kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

ঈদের পশুর হাড়-চর্বির জমজমাট ব্যবসা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৭



ঈদের পশুর হাড়-চর্বির জমজমাট ব্যবসা

বাংলাদেশে কোরবানীর পশুর চামড়ার বিশাল বাজারের আড়ালে হাড়-গোড়, চর্বি, লিঙ্গের জমজমাট ব্যবসার খবর হয়তো অনেকেই জানেন না।
প্রতিবছরই ঈদ উল আজহার সময় প্রায় কোটি কাছে পশু কোরবানী দেয়া হয়।

এর একটি বড় অংশই গরু, মহিষ কিংবা ছাগল। এসব পশুর হাড়, লিঙ্গ, চর্বি, শিং এমনকি রক্ত, দাঁত ইত্যাদিরও রয়েছে বিশেষ চাহিদা। সারা বছর ধরে বিভিন্ন বাজার থেকে এগুলো সংগ্রহ করা হলেও, তা জমে ওঠে ঈদের এই মৌসুমটাতে।
ঢাকার হাজারিবাগ এলাকায় 'হাড্ডিপট্টি' নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে একটি স্থান। সেখানে গিয়ে দেখা গেল বস্তায় বস্তায় হাড়গোড়। সেখান থেকে শ্রমিকরা বড় বড় গামলার ভেতর বিভিন্ন হাড় তুলে সেগুলো লোহার ওজন মাপার যন্ত্রে বসিয়ে পরিমাণ বুঝে আবার বস্তাবন্দী করছেন। এরপর সেগুলো ট্রাকে ওঠানো হচ্ছে।
সেখানে কথা হচ্ছিল ভোলা মিয়ার সাথে।
প্রায় ৪৫ বছর ধরে তিনি এই ব্যবসার সাথে জড়িত। তিনি জানান, এসব হাড় ওষুধ কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হবে। তিনি নিজে কেজি দরে এগুলো কেনেন। কাঁচা হাড় কেজি প্রতি ১০ টাকা। আর শুকনো হাড় ১৮ টাকা। আর ২৩০০০ থেকে ২৪০০০ টাকায় প্রতি টন বিক্রি করেন।
তার নিজেরই হাড় গুড়ো করার কল আছে বলে জানান ভোলা মিয়া। তিনি বলেন, "গরু মহিষের কোনও অংশই ফেলনা না"।
গরু মহিষের হাড় ছাড়াও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেনা-বেচা চলে এখানে। খুচরা এবং পাইকারি দুভাবেই চলে কেনা বেচা।
কথা হচ্ছিল নেপাল বাবু নামে একজনের সাথে যিনি ভিন্ন ধর্মের হলেও লাভের কারণে প্রায় আট বছর ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন গরুর লিঙ্গ কেনাবচোর কাজটি। কোরবানীর পরদিনই তার সংগ্রহে চলে এসেছে ৩ টন। সব মিলিয়ে এখন তার সংগ্রহ ৪ টন।
প্রথমে এগুলো খুচরা পর্যায়ে সংগ্রহ করার পর তাদের কাছ থেকে চট্টগ্রামের ব্যবসায়িরা কিনে নিয়ে যান। সেখান থেকে আবার চীন, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে রপ্তানি করা হয়, জানান তিনি।
গরুর লিঙ্গ প্রতিটি পিস ৩০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন দামে কেনা-বেচা চলে। সংগ্রহের পর এগুলো রোদে শুকাতে হয় নাহলে হিমাগারে রাখতে হয়। অন্যান্য জেলা শহর থেকেও এসব আনা হয় বলে জানানা নেপাল বাবু।
কসাই নামে পরিচিত অনেকেই যারা কোরবানীর পশুর মাংস বানাতে কাজ করেন, তাদের অনেকেই বিভিন্ন বাড়ি থেকে গরুর শরীরের বিভিন্ন ফেলে দেয়া অংশ এনে এখানে বিক্রী করেন। এমনই একজন লোকমান মিয়া এই ঈদে বিভিন্ন বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা গরুর লিঙ্গ সহ আরও কিছু দ্রব্য বিক্রি করেন নেপাল বাবুর কাছে।
হাজারিবাগ এলাকার ভেতর দিকে একজন নারীকেও দেখা গেল খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে হাড়সহ গরুর শরীরের বিভিন্ন অংশ কিনছেন।
একটা সময় দেশের বাইরে গরুর শিং এর বেশ চাহিদা থাকলে এখন আর সেই চাহিদা নেই । চাহিদা বেড়েছে হাড়, গরুর লিঙ্গ ও চর্বির। চর্বি সাবান তৈরির কাজে আর রক্ত শুকিয়ে খাবার তৈরি হয় পোল্টির ফার্মের জন্য।
এই ব্যবসায়িদের একটি সমিতিও রয়েছে। তারা মনে করছেন, গরুর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে এই ব্যবসাটি কোরবানীর পশুর চামড়া ব্যবসার মত বড় না হলেও, এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে দেশের বাইরে। কিন্তু অনেকেই জানেন না বলে রপ্তানি আয়যোগ্য এসব দ্রব্যের একটা বড় অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

 


মন্তব্য