kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নজরদারিতে নিউ জেএমবির ভয়ংকর ৮ নারী জঙ্গি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:৩১



নজরদারিতে নিউ জেএমবির ভয়ংকর ৮ নারী জঙ্গি

ফাইল ফটো

অপারেশন আজিমপুরে নাম আসা প্রিয়তি, শায়লা ও আবিদার মতোই নিউ জেএমবির আরও ভয়ংকর আট নারী জঙ্গিকে নজরদারিতে আনা হয়েছে। র‌্যাবের গোয়েন্দারা ঈদের ছুটিতে তাদের সবার অবস্থান শনাক্ত করে কৌশলে নজরদারিতে আনতে সক্ষম হয়েছেন।

আটজনের মধ্যে আছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী। রয়েছেন দুজন চাকরিজীবীও। তারা সবাই 'ব্লাড রোজ' নামে একটি গ্রুপের সদস্য। এই গ্রুপের সদস্যরা ইন্টারনেটে নিজেদের মধ্যে কথিত আইএসের মতাদর্শগত বিভিন্ন অডিও-ভিডিও এবং প্রকাশনার তথ্য আদান-প্রদান করেন। র‌্যাবের গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

সম্প্রতি র‌্যাবের গোয়েন্দারা এক নারী চিকিৎসক ও মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকেই একটি তালিকা পাওয়া যায়। সে তালিকার আট জঙ্গি ঈদের ছুটিতে নিজের বাড়িতে ফিরে। আর তখনই তাদের নজরে আনে গোয়েন্দারা। এরা উচ্চশিক্ষিত নারী জঙ্গি।

র‌্যাব সূত্র জানায়, যাদের নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে তারা সবাই মিরপুর থানায় দায়ের করা একটি মামলার আসামি। এরা হলেন তাসনুবা ওরফে তাহিরা, মাইমুনা ওরফে মাহমুদা ওরফে লায়লা, আলিয়া ওরফে তিন্নি ওরফে তিতলী, মনিরা জাহান ওরফে মিলি, ছাবিহা ওরফে মিতু, সাফিয়া ওরফে সানজিদা ওরফে ঝিনুক, দিনাত জাহান ওরফে নওমী ওরফে বাণী ও তানজিলা ওরফে মুন্নী। এরা সবাই কোড নামে সক্রিয় নতুন ধারার জেএমবিতে।

দায়িত্বশীল একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ডাক্তার ইসতিসনা আক্তার ঐশী, মানারাতের শিক্ষার্থী ও জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়া ছাত্রী সংস্থার নেত্রী আকলিমা রহমান মনি, ইসরাত জাহান মৌ ও খাদিজা পারভীন মেঘলার সঙ্গে উল্লিখিত নারী জঙ্গিদের বন্ধুত্ব রয়েছে। তারা একে অপরের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিসংক্রান্ত বৈঠকে বসত।

নজরদারিতে থাকা এক জঙ্গি অকপটে র‌্যাবের কাছে তথ্য দিয়ে স্বীকার করে, ছাত্রী সংস্থার নেত্রী রাবেয়া বিনতে আজহারের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন স্থানে বৈঠকগুলোতে অংশ নেয়। তারা নিজেদের মধ্যে আইএসের দাবিক ম্যাগাজিন, অডিও-ভিডিও বার্তা, আইএস সংক্রান্ত নানা তথ্য আদান-প্রদান করত। আইএসের কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করতে 'নিজ ফোরাম' থাকা নারীদের 'ছবক' দিত। ওই নারী জঙ্গি আরও স্বীকার করে, তাদের দলের মেয়েরা বাংলা, আরবি, ইংরেজি ও হিন্দিসহ চারটি ভাষায় কথা বলতে পারে। এই দলের সাংগঠনিক নেত্রী রাবেয়া বিনতে আজাহার সবাইকে পাকিস্তানে সফরের দাওয়াত দিয়েছে বলেও তারা স্বীকার করেছে।

এ প্রসঙ্গে র‌্যাব ৪ এর অধিনায়ক খন্দকার লুৎফুল কবীর বলেন, চার নারী জঙ্গির মাধ্যমে তাদের দলের আরও কয়েকজন নজরদারিতে আনা হয়েছে। যেকোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। নারী জঙ্গি নিয়ে র‌্যাবের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য আছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।


মন্তব্য