kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এসসিআরএফ'র গোলটেবিল বৈঠকে বিশিষ্টজনরা

'নৌ খাতের উন্নয়নে বাধা অনিয়ম-দুর্নীতি ও অদূরদর্শিতা'

নিজস্ব প্রতিবেদক    

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:০৪



'নৌ খাতের উন্নয়নে বাধা অনিয়ম-দুর্নীতি ও অদূরদর্শিতা'

শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স রিপোর্টার্স ফোরাম (এসসিআরএফ) আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বিশিষ্টজনরা বলেছেন, জাতীয় স্বার্থে নদ-নদী খনন ও নৌপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন অপরিহার্য। সে ক্ষেত্রে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিও ইতিবাচক।

তবে নৌপরিবহন খাতের উন্নয়নে প্রধান বাধা হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং নীতিনির্ধারকদের অদূরদর্শিতা।

আজ মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে 'বিদ্যমান নৌপরিবহন ব্যবস্থা : সমস্যা ও করণীয়'- শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসসিআরএফ'র সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম সবুজের সঞ্চালনায় বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নৌসড়ক ও রেলপথ রক্ষা  জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে। বক্তব্য দেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ক্যাপ্টেন এ কে এম শফিকউল্লাহ, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তাসনীম রানা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মীর তারেক আলী, গণতন্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুর রহমান সেলিম, অভ্যন্তরীণ নৌযান চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান বাদল, বিআইডাব্লিউটি'র সাবেক পরিচালক এমদাদুল হক বাদশা এবং যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াত।

বৈঠকে ক্যাপ্টেন এ কে এম শফিকউল্লাহ বলেন, নৌপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে হবে। স্কুল-কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নদ-নদী ও দুর্ঘটনা সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। সে ক্ষেত্রে জাতীয় বাজেটে নৌখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও নৌযান মালিকদের মধ্যেও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।  

সাবেক এমপি তাসনীম রানা বলেন, "জনবল সংকটের দোহাই দিয়ে এখন শিপ সার্ভেয়াররা তাদের অফিসের পিয়ন-দারোয়ান ও ভাড়াটিয়া লোক দিয়ে নৌযানের সার্ভে করাচ্ছেন। নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে হলে চরম এ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। " অধ্যাপক ড. মীর তারেক আলী বলেন, "নৌপরিবহন ব্যবস্থাকে গণমুখী ও নিরাপদ করতে ত্রুটিমুক্ত নৌযান নির্মাণ ও সঠিকভাবে সেগুলোর ফিটনেস পরীক্ষা (সার্ভে) করতে হবে। এজন্য নৌপরিবহন অধিদপ্তরের শিপ সার্ভেয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অভিজ্ঞ নৌ স্থপতিদের সমন্বয়ে নৌযানের নকশা অনুমোদন সেল গঠন করতে হবে। "  

বদিউজ্জামান বাদল বলেন, "নৌপথ সচল রাখতে কয়েক বছর যাবত নদ-নদী খননে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিআইডাব্লিউটিএ তাদের ইচ্ছামতো খনন করে। তাদের কাজে কোনো স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নেই। " ড্রেজিং কাজে লঞ্চ মালিকদের সম্পৃক্ত করার দাবি জানান তিনি। নুরুর রহমান সেলিম বলেন, "নৌপথের পলি অপসারণের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থের সীমাহীন অপচয় হচ্ছে। এ টাকা বিআইডাব্লিউটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছুসংখ্যক প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা লুটেপুটে খাচ্ছেন। এ ছাড়া নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সার্ভেয়ার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নৌযানের নিবন্ধন, সার্ভে এবং নাবিক পরীক্ষায় অনিয়ম করছে। এটা বন্ধ করতে হবে। "


মন্তব্য