kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'দারিদ্র্য নিরসনে সরকার মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:৫৩



'দারিদ্র্য নিরসনে সরকার মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে'

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দেশের দারিদ্র্য নিরসনে বর্তমান সরকার মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ’র এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।


মন্ত্রী বলেন, এ জন্য সরকার বিগত মেয়াদে ‘রূপকল্প : ২০২১’ সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে ‘বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০১০-২১)’ প্রণয়ন করে। পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় গৃহীত সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যসমূহের অন্যতম হচ্ছে : ‘২০২১ সাল নাগাদ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসকারী জনগণের সংখ্যা বর্তমানে (২০১০) ৩১ দশমিক শতাংশ থেকে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ নামিয়ে আনা। ’
তিনি বলেন, এ দীর্ঘমেয়াদী ‘    প্রেক্ষিত পরিকল্পনা’ পরপর দু’টি মধ্য মেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা তথা : ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১০-১৫) ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (২০১৬-২০) মাধ্যমে বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ছিল। সরকার ২০১১-১৫ অর্থবছরে মেয়াদে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা দলিলে নির্ধারিত অগ্রাধিকার খাত ও অভিষ্ট লক্ষ্যমাত্রাসমূহের অন্যতম ছিলো- ‘দারিদ্র্য সীমার হার ২০১০ সালের ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২০১৫ সালের ২২ দশমিক ৫ নামিয়ে আনা। ’
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ শেষে দেখা যায় যে, ২০১৫ সালে অনুমিত মাথা গুণতি দারিদ্র্য হার ২৪ দশমিক ৮ শতাংশে (প্রাক্কলিত) এসে দাঁড়িয়েছে।  
তিনি বলেন, বর্তমানে ২০১৬ সালে দারিদ্র্যের হার প্রাক্কলন করা হয়েছে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ। দরিদ্রবান্ধব উন্নয়ন কৌশল গ্রহণের কারণেই দারিদ্র্য হার প্রত্যাশিত মাত্রায় কমে আসছে। বাস্তবায়নাধীন সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৬-২০)-এর প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০২০ সাল নাগাদ দারিদ্র্য হার হবে ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ।
মুস্তফা কামাল বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে সরকার দারিদ্র্য দূরীকরণের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে মনে করে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাধ্যমে সরকার এই জনগোষ্ঠীর অনাক্রমতা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির লক্ষ্য হচ্ছে চরম দরিদ্র জনগণের জীবনের ঝুঁকিগুলো মোকাবিলার মাধ্যমে তাদেরকে চরম দারিদ্র্যের বলয় থেকে মুক্ত করা।  
আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, দারিদ্র্য হ্রাসে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্জিত গতিশীলতা এবং হতদরিদ্রদের জন্য টেকসই নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাধ্যমে জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা, অতি দারিদ্র্য ও দুস্থদের জন্য বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ, কাজের বিনিময়ে খাদ্য ও টেস্ট রিলিফ, জিআর ছাড়াও সরকার উদ্ভাবিত একটি বাড়ি একটি খামার, আশ্রয়ণ, গৃহায়ণ, আদর্শ গ্রাম, গুচ্ছ গ্রাম, ঘরে ফেরা প্রভৃতি কর্মসূচির পাশাপাশি ওএমএস, ফেয়ার প্রাইস কার্ড, ভিজিড, বিধবা স্বামী নিগৃহীতা, দুস্থ মহিলা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা, চর জীবিকায়নসহ প্রভৃতি কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।  
তিনি বলেন, এছাড়াও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ, ভিক্ষা বৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠী পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরো যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে এবং টেকসই দারিদ্র্য বিমোচনে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মৌকি চাহিদার প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং রূপকল্প-২০২১ ও ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আলোকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে নীতি ও কৌশল নির্ধারণমূলক একটি ‘জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল’ গ্রহণ করা হয়েছে।  
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এই কৌশলের পটভূমি ও উন্নয়ন প্রেক্ষাপটে দারিদ্র্য দূরীকরণে অতীতের অগ্রগতি এবং চলমান চ্যালেঞ্জ, সামাজিক নিরাপত্তা পদ্ধতির বিবর্তন ও চলমান কার্যসম্পাদন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা লাভ, গৃহীত সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল, কৌশলে অর্থায়ন, সেবা প্রদান শক্তিশালীকরণ, ফলাফল ভিত্তিক পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিষয়গুলোর উপর জোর দেয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এই কৌশলে ৫ বছর মেয়াদী লক্ষ্য এবং দীর্ঘ মেয়াদী অভিষ্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসূচিগুলো জীবনচক্র পদ্ধতির ভিত্তিতে একীভূত করা হয়েছে। জীবন চক্র ভিত্তিক মূল কর্মসূচিগুলো- শিশুদের জন্য কর্মসূচি, কর্ম উপযোগী নাগরিকদের জন্য কর্মসূচি, বয়স্কদের জন্য পেনশন ব্যবস্থা, প্রতিবন্ধীদের জন্য কর্মসূচি এবং ক্ষুদ্র ও বিশেষ কর্মসূচি।
তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন কর্মসূচিতে ৪৫ হাজার ২৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে যা বাজেটের ১৩ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং জিডিপি’র ২ দশমিক ৩১ শতাংশ।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা ও ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এছাড়াও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছর শেসে এ বরাদ্দের প্রায় সম্পূর্ণই ব্যয়িত হবে এবং যা দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যের বেড়াজাল থেকে বের হতে সহায়তা করবে। আগামী বাজেটে এ বরাদ্দ আরো বৃদ্ধি পাবে।


মন্তব্য