kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'২০২১ সালের মধ্যে সকলের জন্য পরিবেশবান্ধব আবাসন ব্যবস্থা করা হবে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:০৯



'২০২১ সালের মধ্যে সকলের জন্য পরিবেশবান্ধব আবাসন ব্যবস্থা করা হবে'

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, গৃহায়নই উন্নয়নের কেন্দ্র এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ২০২১ সালের মধ্যে সরকার বস্তিবাসী সকল মানুষের জন্য পরিবেশবান্ধব আবাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলায় পরিকল্পিত আবাসন সুবিধা গড়ে তোলা হচ্ছে।

সকলের জন্য আবাসন সুবিধায় সবচেয়ে কম সুদে ব্যাংক ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করতে সরকার পদক্ষেপ নেবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গৃহায়নের জন্য উপকরণও আরো সহজীকরণ করা হচ্ছে। সরকার সারাদেশে ১০০টি যে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল সৃষ্টি করছে তাতে দুই কোটি লোকের জন্য কর্মসংস্থান ও আবাসিক সুবিধা সুনিশ্চিত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আজ বিকেলে রাজধানীর পূর্ত ভবন মিলনায়তনে বিশ্ব বসতি দিবস-২০১৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।  
নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক কে, জেড হোসেন তৌফিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লাহ খন্দকার, নগর গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বজলুল করিম চৌধুরী, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান প্রমুখ।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, নগরমুখী মাইগ্রেশনের চাপ কমাতে হলে প্রতিটি উপজেলায় সরকারি -বেসরকারি উদ্যোগে পরিবেশবান্ধব আবাসিক সুবিধা গড়ে তুলতে হবে। তিনি চীনের গ্রামীণ পরিবেশবান্ধব নগরায়নের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, চীনে ছোট-ছোট গ্রামের মানুষকে একত্রিত করে গ্রীণ সিটি গড়ে তোলা হচ্ছে।  
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আবাসন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের টাকা যাতে বিদেশে চলে না যায় তার জন্য সরকারকে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ব্যাংক ঋণের মেয়াদ কমপক্ষে ৩০ বছর করতে হবে এবং সুদের হার হতে হবে চার থেকে পাঁচ ভাগ। বিশ্বের অনেক দেশেই এমন সুবিধা চালু রয়েছে।  
তিনি বলেন, আমাদের দেশের জনসংখ্যার তুলনায় জমির পরিমাণ কম বলে মন্ত্রণালয় বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করছে। উত্তরা তৃতীয় পর্ব, পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় প্রায় এক লাখ ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব ফ্ল্যাট গ্রহণযোগ্য মূল্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিক্রি করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লাহ খন্দকার বলেন, ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার সুনিশ্চিত করার মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য আবাসন ব্যবস্থা করা হবে। সরকার আগামী ৩ বছরের মধ্যে ২০ হাজার লোকের আবাসন ব্যবস্থা করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।  
নগর গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের শতকরা ৩০ ভাগ মানুষ ভূমিহীন। উন্নত অনেক দেশ আছে যাদের ৯৪ ভাগ ভূমিহীন কিন্তু তাদের আবাসন সুবিধা আছে। তিনি জাতীয় গৃহায়ন নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সকলের জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য দাবি জানান।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বজলুল করিম চৌধুরী বলেন, সরকার আর জমি বরাদ্দ না দিয়ে ফ্ল্যাট তৈরির মাধ্যমে সকলের জন্য আবাসন সুবিধা সুনিশ্চিত করার পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে চায়।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান বলেন, ভূমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে আবাসন সুবিধা দিতে জাতীয় গৃহায়ন নীতি চূড়ান্ত করেছে।


মন্তব্য