kalerkantho


ঈদের বেড়ানো শেষে বন্ধুদের নিয়ে প্রেমিকাকে রাতভর ধর্ষণ, ছয় ধর্ষক আটক

বাগেরহাট প্রতিনিধি   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:২১



ঈদের বেড়ানো শেষে বন্ধুদের নিয়ে প্রেমিকাকে রাতভর ধর্ষণ, ছয় ধর্ষক আটক

বাগেরহাটের রামপালে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে এক নারীকে মত্স্যঘেরে নিয়ে পালাক্রমে গণধর্ষণ করা হয়েছে। ঈদের দিন মঙ্গলবার ইকোপার্কসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখার কথা বলে রামপাল উপজেলার ওড়াবুনিয়া গ্রামের একটি মত্স্যঘেরে নিয়ে ওই নারীকে আটক রেখে ছয়জনে মিলে গণধর্ষণ করে।

মুক্ত সরদার নামে (২৩) এক যুবক ওই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ফুসলিয়ে মত্স্যঘেরে নিয়ে যায়। এর পর সে ও তার চারসহযোগী এবং ওই মত্স্যঘের মালিক নারীর উপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। ২৫ বছর বয়সী ওই নারীর ডাকচিত্কারে পাশ্ববর্তী মত্স্যঘের থেকে লোকজন ছুটে এলে রক্তত্ব অবস্থায় ওই নারীকে ফেলে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। ওই নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগে বুধবার দুপুরে পুলিশ ছয়জনকে আটক করেছে।  
আটকৃতরা হচ্ছেন, বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার ওড়াবুনিয়া গ্রামের জিলস্নু সরদারের ছেলে মুক্ত সরদার (২৩),জাহিদ শেখের ছেলে হাসান শেখ (২৫),ইস্রাফিল শেখের ছেলে বেলায়েত হোসেন (২৬), ইব্রাহিম শেখের ছেলে ইসমাইল শেখ (২৫), রামপাল উপজেলা সদরের শাজাহান শেখের ছেলে রাজু শেখ (২০) এবং শহর আলীর ছেলে মত্স্যঘের মালিক হামিদ শেখ (৫৫)। এদের মধ্যে হামিদ শেখ ছাড়া অপর পাঁচজন পেশায় দিনমজুর, মত্সঘের কর্মচারী এবং ভ্যানচালক বলে পুলিশ জানায়।
নির্যাতনের শিকার ওই নারীর বাড়ি একই উপজেলায়। স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদ হওয়ার পর গত কয়েক বছর ধরে সে তার বাবার বাড়িতে বসবাস করছে।
রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, মুক্ত সরদার নামে ওই যুবক এ নারীর সঙ্গে গত প্রায় ছয় মাস আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এর পর সে ওই নারীকে বিয়ের প্রলভোন আর প্রতিশ্রম্নতি দিতে থাকে। ঈদের দিন বিকালে ইকোপার্কসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়ানোর কথা বলে মুক্ত সরদার ওই নারীকে ডেকে নিয়ে আসে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরতে ঘুরতে এক পর্যায়ে রাত ১০টার দিকে সে ওই নারীকে ওড়াবুনিয়া গ্রামের হামিদ শেখের মত্স্যঘেরে নিয়ে যায়। এর পর সেখানে তার চারসহযোগী আসে। মত্স্যঘেরের গইঘরে (ঘের পাহারা দেওয়ার জন্য অস্থায়ী ভাবে নির্মিত ছোট ঘর) আটকে পাঁচজনে মিলে ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করতে থাকে। এসময় মত্স্যঘের মালিক হামিদ শেখ ঘেরে এসে নিজেও ধর্ষণে লিপ্ত হয়।
ওসি মো. বেলায়েত হোসেন আরো জানান, ছয়জনে মিলে ওই নারীকে ধর্ষণের পর রক্তাত্ব অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। নারীর ডাকচিত্কারে পাশ্ববর্তী মত্স্যঘের থেকে লোকজন ছুটে এসে ওই নারীকে উদ্ধার করে। নির্যাতনের শিকার এ নারী ধর্ষণের অভিযোগ এনে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে বুধবার রামপাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ বুধবার দুপুরে রামপাল উপজেলা সদর থেকে ওই ছয়জনকে আটক করেছে। আটকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশের দাবি। নির্যাতনের শিকার ওই নারীর বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ডাক্তরী পরীড়্গা সম্পর্ন করা হয়েছে।  
ওসি মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, আটকৃত ছয়জনকে বৃহস্পতিবার বাগেরহাট চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করতে পারে।  


মন্তব্য