় ২০২১ সাল নাগাদ সবার জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার কার্যক্রম চলছে।
নসরুল হামিদ বলেন, বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি খাতে ১০ হাজার ৭৪৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৭৬৯ মেগাওয়াট গ্যাস ভিত্তিক, ১৫৮৮ মেগাওয়াট ডুয়েল-ফুয়েল ভিত্তিক ও ৫ হাজার ৯২৫ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি খাতে ৫ হাজার ৪৫৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৮৩১‘ মেগাওয়াট গ্যাস ভিত্তিক ৪২০ মেগাওয়াট ডুয়েল-ফুয়েল ভিত্তিক ও মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।
হামিদ বলেন, ৬ হাজার ৮৯৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ পরিকল্পনাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক ও ৭৫০ মেগাওয়াট এলএনজি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে।
তিনি বলেন, এছাড়াও পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি পরমাণু শক্তি নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ আমদানি কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
সরকারি দলের সদস্য মোঃ সোহরাব উদ্দিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ‘সবার জন্য বিদ্যুৎ’ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার গ্যাস বা এলএনজি ভিত্তিক বড় এবং কয়লা ও পারমাণবিক শক্তি নির্ভর বৃহৎ বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ প্রাপ্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।
সরকারি দলের সদস্য গাজী ম ম আমজাদ হোসেন মিলনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে ৮৫০০-৮৯০০ মেগাওয়াট, এর বিপরীতে গড় উৎপাদন ৮৫০০-৮৮০০ মেগাওয়াট। এছাড়া সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতার দরুণ মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন নতুন নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ এবং টেকসই ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সঞ্চালন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।  
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ সহজলভ্য এবং জনসাধারণের প্রত্যাশিত মূল্যের আওতায় রাখার লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক অফসোর ও অনসোর-এ জ্বালানি গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ দ্রুততার সাথে চলছে। এছাড়াও পরমাণু শক্তি নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কয়লাভিত্তিক বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গ্যাসভিত্তিক বৃহৎ বেজলোড প্ল্যান্ট ও কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। এ উদ্যোগসমূহের ফলে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।


মন্তব্য