kalerkantho


শিশু অধিকার সুরক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান চুমকির

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২০:২১



শিশু অধিকার সুরক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান চুমকির

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি শিশু অধিকার সুরক্ষায় মাতা-পিতা তথা অভিবাককদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।  
তিনি আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) বিএসএসইনফোটেইনমেন্ট ডট নেট আয়োজিত ‘শ্রমজীবী শিশুদের গল্প’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন।
অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করেছে সেন্টার ফর সার্ভিসেস এন্ড ইনফরমেশন অন ডিজএ্যাবিলিটি (সিএসআউডি), অস্ট্রেলিয়ান এইড ও ওয়ার্ল্ড ভিশন।
প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকিসহ অতিথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তথ্য সচিব মরতুজা আহমদ, ওয়ার্ল্ড ভিশনের পরিচালক চন্দন জেড গোমেজ ও সেন্টার ফর সার্ভিসেস এন্ড ইনফরমেশন অন ডিজএ্যাবিলিটি (সিএসআউডি)’র নির্বাহি পরিচালক খন্দকার জহুরুল আলম বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।  
মেহের আফরোজ চুমকি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের সার্বিক যে অবস্থা, তাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে, শিশুদের দিকে বেশি মনোযাগী হওয়া। দেশের জনগোষ্ঠির একটি বড় অংশ হচ্ছে শিশু। এই শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তাদের সুষ্ঠু পরিবেশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টিমান আরও উন্নত করতে হবে। তাহলেই আমাদের সরকারের যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে তা সফল হবে।
প্রতিমন্ত্রী শিশুদের উন্নয়নের বাধা দারিদ্র্য উল্লেখ করে বলেন, শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তির সাথে জড়িয়ে ফেলা হচ্ছে।  
এ প্রসঙ্গে তিনি গতকালের সিদ্ধেশ্বরীতে তাঁর বাসার কাছে এক শিশুর ভিক্ষাবৃত্তির সরেজমিন ঘটনার বর্ণনা করে বলেন, শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ ও শিশুর সার্বিক জীবন মান উন্নয়নে পিতা-মাতা ও অভিবাবকদের আরও সচেতন হতে হবে।

অভিবভাবকেরা সচেতন না হলে তাদের উন্নয়নে কোন লাভ হবে না।  
বর্তমান সরকার সুবিধা বঞ্চিতসহ সব শিশুর উন্নয়নে ব্যাপক ভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে জানিয়ে তিনি অনুষ্ঠানে আরও বলেন, শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সামাজিক নিরাপত্ত বলয়ের মাধ্যমে শিশুদের উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হচ্ছে। পথশিশুদের জন্যও কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারের নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে দূর্যোগকালীন মৃত্যুর হার কমে এসেছে। কিন্তু আমাদের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, শিশুদের মাদক থেকে দূরে রাখা।
আমাদের দেশের ১৬ কোটি মানুষ যদি খেতে-পরতে পারে, তাহলে আমাদের শিশুরা কেন রাস্তায় ঘুরবে-এমন প্রশ্ন রেখে তিনি আরও বলেন, শিশুর উন্নয়ন সরকার একা করতে পারবে না, এজন্য সরকারি-বেসরকারি সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।  
আর এই ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা তথা গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালনের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ লেখনির মাধ্যমে সরকার সঠিক তথ্য পায় এবং সে অনুযায়ি সচেতন হয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারি।  
মেহের আফরোজ চুমকি ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।  
তিনি দেশকে পেছনে ফেলে দেয়ার জন্য একটি চক্র চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, শিশুদের জঙ্গীসহ যে কোন খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখতে মা-বাবাকে সচেতন করে তুলতে হবে। শিশুরা যেন তাদের সমস্যাগুলো পিতা-মাতার সাথে শেয়ার করতে পারে সে ধরণের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।  
তথ্য সচিব মরতুজা আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার একটি শিশু বান্ধব সরকার। আমারা যদি ইনক্লুসিভ উন্নয়ন আশা করি তাহলে জাতির আগামীর ভবিষ্যত শিশুদের উন্নয়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমান বাজেটও শিশুবান্ধব বাজেট উল্লেখ করে সচিব আরও বলেন, বাজেটে সাতটি মন্ত্রণালয়কে শিশুদের জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।  
সভাপতির বক্তৃতায় বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, সামাজিক অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারতের থেকে এগিয়ে গেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অর্মত্য সেন- একথা বিশ্বাস করলেও আমাদের দেশের অনেকেই তা বিশ্বাস করতে চান না।  
তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুদের কথা সঠিকভাবে অনুধাবন করেই তাদের কথা, মানুষের মঙ্গলের কথা বলে গেছেন।  
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষামতায়নে তাঁর অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে ‘প্লানেট ৫০- ৫০ চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওর্য়াড’ গ্রহণ করেছেন। একই সাথে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় ‘আইসটি ফর ডেভলপমেনট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে বাসস’র প্রধান প্রতিবেদক আশেকুন নবী চৌধুরী, অপরাজেয় বাংলাদেশের নির্বাহি পরিচালক ওয়াহিদা বানু, তরঙ্গের প্রধান নির্বাহি কহিনুর ইয়াসমিন, চিলড্রেন অ্যাফেয়ার্স জার্নালিস্টস নেটওয়ার্কের (সিএজেএন) যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার রোজেন, প্রমুখ বক্তৃতা করেন।  
অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করেন চিলড্রেন অ্যাফেয়ার্স জার্নালিস্টস নেটওয়ার্কের (সিএজেএন) আহ্বায়ক মাহফুজা জেসমিন।
অনুষ্ঠানে ঘাসফুল শিশু ফোরামের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।


মন্তব্য