kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কালও কোরবানি দেওয়ার বিধান আছে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:৫২



কালও কোরবানি দেওয়ার বিধান আছে

ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিন আজ বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে পুরান ঢাকায় পশু কোরকানি হতে দেখা গেছে। ইসলাম ধর্মে তৃতীয় দিন পর্যন্ত কোরবানির বিধান রয়েছে।

ঈদের দিনে মুষলধারে বৃষ্টিসহ নানা কারণে যারা গতকাল কোরবানি দিতে পারেননি, তারা আজ ধর্মীয় বিধান পালন করছেন। পুরান ঢাকাসহ নগরীর অভিজাত এলাকায় যারা একাধিক পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন, তাদের অনেককে গতকালের মত আজও পশু কোরবানি দিতে দেখা গেছে।

রাজধানীর চকবাজার, বাবুবাজার, বকশীবাজার, নাজিরা বাজার, রায়সাহেব বাজার, বংশাল, ওয়ারী, টিকাটুলি, মালিবাগ ও খিলগাঁও এবং অভিজাত এলাকা গুলশান ও বারিধারাসহ অনেক এলাকায় আজ প্রচুর পশু কোরবানি দিতে দেখা গেছে।

ঈদের দিনের বাড়তি চাপ এবং কসাইয়ের সংকট থাকায় অনেকে কোরবানির জন্যে ঈদের দ্বিতীয় দিনকে বেছে নেন বলেও জানা গেছে। ইসলাম ধর্মে তৃতীয় দিন পর্যন্ত কোরবানির বিধান রয়েছে।

বাবুবাজারের বাসিন্দা সবুর ব্যাপারী জানান, তাদের বংশের রীতি এটা। বাপ-দাদারা ঈদের পরের দিন কোরবানি দিতেন, তারাও সেই রেওয়াজ ধরে রেখেছেন। তিনি বলেন, আমরা ঢাকাইয়া। ঢাকার রেওয়াজ অনুযায়ী ঈদের পরের দিন বোন, বোনজামাই ও ভাগনা-ভাগনে নানা-মামার বাড়ি আসেন। সব ভাই-বোন একত্রিত হই। তাই ঈদের দ্বিতীয় দিনই কোরবানি দিয়ে থাকি।

পুরান ঢাকার মতো এখন নতুন ঢাকাতেও অনেকে এ রীতি অনুসরণ করছেন। গুলশান, বারিধারার অনেক বাড়িতে কোরবানী হয়েছে আজ। বারিধারা ৮ নম্বর রোডের একটি ফ্ল্যাটের গ্যারেজে কসাইদের কোরবানির মাংস কাটতে দেখা গেল। জুয়েল হাজারী নামে কক্সবাজারের এক ব্যবসায়ী থাকেন এ বাড়িতে। তিনিই আজ কোরবানি দিচ্ছেন। ব্যবসায়ী হাজারী জানান, ঈদের দিন কসাইদের চাপ থাকায় আজ ঈদের পরের দিন তিনি স্বচ্ছন্দে কোরবানি দিচ্ছেন।

অধিকাংশ মাংসই বিলিয়ে দেবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের ডুলাহাজারা। প্রতিবছর সেখানে কোরবানি দেন। তবে ব্যবসার কারণে তাকে ঢাকায়ও একটি পশু কোরবানী দিতে হয়। এ পশুর অধিকাংশ মাংস তার অফিস কর্মচারীদের মধ্যে বিতরণ করে দেবেন বলে জানান।

মাদারটেক সরকারপাড়া মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, মুসলিম ধর্মীয় নিয়মানুযায়ী ঈদের দিন থেকে মোট তিন দিন কোরবানি দেওয়ার বিধান রয়েছে। সে হিসেবে মুসলিমরা আগামীকাল বৃহস্পতিবারও পশু কোরবানি দিতে পারবেন। তিনি বলেন, ইসলাম ধর্ম হচ্ছে এমন এক পরিপূর্ণ জীবন বিধান, এর কোনো কিছুতেই তেমন কোনো বাড়াবাড়ি নেই।

ইমাম বলেন, মানুষের অনেক সমস্যা থাকতে পারে। যেমন- হঠাৎ করে কোনো ব্যক্তি বা তার পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকতে পারেন। সে ক্ষেত্রে একদিনের মধ্যেই যদি কোরবানির বিধান সীমাবদ্ধ থাকতো, তাহলে ওই ব্যক্তি বা পরিবারের পক্ষে কোবরানি দেওয়া সম্ভব হতো না।


মন্তব্য