kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সাভারে ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ

এনাম মেডিক্যালের পরিচালকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৩৭



এনাম মেডিক্যালের পরিচালকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা

ঢাকার সাভারে মোহাম্মদ লিটন নামের এক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার চার দিন পর মামলা হয়েছে। আজ শুক্রবার ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এনায়েত হোসেন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলায় এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার সিটি সেন্টার বিপণিবিতানের সিনহা কালেকশনের মালিক সোহেল রানা, যে বাসায় গুলির ঘটনা ঘটেছে সেই বাসার মালিক পারভেজ এবং শান্ত, মনির হোসেন ও মোহাম্মদ আলী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাভার মডেল থানার সহকারী পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনার তিন দিন পর বিষয়টি জানতে পেরে ডিবি পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছ। তাই আজ মামলা হয়েছে।  

তিনি আরো বলেন, জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। মামলার অভিযোগেও সে রকমই বলা হয়েছে।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত সোমবার রাতে সাভার পৌর এলাকার গেন্ডা মহল্লার পারভেজের বাড়িতে জুয়ার আসর বসে। ওই আসরে লিটন, সাইফুলসহ অন্যরা ছিলেন। জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে সোহেল শটগান দিয়ে লিটনকে গুলি করেন। গুলি ডান পায়ে লাগলে লিটন মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দ ও তাঁর চিৎকারে এ সময় আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অন্যরা পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন গুলিবিদ্ধ লিটনকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

লিটনকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে। পুলিশ ও গণমাধ্যম কর্মীদের লিটনের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছিল না। লিটনের পরিবারের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট করে কিছু বলা হচ্ছিল না।

এসব বিষয়ে লিটনের এক আত্মীয়সহ ডিবি পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ঘটনার সঙ্গে এনাম মেডিকেলের পরিচালক সাইফুল জড়িত থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করে। আর ভয়ে মুখ খোলেননি লিটনের পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন বলেন, পারভেজ পেশায় ঝুট ব্যবসায়ী। গেন্ডায় তাঁর সাততলা বাড়ি রয়েছে। ওই বাড়ির নিচতলায় প্রতি রাতেই মাদক ও জুয়ার আসর বসে। জুয়া আর মাদকের কারণেই মামলার আসামিরাসহ আরও প্রভাবশালীদের যাতায়াত ছিল পারভেজের বাসায়। সব জানার পরও এলাকার কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পেতেন না।

তবে গুলি করার অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধে সেই সোহেল গতকাল দাবি করেছিলেন, ‘সাভারের থানা রোডে মাইক্রোবাসে ওঠার সময় শটগানটি লিটনের কাছে দিয়েছিলেন তিনি। তখন লিটনের হাতের চাপ লেগে গুলি বের হয়।


মন্তব্য