kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সাভার ও ধামরাইয়ে দুই শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২০:২০



সাভার ও ধামরাইয়ে দুই শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

ঢাকার সাভার ও ধামরাইয়ে পৃথক দুটি ঘটনায় দুই শিশু ধর্ষণের অভিযোগে দুই ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছে। ধামরাইয়ে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত হাসেম মিয়া (২৫) ও সাভারে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সিদ্দিকুর রহমান (৩৫) গ্রেপ্তার হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে ধামরাইর কাগজীপাড়া এলাকায় একটি স্কুলের ভিতর থেকে হাসেম মিয়াকে এবং সোমবার রাতে বক্তার পুর এলাকা থেকে সিদ্দিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ধামরাই পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর কাগজীপাড়া এলাবায় নিজ ভাড়া বাড়িতে নয় বছরের ওই শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে হাসেম নামের ওই ব্যক্তি। পরে শিশুর মা ধামরাই থানায় এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এবিষয়ে ধামরাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, ধর্ষণের চেষ্টা চালানোর অভিযোগে আটক ব্যক্তিকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে সাভারের বক্তারপুরে ১৩-১৪ বছরের এক গার্মেন্ট কর্মীকে তার নিজ ভাড়া বাসার বাড়িওয়ালা সোমবার সন্ধ্যায় ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৌর এলাকার বক্তাপুর মহল্লায় জনৈক সিদ্দিকুর রহমানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালীরা ওই বাড়ির ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি। সন্ধ্যার পর খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পুলিশ। পরে সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় রাতেই অভিযুক্ত বাড়িওয়ালা সিদ্দিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
শিুটির বাবা বলেন, তিনি বক্তারপুর মহল্লায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিদ্দিকুর রহমানের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তার ১৩-১৪ বছরের কন্যা শিশুটি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় হেলপারের কাজ করে। সোমবার সকালে মেয়েটিকে বাসায় রেখে তিনি ও তার স্ত্রী কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ির বাইরে চলে যান। বিকেলে বাসায় ফিরে এসে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে তারা চিন্তিত হয়ে পড়েন। বাড়িওয়ালাসহ আশেপাশের সকলকে জিজ্ঞাসা করেও মেয়ের সন্ধান পাচ্ছিলেন না তারা। পরে মেয়েটি বাড়িওয়ালার একটি কক্ষ থেকে আলমারির ভিতর থেকে হাত-পা ও মুখ বাধা অবস্থায় উদ্ধার হয়। পরে মেয়ের কাছ থেকে জানতে পারেন, সিদ্দিকুর রহমান তাকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে তার হাত-পা ও মুখ বেধে আলমারির মধ্যে লুকিয়ে রাখে। এক পর্যায়ে সিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রী বাড়িতে এসে কক্ষের ভেতরে আলমারী থেকে নির্যাতিতা শিশুটিকে উদ্ধার করে। এদিকে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টিট ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এর পর থেকেই ওই বাড়িতে কাউকে প্রবেশ করতে বাধা দেয় ওই প্রভাবশালীরা।
সাভার মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) তন্ময় বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে রাতে শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। এব্যাপারে সাভার মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত সিদ্দিকুর রহমানকে দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা: আমজাদুল হক কালের কন্ঠকে বলেন, শিশুটির উন্নত চিকিৎসা ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।


মন্তব্য