kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'ব্যাংক রিজার্ভ হতে খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ২০:২৩



'ব্যাংক রিজার্ভ হতে খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে'

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, গত ৪ ফেব্রুয়ারি হ্যাকিং এর মাধ্যমে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হতে খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)সহ সংশ্লিষ্ট সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আজ অর্থমন্ত্রীর পক্ষে সরকারি দলের বেগম লায়লা আরজুমান বানুর এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।


তিনি বলেন, এ বিষয়ে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সাথে যোগাযোগ করা হয় এবং সে প্রেক্ষিতে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক রিজ্যাল কমার্সিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) বিরুদ্ধে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিপাইনের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ‘এন্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের (এএমএলসি)’ উপর অর্পণ করে।  
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফিলিপাইন (এএমএলসি এর প্রাথমিক তদন্ত এবং সিনেট শুনানী অনুযায়ী এ ঘটনার সাথে সে দেশের আরসিবিসি ব্যাংক, একটি মানি রেমিট্যান্স কোম্পানি ও তিনটি ক্যাসিনো এবর্ং এর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায় এবং এএমএলসি কর্তৃক ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যদের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।  
মান্নান বলেন, ফিলিপিনো-চাইনিজ ব্যবসায়ী কিম অং এর কাছে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের খোয়া যাওয়া অর্থ মোট ১৫.২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এএমএলসি বরাবরে নগদে ফেরত প্রদান করেন। পরবর্তীতে উক্ত অর্থ বাংলাদেশকে ফেরত প্রদানের জন্য এএমএলসি ও কিম অং কর্তৃক আদালতে একটি জয়েন্ট মোশন দাখিল করা হয়। আদালত কর্তৃক গত ১ জুলাই উক্ত অর্থের বিষয়ে ‘পার্র্শিয়াল ফরফেইচার অর্ডার’ জারি করে। এ প্রক্রিয়ায় ফিলিপাইনের স্থানীয় আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক এফিডেভিটের মাধ্যমে আদালতে এ অর্থ ফেরত প্রদানের জন্য আবেদনের বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রয়োজনীয় এফিডেভিটসহ অন্যান্য দলিলাদি সরবরাহ করা হয় এবং বাংলাদেশ কর্তৃক প্রেরিত এমএলএ রিকুয়েস্ট এর আওতায় ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস বাংলাদেশের পক্ষে আদালতে উক্ত অর্থ ফেরতের আবেদন করে।  
তিনি বলেন, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইনের একটি আদালত ১৫.২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুকূলে ফেরত প্রদানের জন্য আদেশ প্রদান করে। বর্তমানে এ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে স্থানান্তরের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক আরসিবিসি ব্যাংকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ১ বিলিয়ন পেসো (আনুমানিক ২১ মিলিয়ন মাঃ ডলার) জরিমানা আরোপ করা হয়েছে যাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ খোয়া যাওয়ার সাথে ব্যাংকটির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়েছে।  
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধারে বিশ্বব্যাংক ও ইন্টারপোল বাংলাদেশকে সহযোগিতা প্রদান করছে। ইন্টারপোলের উদ্যোগে ইতোমধ্যে ফিলিপাইনে একটি কেস কর্ডিনেশন মিটিং হয়েছে।  
তিনি বলেন, ১৬ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ব্যাংক, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক নিউইয়র্ক এবং সুইফট ব্যাংকের মধ্যে দ্বিতীয় ত্রিপক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সকল পক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংকের খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধারে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। এ প্রেক্ষিতে একটি যৌথ ঘোষণা পত্র জারি করা হয়। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকসমুহের মাধ্যমে আরসিবিসি ব্যাংকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে মর্মেও মতামত প্রদান করে।  
মান্নান বলেন, রিজার্ভ খোয়া যাওয়া ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গত ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় এজাহার দাখিল করে, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০১৬ এবং বাংলাদেশ দন্ডবিধির আলোকে মামলা হিসেবে গৃহীত হয়েছে। বর্তমানে সিআইডি এ ঘটনায় দেশী-বিদেশী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সাইবার ক্রাইম, মানিলন্ডারিং ও খোয়া যাওয়া-প্রতারণা সংক্রান্ত অপরাধের তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এ অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তি সে দেশী বা বিদেশী যেই হোক না কেন, সম্ভাব্য সকল আইনের আওতায় তাকে আনা হবে মর্মে সরকার বদ্ধপরিকর।
তিনি জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বলেন, যথাসময়ে অবশ্যই রিজার্ভ খোয়া যাওয়ার বিষয়ে তদন্ত রিপোর্ট অবশ্যই প্রকাশ করা হবে।  


মন্তব্য