kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


টাম্পাকোর ধ্বংসস্তূপে আরও ২ মরদেহ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০৯:১৪



টাম্পাকোর ধ্বংসস্তূপে আরও ২ মরদেহ

গাজীপুরের টঙ্গীর প্যাকেজিং কারখানা টাম্পাকো ফয়েলসের ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। আজ সোমবার ভোরে অগ্নিকাণ্ডের দুই দিন পর ঘটনাস্থল থেকে এই দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে রবিবার আরও চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। এ নিয়ে আগুনের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৩১। এ ছাড়া গতকাল রবিবার পর্যন্ত ১০ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, ধসে পড়া ভবনের ভেতরে তাঁরা সাত-আটটি দেহাবশেষ দেখেছেন, যেগুলো এখনও উদ্ধার করা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের টেলিফোন অপারেটর মো. সোহাগ বিয়ষটি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার ভোর ৬টার দিকে টঙ্গীর বিসিক শিল্পনগরীর টাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর ভবন ধসে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। প্রথম দিন ২৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। আহত হন অর্ধশতাধিক। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে কারখানার ভেতরে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। ততক্ষণে কারখানা কমপ্লেক্সের চারটি ভবনের তিনটিই পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। পাঁচতলা ভবনটির একেকটি তলা আরেকটির ওপর ধসে পড়েছে। গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আজ সোমবার সকাল থেকে সেনাবাহিনী উদ্ধার কাজে নামবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড কারখানাটিতে পদে পদে ছিল অব্যবস্থাপনা, এর সূত্র ধরে দিন দিন বেড়েছে ঝুঁকির মাত্রা। কিন্তু পরোয়া করেনি কর্তৃপক্ষ। ফয়েল প্যাক তৈরির এ কারখানায় প্রতিটি পর্যায়ে যেসব উপাদান ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হতো সেগুলো ছিল অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ। অথচ এমন একটি কারখানায় ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থাই ছিল না। গ্যাস চেম্বার ও বয়লার স্থাপন করা হয়েছিল পরিকল্পনাহীনভাবে। দাহ্য পদার্থ থেকে আগুন লাগলে তা নেভানোর কোনো ব্যবস্থাও ছিল না। অগ্নিকাণ্ডের মহড়াও হয়নি কখনও। অনুমতি ছিল চারতলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণের, তা উপেক্ষা করে টঙ্গীর বিসিক শিল্পনগরীর এ কারখানায় একটি ছয়তলা ও একটি পাঁচতলা ভবন বানানো হয়েছিল।

গতকাল বিকেলেও থেমে থেমে আগুন জ্বলেছে : সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গতকাল ভোর থেকে পাঁচতলা ভবনের আগুন কমে যায়। সকাল ১১টার পর ধোঁয়া দেখা গেলেও আগুন আর দেখা যাচ্ছিল না। কিন্তু দুপুর ২টা থেকে তিনতলার কিছু অংশ ও পাঁচতলার (ধসে না পড়া অংশ) কিছু জায়গায় ছোট ছোট আগুনের শিখা দেখা যায়। গতকাল সকালে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, শনিবার সারা দিন চেষ্টার পর গভীর রাতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এরপর গতকাল বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) মোশারফ হুসেইন বলেন, আগুন নির্বাপণ করা গেছে। আমরা ডিফেন্সিভ ওয়েতে কাজ করছি। ফলে আগুন নেভাতে সময় লেগেছে। এখন ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। তবে গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনতলার ধসে পড়া অংশে আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেছে। সন্ধ্যা ৬টার পর অবশ্য আর আগুন দেখা যায়নি।

 


মন্তব্য