kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বর্ষণেও নগরীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:১৮



বর্ষণেও নগরীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে

ছবি-আতাউর রহমান কাবুল

ত্যাগের মহিমা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকার মুসলিম সম্প্রদায় ঈদের নামাজ আদায় ও পশু কোরবানির মাধ্যমে তাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপন করছে। আজ টানা বর্ষণে জীবনযাত্রায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।

গতকাল সোমবার রাতে এবং আজ মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মুষলধারে এবং এরপর অনবরত ঝিরঝির বৃষ্টি অব্যাহত থাকে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে মহানগরীর মুসল্লিদের নামাজ আদায় ও পশু কোরবানি দিতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন ঈদগাহ, খোলামাঠ ও উন্মুক্ত স্থানে দুই সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে যে ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছিল তার অধিকাংশ স্থানেই নামাজ আদায় করা সম্ভব হয়নি। ফলে নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার মসজিদে একাধিক ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়।

টানা বৃষ্টিতে নামাজ আদায়ের পর পশু কোরবানি ও তার ব্যবস্থাপনা নিয়েও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে মহানগরীর পাড়া-মহল্লার বাসিন্দাদের। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থান ছাড়া যারা নিজ বাড়ির এলাকা বা মহল্লায় কোরবানি দিচ্ছেন তাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে নগরবাসী নাকাল হয়ে পড়েছেন কোরবানির পশু নিয়ে। পথে ঘাটে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হচ্ছে। তবে ঢাকায় দুপুরের পর বৃষ্টি কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও আবহাওয়া অফিস জানায়।

বৃষ্টির মধ্যেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা নিজ বাড়ির সামনের খোলা রাস্তায় পশু কোরবানি দিচ্ছেন। অনেকেই আবার ত্রিপল বা পলিথিন টাঙিয়ে পশু জবাই করছেন। বৃষ্টির জন্য অনেকে নামাজের পরপর পশু জবাই থেকে বিরত থেকেছেন।

ঢাকায় আজ ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দেশের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে সেখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

মন্ত্রিসভার সদস্যগণ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণ, সংসদ সদস্যগণ, সিনিয়র রাজনৈতিক নেতৃবর্গ ও উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাগণ এখানে নামাজ আদায় করেন।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান জামাতে ইমামতি করেন। নামাজে দেশের শান্তি ও অগ্রগতি এবং জগণের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

নামাজ শেষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মুসল্লিদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জাতীয় ঈদগাহের এ ঈদ জামাতের ব্যবস্থা করে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঈদগাহ এলাকা ঘিরে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। রাষ্ট্রপতি ঈদগাহে আসার পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন তাকে স্বাগত জানান।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত ঈদের এ প্রধান জামাতে মহিলা ও বিদেশি কূটনীতিকদের নামাজ আদায়ে বিশেষ ব্যবস্থা ছিল। মুসল্লিদের জন্য খাবার পানি ও মোবাইল টয়লেটেরও ব্যবস্থা ছিল।

জাতীয় ঈদগাহে সুষ্ঠুভাবে ঈদ জামাত অনুষ্ঠানে নেয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঈদগাহে সকল প্রবেশ পথ এবং ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের নামাজের স্থানসহ ঈদগাহ মাঠের গোটা প্যান্ডেলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।

প্রধান এ জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাদা পোশাকে র‌্যাব এবং পুলিশ সদস্যরা ঈদগাহ ময়দানে সার্বক্ষণিক তৎপর ছিলেন।

 


মন্তব্য