kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সংসদে বিল উত্থাপন

স্বল্প ব্যয়ে দ্রুত ও উন্নত বাসভিত্তিক সেবা দিতে নির্মিত হবে বিআরটি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:০২



স্বল্প ব্যয়ে দ্রুত ও উন্নত বাসভিত্তিক সেবা দিতে নির্মিত হবে বিআরটি

স্বল্প ব্যয়ে ও উন্নত সড়ক নির্ভর বাসভিত্তিক গণপরিবহন সেবা দিতে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) নির্মাণ করা হবে। এ জন্য বিশেষ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ এবং আনুষাঙ্গিক বিধান প্রণয়নে ‘বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) বিল-২০১৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

 

আজ রবিবার রাতে জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিলটি উত্থাপনের পর অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। কমিটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চার সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

সংসদে উত্থাপিত বিলের বিধান অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী জেলার মধ্যে এই বিআরটি স্থাপন ও পরিচালনা করা হবে। বিআরটি পরিচালনার জন্য লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক। তবে শতভাগ সরকারি কম্পানিকে লাইসেন্স ফি দিতে হবে না। সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিআরটি স্থাপন, স্থাপনা ও পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে। লাইসেন্স ছাড়া বিআরটি নির্মাণ, উন্নয়ন বা পরিচালনা করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। অনুমোদন ছাড়া লাইসেন্স হস্তান্তর করলেই একই পরিমাণ জরিমানা দিতে হবে।

প্রস্তাবিত আইনটিতে বিআরটি-এর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বঙ্গবন্ধু সেতু, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল আইন ও পায়রা বন্দর আইনের মতো বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। বিআরটি নির্মাণ বা পরিচালনা হতে পারে এমন কোন স্থানে ক্ষতিপূরণ আদায়ের উদ্দেশে ঘরবাড়ি বা স্থাপনা নির্মাণ করা হলে সংশ্লিষ্ট ভূমির মালিককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না। জমির শ্রেণি পরিবর্তন করলেও কোন ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না। কর্তৃপক্ষের এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ সাত কর্মদিবসের মধ্যে আপিল করতে পারবে।

বিলে বলা হয়েছে, বিআরটির ভাড়া নির্ধারণের জন্য নির্বাহী পরিচালকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি থাকবে। কমিটি বিআরটি পরিচালনা ব্যয় ও জনসাধারণের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করে ভাড়া নির্ধারণের সুপারিশ করবে। বিআরটির প্রতিটি কোচে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, মহিলা, শিশু ও প্রবীণদের জন্য নির্ধারিত সংখ্যক আসন সংরক্ষিত থাকবে। এ ছাড়াও বিআরটি পরিচালনাকালে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তার পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবে। তা ছাড়াও বিআরটি পরিচালনার ক্ষেত্রে সব যাত্রীর বীমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বীমা না করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা করা হবে।

এতে আরো বলা হয়েছে, বিআরটি নির্মাণ ও পরিচালনায় বাধা দিলে এক বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে। কোন ব্যক্তি যদি অনুমতি ছাড়া বিআরটির সংরক্ষিত স্থানে প্রবেশ করে, তাহলে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। কোন ব্যক্তি যদি বিআরটি বাস ও যাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্ন ঘটায়, তাহলে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে। আর বিআরটির টিকিট বা পাস জাল করলে এবং অনুমোদিতভাবে টিকিট বা পাস বিক্রি করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। এছাড়া কারিগরি মান অনুসরণ না করলে লাইসেন্সধারীকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করা যাবে। শুরু থেকেই বিআরটিকে মোবাইল কোর্টের এখতিয়ারে নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে ওই বিলে।

উল্লেখ্য, বিআরটি পরিচালনা করতে ২০১২ সালে গঠিত হয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ। এই কর্তৃপক্ষ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। গত ২৬ জুন বিআরটি নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে গত ৭ মার্চ মন্ত্রীসভার বৈঠকে প্রস্তাবিত ‘বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) বিল-২০১৬’ নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।


মন্তব্য