kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্মার্ট কার্ড নারিগকত্ব পরিচয়ের অনন্য দলিল : সিইসি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:০১



স্মার্ট কার্ড নারিগকত্ব পরিচয়ের অনন্য দলিল : সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেছেন, স্মার্ট কার্ড নারিগকত্ব পরিচয়ের অনন্য দলিল। আপনারা এটি যত্ন সহকারে রাখবেন।

 
সরকার আপনাদের উন্নয়নে অনেক কিছু করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে সেই সাথে আপনাদেরও অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিজেদেরকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।
আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার কালিরহাট বাজারে আয়োজিত স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।  
দাসিয়ারছড়ার নতুন ২০জন নাগরিকের হাতে তিনি স্মার্ট কার্ড তুলে দেন। এসময় উপস্থিত দাসিয়ারছড়াবাসিদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। করতালির মধ্যদিয়ে কার্ড পাওয়ার এ আনন্দকে অভিবাদন জানায় উপস্থিত জনতা।  
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, অতীতে রাজা, জমিদারদের দাবাখেলায় হারজিতের মধ্যদিয়ে এ ছিটমহলের জন্ম হয়। পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকার কিংবা পাকিস্তান সরকার এ ছিটমহল সমস্যার সমাধান করেনি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্দিরা গান্ধির প্রচেষ্টায় ছিটমহল বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুটনৈতিক বিজয়ের মধ্যদিয়ে গত বছরের ১ আগস্ট ছিটমহলবাসী স্বাধীন হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বিলুপ্ত ছিটমহলবাসী জাতীয় পরিচয়পত্র লাভের গৌরব অর্জন করল।  
কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীদের উদেশ্যে আরো বলেন, স্মার্ট কার্ড বিদেশ থেকে আমদানী করা হয়েছে। কাজেই যতেœর সাথে রাখতে হবে এ মুল্যবান কার্ড। এ কার্ড কাউকে দেয়া যাবে না। বা হারিয়ে গেলে এ কার্ড পেতে ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার হবে। এ কারণে এটি সংরক্ষণে অনেক বেশী সাবধান হতে হবে।
তিনি বলেন, এ কার্ড অন্যের হাতে গেলে অপব্যবহারে সম্ভাবনা রয়েছে। আপনারা সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করুন। আর এসব সুযোগ যথাযথ কাজে লাগাতে হলে নিজেদের যোগ্য হিসাবে গড়ে তুলুন।  
জেলা প্রশাসন ও জেলা নির্বাচন অফিস যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ, কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ, কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক, এন আই ডি প্রকল্পের মহাপরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান সালেউদ্দিন, জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব বেগম জেসমিন তুলি, অতিরিক্ত সচিব ড. শাহজাহান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ্ প্রমুখ।
স্মার্ট কার্ড পেয়ে অনুভুতি ব্যক্ত করে চম্পা খাতুন ও আশরাফুল আলম বলেন, ‘আমরা আজ বাংলাদেশী। আজ আমার হাতে নাগরিকত্বের স্মার্ট কার্ড। আমরা স্মার্ট নাগরিক। এ আমাদের পরম প্রাপ্তি। আর এ প্রাপ্তি সম্ভব হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সফল ও যোগ্য নেতৃত্বের কারণে। ’
অনুষ্ঠান নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ বলেন, দাসিয়ারছড়ার ২ হাজার ৫৬২ জন নাগরিককে স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে নারী ১ হাজার ৩০৬ জন এবং পুরুষ ১ হাজার ২৫৬ জন। এসব ভোটারদের ফুলবাড়ী সদর, কাশিপুর ও ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। তারা আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।  
এন আই ডি প্রকল্পের মহাপরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান সালেউদ্দিন জানান, এই স্মার্ট কার্ডে ৩ স্তরবিশিষ্ট ২৫টি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। এটি নকল করা অসম্ভব। এ কার্ডের মধ্যে নাগরিকরা সরকারের ২০টি সেবা গ্রহণ করতে পারবে।  
জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন জানান, ছিটমহল বিনিময়ের এক বছরের মাথায় বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার অধিবাসীরা ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েই পাচ্ছেন স্মার্টকার্ড এনআইডি। পাইলট প্রকল্প হিসাবে এই কাজটি হাতে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নাগরিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ১০ ডিজিটের এই স্মার্টকার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। কাজের শুরুতে কোন ধরনের জটিলতা এড়াতে কাজটিকে দাসিয়ারছড়ায় পাইলট প্রকল্প হিসাবে নেয়া হয়েছে। পরবর্তিতে ফুলবাড়ী উপজেলায় এক লাখ ১৪ হাজার ৩১৯ জন নাগরিকের হাতে স্মার্টকার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। স্মার্টকার্ড বিতরণের সময় দশ আংগুল ও আইরিশের প্রতিচ্ছবি সংগ্রহ করা হবে। তবে এক্ষেত্রে ভোটাদের হাতে থাকা পুর্বের লেমিনেটেড আইডি কার্ড ফেরত দিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির আন্দোলনের সাবেক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা খান বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে চির কৃতজ্ঞ। তিনি আমাদেরকে ৬৮ বছরের অবরুদ্ধ জীবনের চিরতরে অবসান ঘটিয়ে গত বছর স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। এক বছরের মাথায় প্রথম বারের মত স্মাার্টকার্ড তুলে দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার দিয়েছেন। এ আনন্দ শুধু আমাদের নয় গোটা দেশবাসীর।
দু’দেশের স্থলসীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত দাসিয়ারছড়াসহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি এবং ভারতের অভ্যন্তরের বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল গত বছরের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে বিনিময়ের মাধ্যমে অবসান ঘটে দীর্ঘ দিনের পরাধীনতার।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারি অধ্যাপক মামুনুর রশিদ ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শামিমা সুলতানা।


মন্তব্য