kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:৩৭



'ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে'

ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বলেছেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য মোঃ আফজাল হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।


মন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ জরিপে প্রণীত মৌজাম্যাপ ও খতিয়ানের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের অবশিষ্ট ৫৫টি জেলার সকল উপজেলা বা সিটি সার্কেলের ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (ডিএলএমএস) প্রস্তুতকরণ ও প্রবর্তন এবং সকল মৌজার সি এস (ক্যাডাস্ট্র্যাল সার্ভে), এস এ (স্টেট একুইজিশন) ও আর এস (রিভিশনাল সার্ভে) জরিপে প্রণীত বিদ্যমান মৌজাম্যাপ ও খতিয়ান সম্বলিত ডিজিটাল ভূমি তথ্য ব্যবস্থা (ডিএলআইএস) প্রতিষ্ঠা করার জন্য সম্পূর্ণ জিওবি অর্থে ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ, রেকর্ড প্রণয়ন ও সংরক্ষণ প্রকল্প’ (১ম পর্যায় : কম্পিউটারাইজেশন অব এক্সিসটিং মৌজাম্যাপস এন্ড খতিয়ান প্রজেক্ট) প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, এটুআই থেকে দেয়া ১ম সফটওয়্যারের মাধ্যমে ৫২টি জেলায় ৪৩ লাখ খতিয়ান এবং ইএলআরএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলায় গত ৬ জুন পর্যন্ত ২৬ লাখ ১১ হাজার ৩০৬টি খতিয়ানের ডাটা এন্ট্রি হয়েছে।
তিনি বলেন, এটুআই প্রস্তুতকৃত নতুন সফটওয়্যারে উপর প্রশিক্ষণ সমাপান্তে ৫০টি জেলায় নতুন সফটওয়্যার জিআরআর’র মাধ্যমে গত মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত ২৩ লাখ ৩৭ হাজার ৬৯৪টি খতিয়ানের ডাটা এন্ট্রি করা হয়েছে। ৩টি সিস্টেমে এ পর্যন্ত মোট ৯২ লাখ ৪৯ হাজারটি খতিয়ানের ডাটা এন্ট্রি হয়েছে।
জাতীয় পাটি’র সদস্য এ কে এম মাঈদুল ইসলামের অপর এক প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ৭টি জেলার ৪৫টি উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (ডিএলএমএস) প্রস্তুতকরণ ও প্রবর্তন এবং জনগণকে ভূমির তথ্যাদি সম্পর্কিত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ২০টি উপজেলায় ২০টি ভূমি তথ্য সেবা কেন্দ্র (ল্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস সেন্টার) স্থাপনের নিমিত্ত আন্তর্জাতিক ক্রয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহায়তায় ‘স্ট্রেংদেনি গভর্ন্যান্স ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট (কম্পোনেন্ট-বি)’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় ৬৫ লাখ খতিয়ান স্ক্যান করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ইতোমধ্যে ৭৫ লাখ খতিয়ান পৃষ্ঠা স্ক্যানিং ও ইনডেক্সিং করা হয়েছে। এছাড়া ৩ লাখ ৭৫ হাজার খতিয়ানের ডাটা এন্ট্রির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
শামসুর রহমান বলেন, ১৮ হাজার ৫শ’টি ম্যাপসীট স্ক্যানের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৯ হাজার ৭০১টি ম্যাপসীট স্ক্যানিং ও ইনডেক্সিং করা হয়েছে।  
শরীফ বলেন, ৫টি এলসি’র মধ্যে ৪টি এলসি খোলা হয়েছে। জেলা ও উপজেলায় ৫৩টি অফিসের মধ্যে ৩১টির সিভিল এন্ড ইলেকট্রিক্যাল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ২২টি’র কাজ চলতি মাসে সম্পন্ন হবে।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, ২০টি ভূমি তথ্য সেবা কেন্দ্রের মধ্যে ১১টি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ৯টির কাজ চলতি মাসে সম্পন্ন হবে।
তিনি বলেন, সারাদেশের বিভিন্ন উপজেলায় ভূমি সংক্রান্ত সেবা সহজীকরণের লক্ষ্যে ইনোভেশন করা হচ্ছে। এ ইনোভেশনগুলোর ধারণাকে সমন্বয় করে সমন্বিতভাবে সারাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও সেবা প্রদান পদ্ধতিকে অটোমোশন করার লক্ষ্যে ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্প’ নামক একটি নতুন প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
শামসুর রহমান শরীফ বলেন, বাংলাদেশ ডিজিটাল ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রম প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন ফান্ড (ইডিসিএফ)’র আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ইস্টাবলিস্টমেন্ট অফ ডি ডিজিটাল ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রজেক্ট করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংক এবং ইআরডি’র মধ্যে উল্লেখিত প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


মন্তব্য