kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে : নাহিদ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:৫৯



শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে : নাহিদ

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা এবং কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তিনি আরো বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ- শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করা।

সেটি উপলদ্ধি করেই নানা পরিকল্পনা ও কর্মসূচি নিয়ে এগুচ্ছি।

ঐতিহাসিক ‘শিক্ষা দিবসের’ ৫৪তম বার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার এক বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

শিক্ষা দিবসের তাৎপর্য উপলব্ধি করে, শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনে সরকারের কার্যক্রম প্রতিদিন প্রসারিত হচ্ছে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, ‘আমরা শিক্ষার মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি আমাদের জাতীয় লক্ষ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করে ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে আমাদের নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত করে তোলা।

তিনি বলেন, জাতীয় লক্ষ্য অর্জনের পথে বাংলাদেশ অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে, যা ইতিমধ্যে দৃশ্যমান এবং স্বীকৃত। চরম দরিদ্র্য, ক্ষুধা, অভাব, দুর্ভিক্ষ বর্তমানে অতীত।

নতুন প্রজন্মকে আধুনিক উন্নত বাংলাদেশের নির্মাতা হিসেবে গড়ে তোলাই শিক্ষার মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রায় সকল শিশুকে স্কুলে নিয়ে আসা এবং মাধ্যমিক পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীর সমতা অর্জন, নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে ১৮৯ কোটি ২১ লাখ ১৮ হাজার ৮৯৫টি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য ব্রেইল পাঠ্যপুস্তক, যুগোপযোগী পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়াও ১০ লাখ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার শিক্ষা সকল স্তরে বাধ্যতামূলকভাবে চালু, প্রায় ২৪ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস চালু, সৃজনশীল পদ্ধতি প্রবর্তন, ২০ হাজার কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, উপজেলায় আইসিটি রিসোর্স সেন্টার স্থাপন, মেধাবৃত্তি ছাড়াও বছরে ১ কোটি ২৮ লাখ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি প্রদান, ৬০ হাজার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে প্রতিবন্ধী বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং শিক্ষকের গুণগত মান বৃদ্ধি ও পাঠদান পদ্ধতি উন্নত করার জন্য নিয়মিত উন্নত মানের শিক্ষক প্রশিক্ষণ চলছে। পিএসসি’র অনুরূপ জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে সকল বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আরো সহজ আকর্ষণীয় চমৎকার পাঠ্যপুস্তক তৈরি, বইয়ের চাপ কমানো, পরীক্ষা পদ্ধতির বড় রকমের সংস্কার, প্রবীণ অভিজ্ঞ শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের নিয়ে উপদেষ্টা কমিটি করে বিভিন্ন সাব-কমিটির মাধ্যমে এ রকম সকল কাজের পর্যালোচনা, বিশ্লেষণ ও আত্মসমালোচনা করে ভুল-ত্রুটি শোধরানো এবং উন্নত মানের কাজ, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, গবেষণা, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি প্রভৃতি বহুমূখী কার্যক্রম প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আধুনিক যুগের সাথে সঙ্গতির্পূণ দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে যেখানে মোট শিক্ষার্থীর ১ ভাগ কারিগরি শিক্ষা পেত এবং তা যুগোপযোগী ছিল না, আজ তা যুগোপযোগী করে ১৪ ভাগে উন্নীত করা হয়েছে।

নাহিদ বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষায় ইসলামী শিক্ষার উন্নয়ন এবং আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় সাধন করে ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে, যা ইতিপূর্বে অভাবনীয় ছিল। শত বছরেও মাদ্রাসা শিক্ষায় এত ব্যাপক উন্নয়ন হয়নি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি।

‘চরম বিশৃঙ্খলার অবসান করে নকলমুক্ত, প্রশ্নের নিরাপত্তা নিশ্চত করে এসএসসি ও এইচএসসি ও সমমানের সকল পরীক্ষা নির্ধারিত একই তারিখে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় এবং পরীক্ষা শেষে ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল দেওয়া হয়। স্কুলের ক্লাস ১ জানুয়ারি, কলেজের ক্লাস ১ জুলাই শুরু হয়। এসবের একদিনও ব্যত্যয় হয়নি’- বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে এবং এ বছর তার চেয়েও প্রায় ৩ গুণ বেশি উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

‘জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০’ বাস্তবায়িত হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, এক সুদূর প্রসারী লক্ষ্য সামনে রেখে অনেক করণীয় সম্পন্ন করা হয়েছে, অনেক কাজ চলমান, অনেক কাজের ভিত্তি গড়ে তোলা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আজ থেকে ৫৪ বছর পূর্বে ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানে শাসকগোষ্ঠীর প্রতিভূ সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খানের চাপিয়ে দেওয়া গণবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল তথাকথিত ‘জাতীয় শিক্ষানীতি’ বাতিল করে গণমুখী, বিজ্ঞানমনস্ক ও অসাম্প্রদায়িক শিক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে অপ্রতিরোধ্য আন্দোলন গড়ে তুলেছিল ছাত্রসমাজ। এই আন্দোলনে অংশ নিয়ে শহীদ হন বাবুল, ওয়াজিউল্লাহ, মোস্তফাসহ কয়েকজন।


মন্তব্য