kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:০৯



দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪

সারা দেশে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত ও ৪৯ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত ঢাকা জেলার সাভার ও ধামরাইয়ে, হবিগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মাদারীপুর জেলায় এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

সাভার
ঢাকার সাভারে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের রাজফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।  

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের রাজফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে রাস্তা পার হওয়ার সময় বেপরোয়াগতির একটি প্রাইভেট কারের চাপায় আবু বক্কর সিদ্দিক (৩০) নামে একজন মুরগি ব্যবসায়ী নিহত হন। তিনি বরিশাল জেলার অঘৈলঝোড়া থানার রত্নপুর গ্রামের জয়নাল মোল্লার ছেলে। সাভারের গেণ্ডা এলাকায় বসবাস করতেন তিনি।  

ধামরাই
ঢাকার ধামরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জন আহত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে ধামরাইয়ের বাথুলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহতরা জানান, তারা রাতে বৃহস্পতিবার সিলেটের হযরত শাহজালালের (রঃ) মাজার জিয়ারত করে ধামরাই ফিরছিলেন। সকালে তাদের পিকআপ ভ্যানটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ধামরাইয়ের বাথুলী এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময়  পিকআপ ভ্যাটি একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেলে পিকআপ ভ্যানটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ওই পিকআপ ভ্যানের অন্তত ১৫ যাত্রী গুরুতর আহত হন। পুলিশ তাদেরকে  উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।  

এ বিষয়টি নিশিচত করেছেন ধামরাই থানার ওসি রিজাউল হক।  

হবিগঞ্জ
হবিগঞ্জের আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছে। এ সময় চারজন আহত হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা সূত্র জানায়, আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের নছরতপুর এলাকায় ঢাকা থেকে সিলেটগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস ও শ্রীমঙ্গল থেকে ঢাকাগামী প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।  এতে ঘটনাস্থলেই ঢাকার রামপুরার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন (৩০) নিহত ও চারজন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় একই এলাকার লামিয়া আক্তার (২২) ও জুনায়েদ মিয়াকে (২৪) হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত জুনায়েদ জানান, তাঁরা ঈদের ছুটিতে শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বেড়াতে এসেছিলেন। বেড়ানো শেষে তাঁরা ঢাকা ফিরছিলেন।

অপরদিকে, আজ বিকেলে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার এলআর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে মারা গেছে সাইকেল আরোহী শাকিল মিয়া (২৫)।

টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার পুংলিতে এক যাত্রীবাহী বাস উল্টে নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় কমপক্ষে আহত হয়েছেন ২০ জন। আহতদের টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।   

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর আলম জানান, উত্তরবঙ্গের লালমনিরহাট জেলা থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও সফিপুর যাচ্ছিল। মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার পুংলিতে এসে পৌঁছালে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের যাত্রী শিশু, মহিলাসহ চারজন নিহত হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।  

নিহতরা হচ্ছেন- আসাদুল হাবিব (১৫) পিতা- আব্বাস আলী, আসমা বেগম (৩৫) স্বামী- ফিরোজ মিয়া, মমিনুর (৪০) পিতা- করিম উদ্দিন, রিপন (৩০) পিতা- সিদ্দিক হোসেন ও সুমন (৩২)। তাদের সকলের বাড়ি লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম এলাকায়।  সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ উদ্ধার কাজ চালায়। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।  

পুলিশ জানায়, নিহত ও আহতরা সকলেই শ্রমজীবী। তারা সকলেই ঈদ শেষে প্রভাতী-বনশ্রী পরিবহনের ঢাকা-কালিয়াকৈর রুটের বাস ভাড়া নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছিল।  এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেন হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। তিনি নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার এবং আহত প্রত্যেক পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শশই এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।  

নিহতরা হলেন মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার রূপসপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান, তার দুই ছেলে আবু সুফিয়ান ও মো. কামরান এবং তাদের আত্মীয় মুর্শিদির রহমান, আলী হোসেন, আব্দুল হান্নান ও মুক্তার মিয়া। তারা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী। আহত চারজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর ও মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।  

বিশ্বরোড হাইওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ হুমায়ুন কবির জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শশই এলাকায় এনা পরিবহনের একটি বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন মারা যান। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
 
নিহতদের আত্মীয় ফয়সাল আহমেদ জানান, আবু সুফিয়ানের বিয়ে উপলক্ষে কমলগঞ্জ থেকে তারা সবাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসছিলেন। নিহতদের পরিচয় কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন তিনি।

মাদারীপুর
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে মাদারীপুরের রাজৈর যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একটি মাহিন্দ্রর মুখোমুখি সংঘর্ষে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনজনে। এ দুর্ঘটনায় আহত হন আরো ১০ জন। এর মধ্যে এক যাত্রীর অবস্থা গুরুতর। আজ শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বড় ব্রিজ নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।  

স্থানীয়, পুলিশ, হাসপাতাল ও আহত সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে রাজৈর উপজেলার বড় ব্রিজ নামক স্থানে রাজৈর থেকে ছেড়ে আসা মাহিন্দ্রর সঙ্গে বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা সমুদ্র সৈকত (ঢাকা মেট্রে ব ১৫-০৩৬০) পরিবহনের একটি ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থালে মাহিন্দ্রর চালক শ্রীনদী গ্রামের মো. বিল্লাল হোসেন (৩৫) ও যাত্রী রাজৈর উপজেলার সানেরপাড় গ্রামের বেলাল শেখ (৫০) মারা যান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেক যাত্রী সদর উপজেলার সীড়খাড়া গ্রামের কাজী বাড়ির মোয়াজ্জেম কাজীর ছেলে সালাউদ্দিন কাজী (৩৫) মারা যান। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় আরো ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে মেরিনা আক্তার (২৭) নামে এক যাত্রীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বাকিদের রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।  

রাজৈর থানার এসআই রমজান হোসেন এ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত  করেছেন।


মন্তব্য