kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ ১২৫টি দেশে ঔষধ রপ্তানি করছে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২০:৪৫



বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ ১২৫টি দেশে ঔষধ রপ্তানি করছে

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত ঔষধ ও এর কাঁচামাল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের ১২৫ দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঔষধ শিল্পে জিএমপি অনুশীলনে অগ্রগতি ও উৎপাদিত ঔষধ আন্তর্জাতিক মান-সম্পন্ন বিধায় রপ্তানি আগামী দিনে আরো বাড়বে।


তিনি আজ সংসদে স্বতন্ত্র সদস্য মোঃ আব্দুল মতিনের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ঔষধ আমদানিকারক দেশের পরিবর্তে রপ্তানিক দেশ হিসেবে গৌরব অর্জন করেছে। দেশীয় চাহিদার শতকরা প্রায় ৯৮ ভাগেরও বেশি ঔষধ বর্তমানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়।
নাসিম বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত ঔষধ বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যে উৎপাদনকারীদের উৎসাহ বৃদ্ধিকল্পে সরকার বদ্ধপরিকর। সরকার এ ব্যাপারে উৎপাদনকারীদের প্রতিনিয়ত সুবিধাদি প্রদান করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ঔষধের রপ্তানির বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দেশের ঔষধ শিল্প সমিতি, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বৈদেশিক মিশন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের সাথে যৌথভাবে বিষয়টি নিয়ে মত বিনিময়সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তৎপর রয়েছে।
তিনি বলেন, এছাড়া ঔষধ রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের তরফ থেকে বিভিন্ন দেশে প্রতিনিধি পাঠানোর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের উচ্চ পর্যায়ের নীতি নির্ধারকগণের সঙ্গে মতবিনিময়কালেও ঔষধ রপ্তানির বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রপ্তানি বাজারের উজ্জ্বল সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়ায় ঔষধ প্রশাসন থেকে রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সকল কর্মকান্ড সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঔষধ প্রস্তুতকারী কারখানাগুলোকে সরকারে পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। ঔষধ শিল্পের সামগ্রিকভাবে আত্মনির্ভশীল হওয়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সরকার ঢাকা অদূরে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় ঔষধের কাঁচামাল তৈরির জন্য একটি এপিআই পার্ক স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে।
তিনি বলেন, এপিআই পার্কে শিগগিরই ঔষধের কাঁচামাল উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশে উৎপাদিত ঔষধের কাঁচামাল বাংলাদেশের চাহিদা মিটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে ঔষধ রপ্তানিকারকদেরকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ঔষধ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসমূহকে একই ধরনের সহায়তা প্রদানের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
সরকারি দলের সদস্য মোঃ ইসরাফিল আলমের অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ঔষধ প্রস্তুতকারী কারখানাগুলোর কার্যক্রম এবং তাদের উৎপাদিত ঔষধের গুণগতমান নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ চলমান রয়েছে। ঔষধ প্রস্তুতকারী কারখানাগুলোর কার্যক্রম ও গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের অধীন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর রয়েছে।
তিনি বলেন, জীবন রক্ষাকারী নকল ঔষধ উৎপাদন ও বিক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ও জেলা পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাগণ প্রতিদিন ঔষধের নকল বা ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে।


মন্তব্য