kalerkantho


বিবিসি বাংলার খবর

ফেসবুকে হুমকি দিয়ে ছাত্র জেলে, হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪২



ফেসবুকে হুমকি দিয়ে ছাত্র জেলে, হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ

টাঙ্গাইলের এক স্কুলছাত্র ফেসবুকে স্থানীয় এমপিকে হুমকি দিয়েছে - এমন এক অভিযোগে তাকে একটি মোবাইল কোর্ট দু বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পর হাইকোর্ট আজ তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দিয়েছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকেও আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেবার জন্য তলব করেছে হাইকোর্ট।
ওই স্কুল ছাত্রের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, স্থানীয় এমপিকে ফেসবুকে হুমকি দেওয়ার পর মোবাইল কোর্ট তথ্যপ্রযুক্তি আইনে তাকে দু'বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলো। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বলছে, গাঁজা খাওয়ার কারণে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছিলো।
আজ ঢাকা ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলী স্টার পত্রিকায় একটি খবর বের হয় যে টাংগাইল জেলার সখিপুর উপজেলার এক স্কুল ছাত্র সাব্বির হোসেন টাঙ্গাইল-৮আসনের এমপি অনুপম শাহজাহানকে ফেসবুকে হুমকি দেয়ার কারণে তাকে একটি ভ্রাম্যমান আদালত দু বছরের সাজা দিয়েছে, এবং তাকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এই খবরটি হাইকোর্টের নজরে আনেন একজন আইনজীবি খুরশিদ আলম খান। তিনি জানিয়েছেন যে তার বক্তব্য আদালত গ্রহণ করেছে এবং তার ভিত্তিতে বিষয়টিতে ব্যাখ্যা দিতে সখিপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রফিকুল ইসলাম ও সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছেন হাইকোর্ট।
এ বিষয়টি ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে, এবং একই সাথে সাব্বির নামের স্কুলছাত্রটিকে জামিন দেয়া হয়েছে।
আইনজীবী মি. খান বলেন, তার মনে হয়েছে মোবাইল কোর্টের সাজা আইনগত হয়নি কারণ তা 'অন-দ্য-স্পট' হয়নি, এবং সাব্বিরের বয়স ১৮-র নিচে। এজন্যই তিনি বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। তিনি তার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন যে তথ্য প্রযুক্তি আইনে সাজা দেয়ার কোন এখতিয়ার ভ্রাম্যমান আদালতের নেই।
তবে ভ্রাম্যমান আদালতে যিনি সাজাটি দিয়েছেন সেই ইউএনও এস এম রফিকুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে বিষয়টিতে একটি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, এবং সংবাদপত্রটির প্রতিবেদনটি সঠিক নয়।
তিনি বলেন, তিনি আসলে ফেসবুকে হুমকির জন্যে বা আইসিটি আইনে সাজা দেননি। তার ভাষ্যমতে ঐ স্কুল ছাত্রকে তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আাইনে সাজা দিয়েছেন।
মি, ইসলামের দাবি, ঐ ছেলেটিকে তিনি গাঁজা খেতে দেখেছেন এবং তার কাছে কয়েকশো গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে। কিন্তু এই ছেলেটিই যে স্থানীয় একজনকে ফেসবুকে হুমকি দিয়েছে সেটি তিনি জানতেন না, যা তিনি পরে জেনেছেন।
তবে তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলার বিষয়টি নিয়ে তিনি আর কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।


মন্তব্য