kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০৯:০৫



সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

বর্তমান সময়ের দুটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- জঙ্গিবাদ ও সহিংস চরমপন্থা। এই চ্যালেঞ্জগুলো কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্যে আবদ্ধ না থেকে বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।

কোনো দেশই আপাতদৃষ্টিতে নিরাপদ নয়। কোনো ব্যক্তি এদের লক্ষ্যের বাইরে নয়। আমেরিকা থেকে ইউরোপ, আফ্রিকা থেকে এশিয়ায়; অগণিত মানুষ সন্ত্রাসবাদের শিকার হচ্ছে। আমরা মনে করি, সন্ত্রাসের কোনো ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নেই। এদের সর্বত্রভাবে সমূলে উৎপাটন করার সংকল্পে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও সহিংস জঙ্গিবাদের মূল কারণগুলো আমাদের চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে এদের পরামর্শদাতা, মূল পরিকল্পনাকারী, মদদদাতা, অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহকারী এবং প্রশিক্ষকদের খুঁজে বের করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। গুলশান হামলার বিষয়টি তুলে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় ভয়ংকর ঘটনা বাংলাদেশের জনগণের মনে এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে আমরা এই নতুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি।

সন্ত্রাসবাদ দমনে সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রভাবিত হয়ে কিছু আঞ্চলিক জঙ্গি সৃষ্টি হচ্ছে, বাংলাদেশ এসব জঙ্গি দমনে সফল হয়েছে। দেশীয় জঙ্গিদের ওই হামলার পর জনগণকে সচেতন করতে সরকারের গৃহীত কর্মসূচি এবং তাতে মানুষের সাড়া পেয়েছি। আমি আশাবাদী বাংলাদেশের মাটি থেকে সন্ত্রাসীরা সমূলে উৎখাত হবে। এ ধরনের সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদীদের অস্ত্র, অর্থ এবং তাদের প্রতি নৈতিক ও বৈষয়িক অনুসমর্থন না দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনে দেওয়া প্রায় ১৯ মিনিটের ওই ভাষণে জলবায়ু, বিশ্ব মানবতার বির্পযয়ের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্মরণ করেন ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে সব দেশকে এগিয়ে আসতে যে ভাষণ দিয়েছিলেন তাও। শেখ হাসিনা বলেন, এখনও আমাদের এই বিশ্ব উত্তেজনা ও ভীতিকর পরিস্থিতি থেকে মুক্ত নয়। বেশ কিছু স্থানে সহিংস-সংঘাতের উন্মত্ততা অব্যাহত রয়েছে। অকারণে অগণিত মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। এ প্রসঙ্গে সিরিয়ার শিশু আইলান কুর্দির সাগরে ডুবে মারা যাওয়া ও সম্প্রতি বোমা হামলায় আহত ওমরানের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কী অপরাধ ছিল সাগরে ডুবে যাওয়া সিরিয়ার ৩ বছর বয়সী নিষ্পাপ শিশু আইলান কুর্দির? কী দোষ করেছিল ৫ বছরের শিশু ওমরান, যে আলেপ্পো শহরে নিজ বাড়িতে বসে বিমান হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে? একজন মা হিসেবে আমার পক্ষে এ সকল নিষ্ঠুরতা সহ্য করা কঠিন। বিশ্ব বিবেককে কি এসব ঘটনা নাড়া দেবে না? জাতিসংঘে অভিবাসী ও শরণার্থী বিষয়ক সম্মেলনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি- এই সম্মেলনের ফলাফল বর্তমান সময়ে অভিবাসনের ধারণা ও বাস্তবতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে সাহায্য করবে। অভিবাসী ও শরণার্থীদের স্বদেশ ও গন্তব্য উভয় স্থানের জন্যই সম্ভাবনাময় পরিবর্তনের নিয়ামক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

বাংলাদেশ শান্তির পক্ষে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত সহিংসতার কবল থেকে বেরিয়ে আসা দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ করে দিবে। মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া পুনরায় চালু ও ভ্রাতৃপ্রতিম ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি বৈরিতা নিরসনে সাম্প্রতিক প্রচেষ্টাগুলোকে সঠিক দিকে পরিচালিত করতেও সবাইকে ভাবতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য স্থানীয় অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা বিগত কয়েক দশকের বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি।


মন্তব্য