kalerkantho


বৃষ্টির মধ্যেও রাজধানীতে ৪ শতাধিক ঈদ জামাত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:৫৪



বৃষ্টির মধ্যেও রাজধানীতে ৪ শতাধিক ঈদ জামাত

ফাইল ছবি

বৃষ্টির মধ্যদিয়ে আজ মঙ্গলবার মহানগরীর বাসিন্দারা ঈদুল আযহা উদযাপন করছেন। টানা বর্ষণের মাঝেই মুসল্লিরা যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায় করেন।


মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় দ্বিতীয় বৃহত্তম এ উৎসবে রাজধানীর মুসুল্লিরা যাতে নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারেন, সে লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন ঈদগাহ, খেলার মাঠ ও মসজিদে ৪ শতাধিক ঈদ জামাত আদায়ের সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে নগরীর বিভিন্ন ঈদগাহ, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থানে নামাজ আদায় আর সম্ভব হয়নি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে জাতীয় ঈদগাহের নামাজ ঠিকভাবে সম্পন্ন হলেও নগরীর বিভিন্ন স্থানে দুই সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত অধিকাংশ জামাতই বৃষ্টির কারণে হতে না পারায় ওইসব স্থানের ঈদ জামাত মসজিদগুলোতে সরিয়ে নেয়া হয়। এতে নগরীর অধিকাংশ মসজিদে একাধিক ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়।
জাতীয় ঈদগাহসহ রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৪ শতাধিক ঈদ জামাতের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ঈদুল আযহার ২২৮টি এবং উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১৮০টি ঈদ জামাতের আয়োজন করেছিল।
সকাল ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় ঈদগাহে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দেশের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে সেখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
মন্ত্রিসভার সদস্যগণ, সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিগণ, সংসদ সদস্যগণ, সিনিয়র রাজনৈতিক নেতৃবর্গ ও উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাগণও সেখানে নামাজ আদায় করেন।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান জামাতে ইমামতি করেন। নামাজে দেশের শান্তি ও অগ্রগতি এবং জগণের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
নামাজ শেষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মুসল্লিদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন জাতীয় ঈদগাহের এ ঈদ জামাতের ব্যবস্থা করে।
আইন-শৃংখলা বাহিনী ঈদগাহ এলাকা ঘিরে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। রাষ্ট্রপতি ঈদগাহে আসার পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন তাকে স্বাগত জানান।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত ঈদের এ প্রধান জামাতে মহিলা ও বিদেশী কূটনীতিকদের নামাজ আদায়ে বিশেষ ব্যবস্থা ছিল। মুসল্লিদের জন্য খাবার পানি ও মোবাইল টয়লেটেরও ব্যবস্থা ছিল।
জাতীয় ঈদগাহে সুষ্ঠুভাবে ঈদ জামাত অনুষ্ঠানে নেয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঈদগাহে সকল প্রবেশ পথ এবং ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের নামাজের স্থানসহ ঈদগাহ মাঠের প্যান্ডেলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।  
প্রধান এ জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাদা পোশাকে র‌্যাব এবং পুলিশ সদস্যরা ঈদগাহ ময়দানে সার্বক্ষণিক তৎপর ছিলেন।  
রাজধানীর দ্বিতীয় বৃহত্তর জামাত অনুষ্ঠিত হয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল সাতটায়। বায়তুল মোকাররম মসজিদে প্রতি এক ঘন্টা অন্তর একটি করে মোট ৫টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। শেষ জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল পৌনে ১১টায়।
প্রথম জামাতে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, দ্বিতীয় জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস মাওলানা ওয়ালীয়ুর রহমান খান, তৃতীয় জামাতে মহাখালী হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা নজরুল ইসলাম আল মা‘রূফ, চতুর্থ জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতী মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক হাফেজ মাওলানা মো. মোস্তাফিজুর রহমান ইমামতি করেন।
সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ঈদুল আযহার নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে মুসল্লীদের সুবিধার্থে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যাপ্ত পানি ও নিñিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।  
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উদ্যোগে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার সাধারণ মানুষ নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে সেখানেও দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ, মসজিদুল জামিআয় ঈদের দু’টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাত সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয়টি সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাতে ইমামতি করেন কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম খতীব হাফেজ নাজীর মাহমুদ এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন হাফেজ উসায়দ আহমাদ।
কেন্দ্রীয় মসজিদ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল মেইন গেইট সংলগ্ন মাঠ এবং শহীদুল্লাহ হল লনে সকাল ৮টায় ঈদুল আজহার পৃথক আরো দু’টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ধানমন্ডি সোবহানবাগ জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদুল আযহার একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদুল আজহার জামাত হয় সকাল সাড়ে ৭টায়। কলাবাগান বশিরউদ্দীন রোড জামে মসজিদে সকাল আটটায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
উত্তর-পূর্ব মুগদা মদিনাবাগ কেন্দ্রীয় শাহি জামে মসজিদে সকাল সাড়ে সাতটায় ও রসুলবাগ জামে মসজিদ দক্ষিণ মুগদা ব্যাংক কলোনিতে সকাল সাতটায় ও আটটায় জামাত হয়।
টিকাটুলি ফকিরবানু আল ফালাহ জামে মসজিদে সকাল সাড়ে সাতটায় ও পল্লীমা সংসদ ময়দানে সকাল সাড়ে সাতটায় ঈদের জামাত হয়। কাজীপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল সাড়ে সাতটায়, সকাল সাড়ে আটটায় ও সকাল সোয়া নয়টায় তিনটি জামাত হয়। পশ্চিম আগারগাঁওয়ের দারুল ঈমান জামে মসজিদে সকাল সাড়ে সাতটায় ও একই সময়ে পল্ল¬বী ৬ নম্বর সেকশন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, নয়াপল্টন জামে মসজিদ, সায়েদাবাদে চিশতিয়া সাইদিয়া দরবার শরিফ জামে মসজিদ, গেন্ডারিয়া ধূপখোলা মাঠসংলগ্ন গেন্ডারিয়া কমিউনিটি সেন্টারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়৷
নীলক্ষেতের মরিয়ম বিবি শাহি মসজিদে সকাল ৮টায় ও ১০টায় পৃথক দুটি জামাত হয়। কামরাঙ্গীরচর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল সাতটায় ও সাড়ে আটটায় দুটি জামাত হয়৷ ফার্মগেটের মসজিদ বায়তুশ শরফে সকাল আটটায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
কারওয়ান বাজারের আম্বর শাহ শাহি মসজিদে সকাল সাড়ে সাতটায়, মগবাজার বিটিসিএল কলোনি জামে মসজিদে সকাল আটটায়, খিলক্ষেত কুর্মিটোলা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ঈদগাহে সকাল সাতটায় ও পৌনে আটটায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ধানমন্ডি ঈদগাহ জামে মসজিদে সকাল আটটায়, দারুস সালামের মীরবাড়ী আদি (মাদবরবাড়ি) জামে মসজিদে সকাল সাতটায়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে সকাল পৌনে সাতটায় জামাত হয়।


মন্তব্য