kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

ঢাকায় লেগুনা চালাচ্ছে ১৫ বছরের শিশু, ঝুঁকিতে যাত্রীরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ অক্টোবর, ২০১৬ ০৮:৪৩



ঢাকায় লেগুনা চালাচ্ছে ১৫ বছরের শিশু, ঝুঁকিতে যাত্রীরা

বাংলাদেশে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ হলেও সড়ক পরিবহনে এর ব্যবহার বৃদ্ধির প্রবণতাকে উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করছেন বিশ্লেষকরা।

রাজধানী ঢাকাতেই শিশুরা বাসের হেলপার হিসেবে কাজ করছে এবং এমনকি অনেক শিশু লেগুনার মতো ছোট বাহন চালাচ্ছে, যা এই শিশুদের পাশাপাশি যাত্রীদেরও ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও পরিস্থিতিটাকে স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন, শিশুশ্রম বন্ধের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে এখন সড়ক পরিবহনের জন্য আলাদা একটি আইন তৈরির উদ্যোগ তারা নিয়েছেন।

ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় নগরীর ভিতরের সব রুটের যাত্রীবাহী বাস থামে। ১৫ জনের মতো যাত্রী বহনকারী লেগুনা এবং টেম্পোও ফার্মগেট থেকে নগরীর বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। এই বাহনগুলোর হেলপার হিসেবে মূলত শিশুদেরকেই কাজ করতে দেখা যায়। অনেক লেগুনায় শিশুরাই স্টিয়ারিং হাতে চালকের আসনে বসেছে।

একটি লেগুনার চালক তাকবির হোসেনের বয়স এখন ১৫ বছর। দুই বছর আগে নরসিংদী থেকে মামার সাথে ঢাকায় এসে কয়েক দিন লেগুনায় হেলপার হিসেবে কাজ করেছেন। এরপর নিজেই চালকের আসনে বসেছেন। বাবা নেই। মা এবং ছোট দুই বোনকে নিয়ে অভাবী সংসারের হাল ধরতে তাঁকে ঝুঁকি নিয়ে এই কাজ করতে হচ্ছে।

১৫ বছর বয়সী এই চালক নিজেও জানেন যে তিনি একটি ঝুঁকির কাজ করছেন। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই যাত্রীতে পূর্ণ হয়ে যায় তাঁর লেগুনাটি। এর যাত্রীরাও বলেন, ঝুঁকির বিষয় জেনেও বাধ্য হয়েই তারা চলাচল করেন।

মিনিবাস, লেগুনা এবং টেম্পোর কয়েকজন হেলপার কয়েকজনের সাথেও কথা হয়। যাদের বয়স বারো বছরের নিচে। সূর্য ওঠার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাস্তায় ঝুঁকির এই কাজ তাদের কাবু করে দেয়। কিন্তু কোনো উপায় নেই বলে তারা বলছে।

একটি মিনিবাসের চালক রমজান আলী বলছিলেন, শিশু হেলপার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় তাঁর মনেও প্রশ্ন জাগে। কিন্তু তাঁকে মেনে নিতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদেশি ক্রেতাদের চাপের কারণে গার্মেন্টসহ রপ্তানি খাতের কারখানাগুলোতে শিশুশ্রম ব্যবহার বন্ধ হয়েছে। কিন্তু পরিবহন খাতে কোনো নজরদারি না থাকায় সেখানে অল্প পারিশ্রমিকে শিশুদের ব্যবহার বাড়ছে।

শ্রমিকের অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন একটি বেসরকারি ফোরাম বিলস এর সুলতানউদ্দিন আহমেদ বলছিলেন, "টেম্পো বা বাসে ঝুলে যখন শিশুরা কাজ করছে, তখন ধুলো-বালি-ধোঁয়া তাদেরকে অসুস্থ করে ফেলে। একটা প্রজন্মই তৈরি হচ্ছে, যাদের আচরণ বা জীবনযাপন সমাজে গ্রহণ করার মতো নয়। "

উদ্বেগের এই বিষয়ে পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তাঁর নিজেরও ধারণা আছে বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলছিলেন, "অনেক গাড়ির হেলপারের বয়স ১২ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। এর চেয়ে কম বয়সেরও আছে। এটা একটা বিপজ্জনক প্রবণতা। অনেক সময় দেখা যায়, ড্রাইভার ক্লান্ত হয়ে হেলপারকে দিয়ে গাড়ি চালায়। তখন দুর্ঘটনা হয়। "

তিনি আরও বলেন, এখন শিশুশ্রম বন্ধে আইনের কড়াকড়ি করার বিষয়ে তারা ভাবছেন। সে জন্য শ্রম আইনসহ বিভিন্ন আইন থাকলেও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করে সড়ক পরিবহনের জন্য সরকার আলাদা আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে তা পাস করার চেষ্টা তারা করছেন।

তবে সড়ক পরিবহনে শিশু শ্রমিকের কোনো পরিসংখ্যান সরকার বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কারও কাছে নেই।


মন্তব্য