kalerkantho

সোমবার । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৮ ফাল্গুন ১৪২৩। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'বাংলাদেশে অতিদরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমে ১২ দশমিক ৯ শতাংশ'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ১৭:৫৮



'বাংলাদেশে অতিদরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমে ১২ দশমিক ৯ শতাংশ'

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মানব উন্নয়ন সূচকের অগ্রগতির কারণে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা মোট জনগোষ্ঠীর ১২ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে।  
এর আগের ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে অতি দারিদ্র্যের হার ছিল ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ। মাথাপিছু আয়ের তুলনায় বাংলাদেশে দারিদ্র হ্রাসের হার অনেক বেশি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন পাশ্ববর্তী ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও ভূটানের চেয়ে ভাল।  
সোমবার বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে এই হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।  
এ উপলক্ষে বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার আবাসিক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বাংলাদেশের অর্থনীতির হালনাগাদ প্রতিবেদন তুলে ধরেন। এতে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান বক্তব্য দেন।
জাহিদ হোসেন বলেন, জীবনযাত্রার মানদন্ডের বিচারে বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং অতি দারিদ্রসীমা নির্ধারণে পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনায় বাংলাদেশ দারিদ্র বিমোচনে ভাল করেছে। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) হিসাব অনুযায়ী দরিদ্র মানুষের সংখ্যা শূণ্যে নামিয়ে আনতে জিডিপি প্রবিৃদ্ধি ৮ দশমিক ৮ শতাংশে নিয়ে যেতে হবে। অথবা ৬ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রেখে এসডিজি অর্জন সম্ভব যদি প্রবৃদ্ধিকে অধিক অন্তর্ভূক্তিমুলক করা যায়।
তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি, সামাজিক নিরাপত্তা বলয় জোরদার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার সম্প্রসারণ এবং এই জনগোষ্ঠীর উৎপাদিত পণ্য বিপনন ব্যবস্থা উন্নত করার মাধ্যমে প্রবৃদ্ধিকে অধিক অন্তভৃূক্তিমুলক করা যেতে পারে। অন্তর্ভূক্তিমুলক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলে ২০৩০ সালের আগেই বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ২ দশমিক ৮৮ শতাংশে নেমে আসবে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ৩ শতাংশের নিচে নেমে এলে,তাকে শূণ্য দারিদ্র বলে হিসাব করা হয়েছে।  
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের ১২ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষের দৈনিক আয় এখন এক দশমিক ৯০ মার্কিন ডলারের কম।
বিশ্বব্যাংক গত অর্থবছরে অর্জিত ৭ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধিকে ভিত্তি ধরে অতি দারিদ্র্যের হার হিসাব করেছে।
জাহিত হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক মানদন্ডে কোনো দেশের দারিদ্র্যের হার বলতে মূলত অতি দারিদ্রকে বোঝানো হয়। প্রত্যেক অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির ভিত্তিতে বিচার করে বিশ্ব ব্যাংক এই হার ঠিক করে।  
সেই হিসেবে ২০১০-১১ সময়ে বাংলাদেশে অতি দারিদ্র্যের হার ছিল ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ,২০১১-১২ অর্থবছরে ছিল ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ,২০১২-১৩ অর্থবছরে ছিল ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ,২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ছিল ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ছিল ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ।
চলতি অর্থবছর ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে। সেক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী চলতি অর্থবছর অতি দারিদ্রের হার ১২ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসবে।
উল্লেখ্য, এবারের বাজেটে চলতি অর্থবছর প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ।
চিমিয়াও ফান বলেন, বাংলাদেশ আর্থিক প্রবেশাধিকার, জন্ম নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এতে জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ দারিদ্র হ্রাসে সাফল্য পেয়েছে।
তিনি দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোখাত শক্তিশালী করার পরামর্শ দেন।
উল্লেখ্য, যাদের আয় দৈনিক এক দশমিক ৯০ ডলারের কম, বিশ্বব্যাংক তাদের অতি দরিদ্র বলে চিহ্নিত করেছে।


মন্তব্য