kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কারাবন্দীদের অর্থদণ্ড পরিশোধ সহজীকরণ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:৩৭



কারাবন্দীদের অর্থদণ্ড পরিশোধ সহজীকরণ

 কারাদন্ডসহ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত কারাবণ্ডিদের অর্থদণ্ড পরিশোধ সহজীকরণ করে সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
সুপ্রিমকোর্টের রেজিষ্ট্রার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন স্বাক্ষরিত এ সার্কুলার সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটেও রয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, অর্থদণ্ড পরিশোধ হয়েছে মর্মে কারা কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হলে বিধি মোতাবেক বন্দীর কারামুক্তি প্রদান করবেন। সুপ্রিমকোর্টের পূণাঙ্গ কোর্ট সভায় সুপ্রিমকোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট ডিভিশন) রুলস্-১৯৭৩ অনুযায়ী এ নির্দেশনা অনুমোদন ও প্রদান করা হয়।
সার্কুলারে বলা হয়, প্রধান বিচারপতির গোচরীভূত হয়েছে, সাধারণত অর্থ দণ্ডসহ কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীরা বিধি অনুযায়ী দণ্ড ভোগ করাকালীন মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি সময়ে অথবা শেষ হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে অর্থদন্ড পরিশোধে আগ্রহী হন। বিদ্যমান জেলকোড এর বিধান অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষ বরাবর অর্থ দন্ড সরাসরি পরিশোধের সুযোগ না থাকায় সাজাপ্রাপ্ত অধিকাংশ বন্দীর প্রতিনিধি বা নিকট আত্মীয়দের পক্ষে আদালতে গিয়ে অর্থদণ্ড পরিশোধ করা সহজসাধ্য হয় না। মামলার নথি তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায় না। ক্ষেত্রভেদে ঊর্ধ্বতন আদালতে নথি পাঠানোর কারণে তা সংশ্লিষ্ট আদালতে সংরক্ষিত থাকে না। এসব কারণে সহজে অর্থদণ্ড পরিশোধ করা সম্ভব হয় না। দণ্ডপ্রদানকারী আদালত থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি দূরবর্তী ভিন্ন কোনো জেলার কোনো কারাগারে আটক থাকলে বা তার আত্মীয়-স্বজন দূরে বসবাস করলে অর্থদণ্ড পরিশোধ কষ্টসাধ্য, সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। এসব জটিলতার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বন্দীরা সময়মতো অর্থদণ্ড পরিশোধ করতে না পেরে অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করেন। এতে সরকারের ব্যয় বাড়ে এবং কারাগারে বন্দীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নানা ধরনের জটিলতাও তৈরি হয়।
সার্কুলারে বলা হয়, এ কারণে কোনো আদালত কর্তৃক কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড একত্রে আরোপ করা হলে দন্ডপ্রাপ্ত আসামির প্রতিনিধি অথবা নিকট আত্মীয় সংশ্লিষ্ট আদালতের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে বাংলাদেশ ব্যাংক অথবা সোনালী ব্যাংকে (রায় প্রদানকারী আদালত যে জেলায় অবস্থিত সেই জেলার বা যে জেলার কারাগারে আসামি অবস্থান করছেন সেই জেলার ব্যাংকে) ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে দন্ডিত অর্থ জমা দিতে পারবেন। এরপর ট্রেজারি চালানের কপি কারাবন্দী যে কারাগারে দন্ডভোগ করছেন সরাসরি সেই কারা কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষ ট্রেজারি চালানটি প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে অনলাইনে/টেলিফোনের মাধ্যমে চালানটির সঠিকতা এবং সাজা পরোয়ানায় উল্লেখিত অর্থদ-ের পরিমাণ যাচাই করবেন। এক্ষেত্রে আরোপিত সমুদয় অর্থদন্ড পরিশোধ করা হয়েছে মর্মে সন্তুষ্ট হলে বিধি মোতাবেক কারাবন্দীকে মুক্তি দেয়া হবে। এছাড়া অর্থদন্ড পরিশোধ ও কারাবন্দীর মুক্তি প্রদানের বিষয়টি বিচারিক আদালতকে অবহিত করতে হবে।
সার্কুলারে দণ্ড পরিশোধে ট্রেজারি চালানোর কোডও দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, দায়রা ও সমপর্যায়ের আদালতের জন্য কোড ১-২১৪১-০০০০-১৯০১, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেসির ক্ষেত্রে কোড ১-২১০৭-০০০০-১৯০১, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেসির ক্ষেত্রে কোড ১-২১০৮-০০০০-১৯০১।
এর আগে অর্থদন্ড পরিশোধের পরেও আদালতের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সাজাপ্রাপ্তরা কারাগার থেকে মুক্ত হতে পারতেন না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মামলার নথিও খুঁজে পাওয়া যেত না। তাছাড়া আদালতকেন্দ্রিক জটিলতার কারণেও অর্থদন্ড পরিশোধকারী বন্দীর কারামুক্তির ক্ষেত্রে অসুবিধা হতো। নতুন এ সার্কুলার জারির ফলে সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের কারামুক্তির একটি প্রতিবন্ধকতা দূর হলো বলে আইনজীবীরা জানান।


মন্তব্য