kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জানুয়ারিতে চালু হবে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল সংযোগ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:০৮



জানুয়ারিতে চালু হবে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল সংযোগ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় স্থাপিত দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশনটি ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে চালু হতে যাচ্ছে।  
সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন চালু হলে ইন্টারনেটে তাৎক্ষণিকভাবে ২০০ জিবিপিএস সুবিধা পাওয়া যাবে, যা ১৫০০ জিবিপিএস পর্যন্ত সম্প্রসারণযোগ্য।

২০১৩ সালের শেষদিকে ৬৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ।  
নতুন এ সাবমেরিন কেবলটি চালু হলে দেশীয় টেলিকম কো¤পানিগুলোকে বিদেশ থেকে ব্যান্ডউইডথ কিনতে হবে না। নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকবে।
কক্সবাজারের স্থাপিত প্রথম সাবমেরিন কেবল ওয়ানের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি ক্ষমতাস¤পন্ন এ সাবমেরিনটি অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত ব্যান্ডউইডথ রফতানির মাধ্যমে বাংলাদেশ বড় অংকের অর্থ উপার্জনের সুযোগ পাবে। বাড়বে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কো¤পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএলের) মুনাফা।  
এসইএ-এমই-ডব্লিউই ৫ প্রকল্প পরিচালক পারভেজ মনন আশরাফ জানান,এ বছরের শেষ দিকে পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর জানুয়ারিতে ল্যান্ডিং স্টেশনের সঙ্গে এর সংযোগ স্থাপন করবে বিএসসিসিএল। বীচ ম্যানহোল থেকে ল্যান্ডিং স্টেশন পর্যন্ত ফাইবার অপটিক কেবল স্থাপন করা হয়েছে। ১০ একর জমিতে সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশনটির অবকাঠামোগত নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। সমুদ্র থেকে কেবল সংযোগের কাজ প্রায় সম্পন্ন করেছে বিএসসিসিএল।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, সাগরের নিচ দিয়ে ফ্রান্স থেকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা ও মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত ২০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ কেবল স্থাপন করা হয়েছে। ইউরোপ থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে আসা সঞ্চালন লাইন সংযুক্তির জন্য ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের কাজও শেষ পর্যায়ে।  
এছাড়া ফাংশনাল বিল্ডিংয়ের মূল স্থাপনার কাজ স¤পন্ন হয়েছে । ড্রেনেজসহ অবকাঠামোগত অন্যান্য কর্মকান্ডও শেষের দিকে রয়েছে। ডরমিটরি, নিরাপত্তাকর্মীদের ব্যারাক হাউস, রেস্ট হাউস নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এখন চলছে ভবনের সৌন্দর্য বর্ধন ও স্টাফ কোয়ার্টারের কাজ। সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য স্থাপিত নিজস্ব ইলেকট্রিক্যাল কাজ ইতোমধ্যে স¤পন্ন হয়েছে।  
৬৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পটিতে সরকার ১৬৬ কোটি ও বিএসসিসিএল ১৪২ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। প্রকল্পের বাকি টাকার ঋণসহায়তা দিয়েছে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি)।
উল্লেখ্য, দেশে একটিমাত্র সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে ইন্টারনেট সরবরাহ করায় বর্তমানে লাইন কাটা পড়লে বিএসসিসিএলের হাতে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। কিন্তু দ্বিতীয় সাবমেরিন ল্যান্ডিং স্টেশনের মাধ্যমে বিশ্বের তথ্য প্রযুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের সাবমেরিন যোগাযোগ ব্যবস্থার বহুমুখিকরণ করা সম্ভব হবে। ল্যান্ডিং স্টেশনের সংযুক্তির মাধ্যমে ডাটার পরিধি বৃদ্ধি এবং দেশের তথ্য প্রযুক্তির চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে এর সরবরাহ বৃদ্ধি করা হবে এবং সরকার এ খাতে অতিরিক্ত রাজস্ব^ আদায়ের সুযোগ পাবে।  


মন্তব্য