kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জয়পুরহাটে চামড়ার বাজারে ধ্বস

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:২০



জয়পুরহাটে চামড়ার বাজারে ধ্বস

জয়পুরহাটে এবার চামড়ার বাজারে ধ্বস নেমেছে। বাজারে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে গরুর চামড়া,আর ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।

গ্রামে-গঞ্জে বেশি মূল্যে চামড়া কিনে হাজার হাজার টাকা লোকসানে পড়েছে এবার মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের দাবি আর্ন্তজাতিক বাজারে দাম কমে যাওয়ার পাশাপাশি লবণের মূল্য বেশি এবং ট্যানারি মালিকরা বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় কমে গেছে চামড়ার দাম।
প্রতি বছর কোরবানি ঈদে চামড়ার দাম বেশি হলেও এবার দাম অনেক কমে গেছে। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা গ্রামে-গঞ্জে চামড়া কিনে এবার হাজার হাজার টাকা লোকসানে পড়েছে। হাজার থেকে দেড় হাজার টাকার গরুর চামড়া এবার বিক্রি হচ্ছে ছয় থেকে সাত’শ টাকায়। আর দেড়-দু’শ টাকার ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। হঠাৎ করেই চামড়ার মূল্য কম হওয়ায় হতাশ সাধারণ বিক্রেতারাও। জয়পুরহাট শহর ছাড়াও জেলার বিভিন্ন অস্থায়ী চামড়ার বাজার ঘুরে তথ্য জানা গেছে।
মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে শহরের আমতলী মোড়, জামালগঞ্জ মোড়,কেন্দ্রীয় মসজিদ চত্বর সহ জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে চোখে পড়েছে চামড়া কেনার দৃশ্য। স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা গরুর চামড়া ছোট বড় দেখে দাম করছেন চার’শ থেকে সর্বোচ্চ হাজার টাকা। আর ছাগলের চামড়া কিনছেন ৩৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭০ টাকায়। জেলার সব বাজারেই চামড়ার দরপতনে বাধ্য হয়ে সাধারণ চামড়া বিক্রেতা ছাড়াও মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা অনেকটা বাধ্য হয়ে চামড়া বিক্রি করছেন। এ নিয়ে সাধারণ বিক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভও দেখা গেছে।
জয়পুরহাট শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদ চত্বরে চামড়া বিক্রি করতে আসা জয়পুরহাট সদর উপজেলার মঙ্গলবাড়ির মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী জাকারিয়া হোসেন জানান, গ্রামে-গঞ্জে এক হাজার ৪০০ টাকা দিয়ে তিনি আটটি গরুর চামড়া কিনেছিলেন। কিন্তু বাজারে সেগুলো দাম করছে সাড়ে সাত’শ থেকে আট’শ টাকা। বাধ্য হয়ে লোকসান দিয়ে সেগুলো বিক্রি করতে হয়েছে। সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মৌসুমী চাড়মা ব্যবসায়ী এমরান হোসেন জানান, এক হাজার তিনশত টাকা করে ৩৮টি গরুর চামড়া তিনি বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে কিনেছিলেন। কিন্তু বাজারে সেগুলো বিক্রি করে তার লোকসান হয়েছে ১৭ হাজার টাকা। একই অবস্থা জেলার অন্যান্য বাজারগুলোরও।
ক্ষেতলাল উপজেলার শাখারুঞ্জ গ্রামের আব্দুস সবুর জানান, দশ হাজার টাকার একটি ছাগল কোরবানি দিয়ে সেই চামড়া ইটাখোলাহাটে তিনি বিক্রি করেছেন মাত্র ৪০ টাকায়। তিনি বলেন,চামড়ার দাম যে এত কম হবে তা কখনও কল্পনা করিনি। সদর উপজেলার ভিটি গ্রামের বাবলু মিয়া বলেন, স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে চামড়া কেনায় বাজারে দাম কমে গেছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন,কোরবানির চামড়া বিক্রির সব টাকায় গরীব ও দুস্থরা পায়। অথচ সেই কোরবানির চামড়ার আর দাম নেই।
জয়পুরহাট শহরের স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী ছাইদুল ইসলাম জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে যাওয়ার পাশাপাশি লবণের দাম বেশি ও ট্যানারি মালিকরা তাদের বকেয়া পরিশোধ না করায় বেশির ভাগ ব্যবসায়ী চামড়া কেনা থেকে বিরত থাকায় বাজারে এবার চামড়ার দাম কমে গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে বাঁকি থাকায় অনেক চামড়া ব্যবসায়ী এবার হাত গুটিয়ে আছেন। বর্তমানে যারা কিনছেন তারা চামড়া ভারতে পাচার উদ্দেশ্যেই কিনছেন। তারা না কিনলে চামড়ার দাম আরো কমে যেত।
জয়পুরহাট পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন,এবার জেলার প্রতিটি চামড়া ব্যবসায়ী তাদের নজরদারিতে রয়েছে। কে কোথায় কি পরিমাণ চামড়া কিনবে তা জানার জন্য এবং পাচার রোধে সীমান্তের প্রতিটি এলাকায় তাদের সোর্স রয়েছে। যারা প্রতি মুহুর্ত বিষয়টি দেখভাল করছেন। কাজেই এবার কোরবানি ঈদে চামড়া পাচার হওয়ার কোন আশঙ্কা নেই বলে তিনি দাবি করেন।


মন্তব্য