kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অস্ত্রচালনা ও বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন আজিমপুরের ৩ নারী জঙ্গি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৩:২৪



অস্ত্রচালনা ও বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন আজিমপুরের ৩ নারী জঙ্গি

স্বামীদের হাত ধরেই জঙ্গিবাদে জড়িয়েছেন আজিমপুরের জঙ্গি আস্তানার সেই তিন নারী। আত্মঘাতী স্কোয়াড গঠন ছাড়াও স্বামীদের অবর্তমানে সাংগঠনিক কাজেও যুক্ত ছিলেন তারা।

অস্ত্র পরিচালনা থেকে শুরু করে বোমা তৈরিতেও নিয়েছেন প্রশিক্ষণ। এমনকি তাদের শিশু সন্তানদেরও কথিত জিহাদে যুক্ত করেছিলেন। এ ছাড়া ফান্ড সংগ্রহের জন্য ব্যাংক ডাকাতির বড় ধরনের পরিকল্পনাও ছিল আজিমপুরে অভিযানে নিহত নিউ জেএমবি নেতা তানভির কাদেরি ওরফে আবদুল করিমের। ওই আস্তানা থেকে গ্রেপ্তার করিমের স্ত্রী খাদিজা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দাদের এ তথ্য দিয়েছেন।

১০ সেপ্টেম্বর আজিমপুরের আস্তানায় অভিযানে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তারের পর ওই তিন নারী এখনও পুলিশ প্রহরায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরা হলেন জঙ্গি নেতা তানভির কাদেরি ওরফে আবদুল করিমের স্ত্রী আবেদাতুল ফাতেমা ওরেফ খদিজা, বাশারুজ্জামানের স্ত্রী শায়লা আফরিন ও নূরুল ইসলাম মারজানের স্ত্রী আফরিন ওরফে প্রিয়তি। এদের মধ্যে শেষ দুজন আশঙ্কামুক্ত হলেও খদিজার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।

এদিকে পুলিশি অভিযানের পর ওই আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩৯ ধরনের আলামত। এর মধ্যে অস্ত্র ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ আলামতের মধ্যে একটি পেনড্রাইভ ও একটি ল্যাপটপ রয়েছে। এ ল্যাপটপ ও পেনড্রাইভে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্তের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, পেনড্রাইভে নিউ জেএমবির সাংগঠনিক তৎপরতা ও সংগঠনটির জঙ্গি নেটওয়ার্ক সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।

আজিমপুরের আস্তানা থেকে আহত অবস্থায় আটক তিন নারী জঙ্গির মধ্যে খাদিজা আত্মঘাতী জঙ্গি তানভির কাদেরির স্ত্রী, আফরিন ওরফে প্রিয়তি গুলশান হামলার অপারেশনাল কমান্ডার নুরুল ইসলাম মারজানের স্ত্রী, শায়লা আফরিন নিখোঁজ জঙ্গি বাশারুজ্জামানের স্ত্রী। অপরদিকে ওই আস্তানা থেকে অভিযানের আগেই পালিয়ে যাওয়া জঙ্গি জেবুন্নাহার ইসলাম ওরফে শীলা রূপনগরে পুলিশের অভিযানে নিহত জঙ্গি মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী। দুর্ধর্ষ চার জঙ্গির স্ত্রীরা তাদের স্বামীর মাধ্যমেই জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে বলে তথ্য পেয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, আফরিন ওরফে প্রিয়তির গ্রামের বাড়ি পাবনার ঈশ্বরদী এলাকায়। তার বাবার নাম আবদুল জলিল। মারজান তার খালাতো ভাই। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মারজানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এরপর মারজানের সঙ্গে সে বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। সূত্র জানায়, প্রিয়তি স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে আলিম পাস করেছে। এরপর আর পড়াশোনা করেনি। অপরদিকে জঙ্গি বাশারুজ্জামানের স্ত্রী শায়লা স্নাতকে পড়া অবস্থায় বছর দুয়েক আগে বাসা থেকে নিখোঁজ হয়। তার বাবার নাম আবুল হাসেম। এ ঘটনায় শায়লার পরিবারের পক্ষ থেকে রাজধানীর কলাবাগান থানায় একটি জিডিও করা হয়েছিল। বাশারুজ্জামান ওরফে জামান ওরফে চকলেটের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে সে। আস্তানা থেকে উদ্ধার করা রুহী নামে এক বছর বয়সী শিশুটি তার। ওই শিশুকে আস্তানায় রেখেই সে অভিযানে থাকা পুলিশ সদস্যদের ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।

জঙ্গি আস্তানা থেকে বিভিন্ন ধরনের আলামত জব্দ করেছে পুলিশ। এসব আলামতের মধ্যে তানভীর কাদেরির রক্তের নমুনা, শটগানের একটি গুলির খোসা, কালো রংয়ের প্লাস্টিক বাট যুক্ত একটি চাকু, ১১ ইঞ্চি লম্বা একটি স্ক্রু ড্রাইভার, পলিথিনে মোড়ানো ১৫ গ্রাম মরিচের গুঁড়া, সাড়ে ৮ ইঞ্চি লম্বা প্লাস্টিকের হাতল যুক্ত একটি কাঁচি, চার খণ্ড রক্তমাখা কাচ। মেইড ইন জাপান লেখা একটি ম্যাগজিনযুক্ত তিনটি পিস্তল, একটি কালো রংয়ের পেনড্রাইভ।

এ ছাড়া চার লাখ টাকা, জিহাদি লিফলেটের কিছু ফটোকপিসহ কিছু গহনা জব্দ করা হয়েছে। ওই আস্তানা থেকে তিনটি পাসপোর্ট এবং একটি জাতীয় পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে মেজর (অব.) জাহিদুলের স্ত্রী জেবুন্নাহার ইসলামের নামে দুটি পাসপোর্ট (নম্বর-বি-০৪৫৮৭৪৭ ও বিএ-০৭৭৫৯১০) এবং তাদের মেয়ে জুনাইরা নুরীন (নম্বও : বিএ ০৭৫৭৩৪৪) জব্দ করা হয়েছে। মেজর জাহিদের শিক্ষাজীবনের চারটি সনদও জব্দ করা হয়েছে।

আজিমপুরে নিহত জঙ্গি আবদুল করিমের ব্যাংক ডাকাতির পরিকল্পনা ছিল। তার স্ত্রী আবিদাতুল ফাতেমা ওরফে খাদিজা গোয়েন্দাদের এমন তথ্য দিয়েছে। তাদের ১৪ বছর বয়সী কিশোর ছেলে তাহরীম কাদেরি রাসেলের কাছেও মিলছে নানা তথ্য।
করিমের স্ত্রী খাদিজা গোয়েন্দাদের কাছে স্বীকার করেছে, ফান্ড সংগ্রহের জন্য জঙ্গিদের নিয়ে তার স্বামী বড় ধরনের ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। করিম আগে ব্যাংকে চাকরি করত। তাই ব্যাংকের ভল্ট সম্পর্কে তার জানা আছে। স্ত্রীর এমন তথ্য নিয়ে করিমের আরও সহযোগীদের আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।


মন্তব্য