kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে চিলমারী নদী-বন্দর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪৬



পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে চিলমারী নদী-বন্দর

চিলমারী নদী-বন্দর পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে।  
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুড়গ্রাম সফরকালে এক জনসভায় দেয়া প্রতিশ্রুতির দু’সপ্তাহের মধ্যে সরকার ব্র্রহ্মপুত্র নদের পাড়ের ঐতিহ্যবাহী চিলমারী বন্দরটি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে।

 
নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান নৌ বন্দরটিকে পুনঃচালুকরণে ভিত্তি-প্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্যে আগামীকাল শুক্রবার চিলমারীতে আসছেন । তিনি উপজেলার রমনা ঘাট সংলগ্ন এলাকায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে থানাহাট এ,ইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সুধি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।  
বিভিন্ন সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সময় পাটের কারবারের জন্য বিখ্যাত ছিল কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী চিলমারী বন্দর।
ব্রহ্মপুত্রের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই বন্দরটি পাট বেচাকেনা, প্রসেসিং, দেশী-বিদেশী জাহাজের আসা-যাওয়ার পাশাপাশি দেশের নানা অঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ী ও পাইকারদের আনাগোনায় সে-সময় রাতদিন মুখরিত থাকতো।
এই এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যমতে, চিলমারী বন্দরের পাটের কারবার শুরু হয় তিরিশের দশকে। সীমান্তের ওপারে ভারতীয় রাজ্য আসামের সাথে এক সময় ছিল ফেরি চলাচর সার্ভিস,ছিল কাষ্টমস বিভাগের দপ্তরও। ওই সময় জুট ট্রেডিং করপোরেশনসহ ৩০টি পাটকল কোম্পানী এখানে কারবার করতো। এজন্য স্থাপিত হয় বিশাল বিশাল পাট গুদাম। পাট প্রসেসিং ও বেল তৈরীর মেশিনও স্থাপন করা হয়।  
তথ্যমতে পাট ক্রয়, বাছাই ও বেল তৈরীর কাজে নিয়োজিত ছিল ৯০০ শ্রমিক। এর বাইরে শত শত ব্যাপারী , কৃষক ও ফড়িয়াদের আগমন হতো এখানে। প্রায় ৩০০ গরুর গাড়ি দুর দুরান্ত থেকে এখানে পাট আনতো । এখানকার পাট খুলনা, দৌলতপুর, নারায়নগঞ্জ ও চট্রগ্রামসহ নানা জায়গায় সরবারহ করা হতো। বিদেশেও রফতানি হতো উন্নতমানের পাট।  
১৯৬৭ সালের দিকে বন্দর এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন তীব্র হয়ে ওঠে। ‘৭১’র মুক্তিযদ্ধের সময় নিশ্চিহৃ হয়ে যায় বন্দরটি। লুটপাট হয় অনেক পাট কোম্পানীর মালামাল। দেশ স্বাধীন হবার পর বিলীন হওয়া বন্দরের ৩ কিলোমিটার দুরে রমনা বাজারে কয়েকটি গুদাম ও অফিস নির্মাণ করে আবারও সীমিত আকারে শুরু হয় পাটের কারবার।
১৯৭২ সালে জেটিসি, জিএমসি, লাকি জুট মিলস, বাংলাদেশ জুট মিলস, লতিফ বাওয়ানী, পাল কোম্পানী, হক কোম্পানী, জুট ইন্টারন্যাশনাল এবং বাওয়া জুট মিলসের ব্যবসা জমে ওঠে। এক পর্যায়ে বেসরকারি পাট কোম্পানীর ওপর পাট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা, সীমিত ব্যাংক ঋণ সুবিধাসহ নানা কারণে ধীরে ধীরে চিলমারীর ঐতিহ্যবাহী পাটের কারবার স্তিমিত হয়ে পড়ে। রমনা বাজারের একাংশও ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় বন্দরের কার্যক্রম।  
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হলেও এখনও কুড়িগ্রামের সীমান্ত থেকে ব্রহ্মপুত্রের নৌ-রুটে ভারতের পণ্যবাহী জাহাজ সীমিত আকারে আসাম থেকে কলকাতা যাতায়াত করে । কিন্তু নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় এই রুটে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা কমে গেছে। ভারতের জাহাজগুলো মূলত: এই পথে আসামের শীলঘাট থেকে চাঁদপুর-বরিশাল হয়ে কলকাতা যায়।  
এছাড়াও ভারত বাংলাদেশের নারায়নগঞ্জ থেকে সিমেন্ট আমদানি করে এই রুট দিয়ে। তাদের এই পথ প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার। চিলমারীতে রাজস্ব আদায়ের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একটি শুল্ক ষ্টেশন রয়েছে। কিন্তু জাহাজের সংখ্যা একেবারে কমে যাওয়ায় বন্দরের কোন কর্মমূখরতা নেই।
২০০৯ সালে চিলমারী বন্দরের উজান ও ভাটিতে ৮০ কিলোমিটার নৌ-রুটে নব্যতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বিআইডব্লিউটিএ- সমীক্ষা চালালেও পরবর্তি সময়ে এ বিষয়ে কোন অগ্রগতি হয়নি। ফলে ঐতিহ্যবাহী চিলমারী বন্দরটি মৃত বন্দরে পরিণত হয়। তবে বন্দরটি চালু হলে ভারত ও বাংলাদেধের অন্যান্য নৌ-রুটে সহজ যোগাযোগের কারণে পণ্য আনা নেয়া সহজতর হতো বলে মনে করেন স্থানীয়রা।  
গত ৭ সেপ্টেম্বও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিলমারী উপজেলার থানাহাট এ, ইউ পাাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সুধি সমাবেশে স্থানীয় নেতারা বন্দরটি চালুর দাবী জানালে তিনি চিলমারী উপজেলার স্থায়ী অর্থনৈতিক উন্নয়নে চিলমারী নৌ-বন্দরের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন।  
এর প্রেক্ষিতে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান এমপি শুক্রবার বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে রমনা ঘাট এলাকায় চিলমারী নদীবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে যাচ্ছেন। পরবর্তি সময়ে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদের নাব্যতা বাড়িয়ে বন্দরের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক খান মো: নুরুল আমিন।  
কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো: জাল আলী বলেন, ‘চিলমারী বন্দরটি পুনরায় চালু হলে এই অঞ্চলের মানুষের অথনৈতিক উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখবে’।  


মন্তব্য