kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পাকিস্তানের গণতন্ত্রে ভারসাম্য নেই : পারভেজ মোশাররফ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০৯:২৭



পাকিস্তানের গণতন্ত্রে ভারসাম্য নেই : পারভেজ মোশাররফ

পাকিস্তানের গণতন্ত্রে কোনো ভারসাম্য নেই। দেশটির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দেশটির পরিবেশের উপযোগী করে গড়ে ওঠেনি আর এই কারণেই প্রায় সময়ে সেনাবাহিনীকে রাষ্ট্র পরিচালনার সামনের সারিতে এসে ভূমিকা রাখতে হয় বলে দাবি করেছেন সাবেক সেনাশাসক পারভেজ মোশাররফ।

ওয়াশিংটন আইডিয়াস ফোরামে বৃহস্পতিবার দেওয়া সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে করা এক প্রতিবেদনে সাবেক পাকিস্তানি জেনারেলের এই মন্তব্যের কথা জানায় ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। প্রতিবেদনে পাকিস্তানকে নির্দেশনা দেওয়ার মতো করে দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হলে এমন পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন বর্তমানে দেশের বাইরে বসবাস করা সাবেক এই সেনাশাসক।

মোশাররফ বলছেন, পাকিস্তানের সহজাত দুর্বলতা হচ্ছে যে দেশটির গণতন্ত্র সেটির পরিবেশকে নির্দেশনা দেওয়ার মতো করে গড়ে ওঠেনি। এর ফলে সামরিক বাহিনী গণতান্ত্রিক পরিবেশে লাগাম টানতে বাধ্য হয়, বিশেষত যখন শাসনকার্যে বিশৃঙ্খলা চলে এবং পাকিস্তানের সব আর্থসামাজিক সূচকগুলো নামতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের জনগণ ব্যাপকভাবে দেশটির সেনাপ্রধানের কাছে ছুটে যায় দাবি করে সাবেক এই সেনাশাসক বলেন, এভাবেই সেনাবাহিনী (ক্ষমতায়) জড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তানের জনগণ সেনাবাহিনীকে ভালোবাসে এবং তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু আশা করে।

পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর থেকে দেশটির সেনাবাহিনী সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বলেও মন্তব্য করেন ১৯৯৯ সালে এক সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখল করা মুশাররফ। তিনি বলেন, মূলত তথাকথিত গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারগুলোর বিশৃঙ্খল শাসনকার্যের কারণে দেশ পরিচালনায় সেনাবাহিনী অগ্রবর্তী ভূমিকা পালন করেছে। এসব কারণে পাকিস্তানে সেনা শাসন আসে এবং সেনাবাহিনী উচ্চপর্যায়ের ক্ষমতা ভোগ করে বলেও মন্তব্য করেন পারভেজ মোশাররফ।

পারভেজ মোশাররফ ২০০৮ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর স্বেচ্ছা নির্বাসনে যান। চার বছর লন্ডন ও দুবাইয়ে কাটিয়ে ২০১৩ সালে নির্বাচনের আগে দেশে ফিরে বেশ কয়েকটি মামলার মুখে পড়েন তিনি। সাক্ষাৎকারে আবারও দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে পারভেজ মোশাররফ বলেন, আমি জানি বিচার প্রক্রিয়ার পুরোটাই রাজনৈতিক। এটার মুখোমুখি হতে হবে। ঝুঁকি ছাড়া প্রাপ্তি নেই, যা তারা বলে। সবশেষে সাবেক সেনাশাসক মোশাররফ বলেন, দেশে ফিরে যাব এবং শাসনভার নেব এ রকম কোনো উচ্চাশাই আমার নেই। আমি চাই জনগণ ভালোভাবে পাকিস্তান চালাক, কারণ পাকিস্তান আমার গর্ব।

 


মন্তব্য