kalerkantho


তানভীর-ফাতেমার জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার গল্প

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:১৩



তানভীর-ফাতেমার জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার গল্প

ফাতেমার সঙ্গে তানভীরের সংসার জীবন প্রায় দেড় দশকের। ২০০১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল তাওয়াতের মেয়ে ফাতেমার সঙ্গে বিয়ে হয় তানভীরের।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাটিকামারি গ্রামে তানভীর কাদেরীদের বাড়ি। বাটিকামারি গ্রামের এস এম বাতেন কাদেরীর ছেলে তানভীর গাইবান্ধা সরকারি বালক বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সালে এসএসসি এবং তার দুই বছর পর গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক করে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করেন। লেখাপড়ার পাট চুকিয়ে দুটি বেসরকারি কম্পানি ঘুরে সর্বশেষ ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং শাখায় উচ্চপদে যোগ দিয়েছিলেন তানভীর। হজ থেকে ফিরে ২০১৪ সালে ছেড়ে দেন সেই চাকরি। এরপর আল সাকিনা হোম ডেলিভারি সার্ভিস নামে একটি ব্যবসা শুরু করেন তিনি।

অপরদিকে স্ত্রী আবেদাতুল ফাতেমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন এ চাকরি করতেন। তিনিও জঙ্গিবাদী তৎপরতায় জড়িত বলে পুলিশের ধারণা। আজিমপুরের বাসায় অভিযানে গেলে ফাতেমাসহ তিন নারী মরিচের গুঁড়া ও ছোরা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে সেদিন জানিয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

এই দম্পতি কীভাবে জঙ্গিবাদে জড়ালেন তার উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেল দুই বছর আগে সৌদি আরব থেকে ফিরে তাদের বদলে যাওয়ার তথ্য। ২০১৪ সালে হজ করতে সপরিবারে সৌদি আরবে যান তানভীর। সেখান থেকে ফিরে আসার পর তানভীরের মধ্যে ধর্মীয় উগ্রতা ধরা পড়ে আত্মীয়দের চোখে। ফাতেমাও তখন থেকেই হিজাব পরা শুরু করেন।

এদিকে আরো খবর নিয়ে জানা গেছে তানভীরের পূর্বপুরুষ ছিলেন পাকিস্তানের বাসিন্দা। তার দাদা প্রয়াত আব্দুল ওয়াহেদ গত শতকের প্রথম দিকে পেশোয়ার থেকে তাবলিগ করতে এসে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে বিয়ে করে বসতি গাড়েন। পরে তানভীরের বাবা বাতেন কাদেরী গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালি ইউনিয়নের পশ্চিম বাটিকামারি গ্রামে বাড়ি করেন বলে স্বজনরা জানান। বাতেন কাদেরী বাংলাদেশ টেলিফোন অ্যান্ড টেলিগ্রাফ বিভাগে চাকরি করতেন। একপর্যায়ে চাকরি ছেড়ে তিনি দীর্ঘদিন মধ্যপ্রাচ্যে ছিলেন। এখন জর্দার ব্যবসা করেন।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপকমিশনার মহিবুল ইসলাম বলেন, আহত তিন নারীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। আজিমপুরের বাসায় কারা কারা আসত তা জানার চেষ্টা করছি। কিছু দিন আগে ওই বাসা ভাড়া নেয় জানিয়ে তারা বলেছে, যারা আসত তারা তানভীরের সাথে দেখা করতে আসত। কী নিয়ে তাদের আলোচনা হতো তা জানার চেষ্টা চলছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকার আজিমপুরের একটি বাসায় পুলিশের অভিযানের সময় নিহত হন তানভীর। ওই বাসা থেকে আহত অবস্থায় যে তিন নারীকে আটক করা হয়েছিল তাদের একজন ফাতেমা। তাদের যমজ দুই ছেলে ঢাকার একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা বলছেন, গত মাসের শেষ দিকে নারায়ণগঞ্জে পুলিশি অভিযানে 'নব্য জেএমবি'র নেতা তামিম চৌধুরী নিহত হওয়ার পর জঙ্গি দলটির সমন্বয়কের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছিলেন তানভীর। আব্দুল করিম ও শমসেদ নামে সংগঠনে পরিচিত ছিলেন তিনি।

 


মন্তব্য